Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

এতো বিদ্যুৎ কোথায় যায় প্রশ্ন আলালের

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩০ আগস্ট, ২০১৯, ৩:২৫ পিএম

চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করার পরও সারাদেশে লোডশেডিং কেন সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, কথায় কথায় বড় গলায় এই অবৈধ সরকার বলে বিদ্যুৎ নাকি ঘরে ঘরে তারা পৌঁছে দিয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলছে, বাংলাদেশে বর্তমানে দিন এবং রাত মিলে মোট বিদ্যুতের চাহিদা হচ্ছে ৮৫০০ শত মেগাওয়াট থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। অথচ বর্তমানে যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো রয়েছে সেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা হচ্ছে ১৮০০০ হাজার ৯৬১ মেগাওয়াট অর্থাৎ প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে- তারপরেও ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় কেন লোডশেডিং হচ্ছে? গ্রামগুলোতে কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না? এই বিদ্যুৎগুলো কোথায় যায়? মিথ্যা প্রচারণা এবং প্রতারণার মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে সরকার।’
শুক্রবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম নামক একটি সংগঠনের আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘বিনা ভোটে এবং নির্ধারিত দিনের আগে দান-দক্ষিণার মাধ্যমে ভিক্ষা নিয়ে জোর করে সরকার ভিক্ষুকের মতো প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে প্রশাসনের হাতে-পায়ে ধরে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। এতে বাংলাদেশের মানুষের কোনও উপকার হয় না। সাধারণ মানুষ যে বঞ্চনা অধিকারহারা সে অবস্থার মধ্যেই এখনও রয়েছে।
আলাল বলেন, ‘ডেঙ্গু বলেন, ধর্ষণ বলেন, মানবাধিকার বলেন- সর্বত্র সরকারের অপকর্ম। আজকে আন্তর্জাতিক গুম দিবস। এই ৩০ আগস্ট সারা পৃথিবীজুড়ে জাতিসংঘ স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক গুম দিবস পালন করা হয়। এই সরকার এক মাস ধরে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের শোক দিবস পালন করে। সেই শোক দিবসে আবার মঞ্চের মধ্যে গান বাজনা হয়, নাচানাচি হয়, আনন্দ-ফুর্তি হয়, খিচুড়ি নিয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগের মধ্যে মারামারি কোপাকুপিও হয়। এই হচ্ছে তাদের শোক দিবস পালনের নমুনা। আমাদের কথা হচ্ছে, শোক দিবস এক মাসব্যাপী পালন করেন, আপনারা হাত ধোয়া দিবস পালন করেন, ডিম দিবস দিবস পালন করেন, আপনারা হাসাহাসি দিবস পালন করেন, কান্নাকাটি দিবস পালন করেন- আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু বাংলাদেশের গুম হয়ে যাওয়া শত শত মায়ের সন্তানদেরকে ফিরিয়ে দেন, শত শত পিতৃহারা মাতৃহারাদেরকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দিন। তাহলে আন্তর্জাতিক গুম দিবস পালন করার দাবি আমরা আপনাদের কাছে করবো না।
তিনি আরও বলেন, ‘এসব কিছুর বিরুদ্ধে একমাত্র প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর জনগণের একমাত্র আশ্রয়স্থল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। যাঁর জীবনের রাজনৈতিক উত্থান সম্পর্কে বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষই জানেন। আজকে প্রায় দু’বছর ধরে এমনভাবে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে যেখানে বিচারব্যবস্থাকে ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে প্রশাসনকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। মানুষের দোয়া এবং মোনাজাত ছাড়া এখন সাধারণ মানুষের আর কিছু করার নেই। সরকার খোঁজখবর রাখে না, রাখতে চায় না।’
সংগঠনের সহ-সভাপতি হাজী মোজাম্মেল হক মিন্টু সওদাগারের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ফরীদ উদ্দিন আহমেদ, কৃষকদল নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট, রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এইচ এম তৌহিদ এলাহী কবির ও মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রমুখ বক্তব্য দেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিদ্যুৎ

১৬ নভেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন