Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৬ কার্তিক ১৪২৬, ২২ সফর ১৪৪১ হিজরী

পদ্মা নদীতে পনি কমার সাথে সাথে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে

গোদাগাড়ী (রাজশাহী)সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪:৫৭ পিএম

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পানি কমার সাথে সাথে ভাঙ্গনের কবলে পদ্মা ও মহানন্দা নদী তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে নদী পাড়ের মানুষ। গোদাগাড়ী পৌর এলাকার সুলতানগঞ্জ ও গাঙ্গোবাড়ী হাটপাড়া, সারাংপুর, এলাকায় নদীতে পানি কমার সঙ্গে ভাঙ্গছে নদীর পাড়। আর তীব্র ভাঙ্গন দিশেহারা হয়ে পড়েছে মানুষ। এসব এলাকায় শত শত বাড়িঘর, হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি, কয়েক লাখ ফলজ ও বনজ গাছসহ মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাকা সড়ক ভাঙ্গনে নদীগর্ভে বিলীন আশংকা দেখা দিয়েছে।

ভাঙ্গন কবলিত এলাকার লোকজন জানান, ২০০১ সালের দিকে নদী ভাঙ্গন থেকে গোদাগাড়ীকে রক্ষা করতে উপজেলার রাজাবাড়ী হাট থেকে বালিয়াঘাট্টা পর্যন্ত নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের জন্য ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে সরকার। নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারায় ২০০৯ সালের দিকে ৮০ কোটি টাকা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ফেরত চলে যায়। নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের নীচের ব্লক ও ইট সরে যাওয়ার কারণে বাঁধের উপরে ফাটল দেখা দেয়। বাঁধের অনেক অংশে ব্লক ও ইটপাথর ভেঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে সুলতানগঞ্জ, সারাংপুর ও হাটপাড়া, এলাকায় প্রতিবছর নদীর তীরে ভাঙ্গন দেখা দিচ্ছে। নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ সংস্কার ও নতুন করে হাটপাড়া, সারাংপুর, গাঙ্গোবাড়ী, সুলতানগঞ্জ এলাকায় বাঁধ নির্মাণের জন্য ৮০ কোটি টাকা ফেরত আনার দাবি জানান এলাকার মানুষ।

এ প্রসঙ্গে এলাকার সচেতন মানুষ ফেরত যাওয়া ৮০ কোটি টাকা দিয়েই এসব এলাকায় নতুন করে বাঁধ নির্মাণ ও বাঁধের সংস্কার করা গেলে নদীর তীরে ভাঙ্গন দেখা দিত না। জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ না করা হলে চলতি বর্ষা মৌসুমেই গোদাগাড়ী পৌরসভার ৪টি এলাকার শত শত বাড়িঘর, রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ মূল্যবান গাছ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সুলতানগঞ্জ কাচারী পাড়ার বাসিন্দা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া খাতুন মিলি বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে এই গ্রাম তিনটিতে মানুষ নদী ভাঙন প্রতিরোধের জন্য নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের দাবি জানিয়ে আসছে। গতবছর বর্ষা মৌসুমে ভাঙন বেশি দেখা দেয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের লোকজন পরিদর্শনে এসে নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু আজো পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সুলতানগঞ্জ, কাচারীপাড়া সারাংপুর নতুন পাড়া জরুরিভিত্তিতে নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ করা না হলে এই তিনটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম বলেন, আপাতত আমাদের কাছে কোন ধরনের বরাদ্দ নেই। তবে স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা সরকারের কাছ থেকে বিশেষ বরাদ্দ ছাড় করতে পারলেই জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রাজশাহী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ