Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

এরশাদের কবরে রওশনের কান্না

চেহলামে সারাদেশে দোয়া মাহফিল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:০৩ এএম, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সাবেক প্রেসিডেন্ট মরহুম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চেহলাম গতকাল সারাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবচেয়ে বড় আয়োজন ছিল রংপুরে। জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ হেলিকপ্টার ভাড়া করে ৬৭ জন নেতাকর্মীকে নিয়ে ঢাকা থেকে রংপুর গিয়ে স্বামীর চেহলামে অংশ নেন। রওশনের হেলিকপ্টার ভাড়া করে রংপুরে যাওয়া নিয়ে বিতর্কের ঝড় বইছে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন যে টাকায় হেলিকপ্টার ভাড়া করা হয়েছে সে টাকা হলে আরো অনেক লোককে খাওয়ানো যেত। রংপুরে এরশাদের কবরের পাশে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে দেখে অনেকেই প্রশ্ন ছুঁড়েছেন স্বামীর প্রতি এত দরদ থাকলে ২০ বছর আলাদা থাকলেন কেন? নাকি ছেলে সাদকে দলীয় নমিনেশন নিশ্চিত করতেই রংপুরের মানুষের সামনে রওশনের এমন কান্না?

এরশাদের মৃত্যুর ৪০ দিন পর ২৩ আগস্ট তার চেহলাম করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু সে দিনই জন্মাষ্টমী থাকায় তারিখ পরিবর্তন করে ৩১ আগস্ট করা হয়। চেহলাম উপলক্ষে রংপুর এবং রাজধানীজুড়ে দুস্থদের খাওয়ানোর আয়োজন করা হয়। এরশাদের চেহলামে রংপুর শহরের ১৬টি স্থানে মানুষকে খাওয়ানোর আয়োজন করা হয়। তার মধ্যে এরশাদের বাসভবন পল্লীনিবাসে দোয়া মাহফিল ও চেহলামে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধী দলের উপ নেতা রওশন এরশাদ। সঙ্গে পুত্র রাহগির সাদ ছাড়াও দলের অন্যান্য নেতা এবং রংপুর-৩ আসনের মনোনয়ন প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। রংপুরের দলীয় নেতারা বলছেন, পুত্র সাদকে রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে প্রার্থী করতে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এরশাদের চেহলামে রওশন এরশাদ হেলিকপ্টার ভাড়া করে রংপুর এসেছেন।

এদিকে জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ দিনব্যাপী ঢাকা মহানগরের ৫২টি থানায় এবং পার্টির বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনসমূহ রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে দুস্থ এবং সাধারণ মানুষের জন্য খাওয়ার আয়োজন করে। এসব অনুষ্ঠানের সিংহভাগই স্থানে পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের নিজে গরিবদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করেন।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকার উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে গরিবের মাঝে খাবার বিতরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন জিএম কাদের। এরপর তিনি গুলশান, উত্তর খান, তেজগাঁও, কাওরান বাজার, মোহাম্মদপুরসহ মহানগরের উত্তরের বিভিন্ন থানায় খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং বক্তৃতা দেন। দুপুর দেড়টার সময় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জিএম কাদের। এসময় সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, জিয়াউদ্দিন বাবলু, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, জহিরুল আলম রুবেল, হাসিবুল ইসলাম জয়, মনিরুল ইসলাম মিলন প্রমুখ।
এসময় জিএম কাদের তার বক্তব্যে বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আজীবন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজ করেছেন। দেশ ও মানুষের অধিকারের প্রশ্নে কখনো আপোষ করেননি এরশাদ। তিনি বলেন, রাজনীতির চার ভাগের একভাগ সময়ে দেশ পরিচালনা করে উন্নয়নের অসামান্য র্কীতি গড়েছেন তিনি। আর বিরোধী দলীয় নেতা বা বিরোধী দলের সারিতে থেকেও গণমানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মূলত এরশাদ ছিলেন এদেশের মানুষের মনের রাজা। তিনি দেশবাসীর অন্তর জয় করে অকৃত্রিম ভালোবাসা নিয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সব সময় দেশের মানুষের মনের ভাষা বুঝতেন। দেশের মানুষের মতামতের ওপর শ্রদ্ধা রেখেই তিনি দেশ পরিচালনা করছেন।

এরপর মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন থানায় অনুষ্ঠিত চেহলামে অংশ নিতে নেতাকর্মীদের বহর নিয়ে রওনা হন। সেখান থেকে তিনি শাহজাহানপুর, কমলাপুর, টিকাটুলী, গেন্ডারিয়াসহ বিভিন্ন থানা হয়ে শ্যামপুর-কদমতলীতে যান। সেখানে স্থানীয় এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার আয়োজনে মুরাদপুর, মীরহাজীরবাগ, মুন্সিবাড়ী, জুরাইন, ঢাকা ম্যাচ, মোহাম্মদবাগ ও শ্যামপুর বালুর মাঠে দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন। সেখান থেকে তিনি ঢাকা-৬ নির্বাচনী এলাকায় যান। সেখানে কাজী ফিরোজ রশীদের আয়োজনে গেন্ডারিয়া, ওয়ারী, কোতায়ালী ও সূত্রাপুরে খাবার বিতরণ করেন।

দিনব্যাপী এসব অনুষ্ঠানে জিএম কাদেরের সাথে উপস্থিত ছিলেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, হাজী সাইফুদ্দিন মিলন, এসএম মান্নান, জহিরুল আলম রুবেল, হাসিবুল ইসলাম জয়, মনিরুল ইসলাম মিলনসহ পার্টির সিনিয়র নেতারা।

রংপুরে ডুকরে কাঁদলেন রওশন
এরশাদের চেহলামে অংশ নিতে গতকাল বিরোধী দলীয় উপ নেতা রওশন এরশাদ বেলা আড়াইটায় হেলিকপ্টার ভাড়া করে রংপুর যান। তিনি এরশাদের কবর জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাত করেন। এরপর তিনি এরশাদের স্মৃতি বিজরিত পল্লীনিবাসে যান। এরশাদের মৃত্যুর পর প্রথম তিনি রংপুর যান। এর আগে সকাল থেকে পল্লীনিবাসে চলতে থাকে কোরআন তেলাওয়াত ও চেহলামের তবারক রান্নার কাজ। বাদ জোহর দোয়া মাহফিলের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য রংপুর মহানগর সভাপতি ও সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর জেলা সভাপতি এসএম ফখর উজ-জামান জাহাঙ্গীর, নারায়গঞ্জের সেলিম ওসমান এমপি, লিয়াতক হোসেন খোকা এমপি।

রওশন এরশাদ স্বামীর কবরের পাশে গিয়েই আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ‘ওনাকে ওঠাও। ওনি মাটিতে শুয়ে আছো কেন। ওনাকে মাটি থেকে উঠাও। মাটি থেকে তোলো। আমি ওনার পাশে শুয়ে থাকতে চাই, ওনি যদি না আসে তাহলে আমাকেও ওনার পায়ে শুয়ে রাখো।’ এসব কথা বলতে বলতে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে থাকেন বেগম রওশন এরশাদ এমপি। কাঁদতে থাকা রওশন এরশাদকে পাশে থাকা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা সান্ত¦না দিতে গিয়ে নিজেও কেঁদে উঠেন।

গতকাল শনিবার বেলা আড়াইটায় জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারতের সময় এই দৃশ্য দেখে নীরবে কান্নার পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো অনেকের চোখ থেকে। তবে কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন এরশাদকে এতো ভালোবাসলে ২০ বছর আলাদা থাকলেন কেন? কেন ২০১৪ সালে স্বামী এরশাদকে ল্যাং মেরে নিজে বিরোধী দলের নেতা হলেন? রংপুর জাতীয় পার্টি মরহুম এরশাদের চেহলাম উপলক্ষে পল্লী নিবাসসহ নগরী এবং সদর উপজেলার ১৯টি পয়েন্টে দোয়া মাহফিল ও খাবার বিতরণের আয়োজন করে।
উল্লেখ, প্রায় ২০ বছর থেকে রওশন এরশাদ আলাদা বসবাস করেন। এরশাদ থাকতেন বারিধারার দূতাবাস রোডের প্রেসিডেন্ট পার্কে। আর রওশন এরশাদ বসবাস করতেন গুলশানে। এরশাদ বহুবার অস্স্থু হয়ে দেশ-বিদেশে চিকিৎসা করালেও রওশন একবারও স্বামী এরশাদকে দেখতে প্রেসিডেন্ট পার্কে যাননি। এক পর্যায়ে একা থাকার কারণে রাতে ভয় পেলে এরশাদ সিএমএইচে চলে যেতেন। তবে এরশাদের মৃত্যুর দুদিন আগে রওশন এরশাদ হাসপাতালে চিকিৎসারত স্বামী এরশাদকে প্রথম দেখতে যান।



 

Show all comments
  • Yourchoice51 ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৯:২৬ এএম says : 0
    কান্নার নাটকটা তো ভালোই ছিল মনে হচ্ছে ।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: এরশাদ

১০ অক্টোবর, ২০১৯
৩১ আগস্ট, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ