Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার , ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কর ৫ শতাংশ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৮:৫৬ পিএম

সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করলে ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর আদায়ের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত ২৫ মে স্বাক্ষর করা প্রজ্ঞাপনটি শনিবার (৩১ আগস্ট) জারি করেছে সংস্থাটি।

এর আগে এ বিষয়ে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছিলেন, এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি জারি করতে দেরি হচ্ছে। তবে এটি যখনই জারি করা হোক না কেন চলতি বছরের জুলাই থেকে এটি কার্যকর হবে। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কথা মাথায় রেখে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা বা সুদের ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর নেয়া হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ধারা ৪৪(৪) এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার সকল প্রকার সঞ্চয়পত্রে ক্রয়কাল, পুঞ্জিভূত বিনিয়োগের পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম না করিলে এরূপ বিনিয়োগ হতে অর্জিত সুদের উপর উক্ত আদেশের ধারা ৫২ডি তে উল্লেখিত উৎসে কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ হতে হ্রাস করে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো।

এর আগে গত ১৮ জুলাই শুধুমাত্র অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে উৎসে কর কাটার ক্ষেত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটার ঘোষণা এসেছিল। আর ৫ লাখ টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ হারেই কর কাটতে বলা হয়। যদিও নতুন ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।

এনবিআরের ওই নির্দেশনায় বলা হয়, অর্থ আইন ২০১৯ অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদেরকে সঞ্চয়পত্রের সুদ বা মুনাফা প্রদানের ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কর্তনের হার পরিবর্তন করে ৫ শতাংশের স্থলে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে সকল সঞ্চয়পত্রের উপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে আয়কর কর্তন করতে হবে। শুধুমাত্র পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে সর্বমোট ৫ লাখ টাকার উর্দ্ধে বিনিয়োগের সুদ পরিশোধকালে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য হবে। যা ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

সঞ্চয়পত্রের উপর ১০ শতাংশ উৎসে কর আরোপের পর সঞ্চয়পত্রের আয়ের উপর নির্ভরশীল পেনশনারসহ লাখ লাখ বিনিয়োগকারির মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। মূলত পুঁজিবাজার নিয়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারিদের আস্থাহীনতা রয়েছে। এ বাস্তবতায় পেনশনার ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারিরা পারিবারিক ব্যয় নির্বাহের জন্য নিজেদের সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগে সঞ্চয়পত্রকে অধিক লাভজনক হিসেবে বেছে নিয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের এই প্রবণতায় পুঁজিবাজার, ব্যাংকিং খাতসহ বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মূলধারার খাতগুলো অর্থ সংকটে পড়ছে। এসব খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতেই সঞ্চয়পত্রে ১০ শতাংশ উৎসে কর আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার।



 

Show all comments
  • Pankoj Kumar Biswas ১৩ অক্টোবর, ২০১৯, ৩:৫৪ পিএম says : 0
    কেউ যদি ৫ লাখ টাকার সঞ্চয় করে আগের কোন তারিখে এবং পরে ২৭ মে ৪ লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র করে তাহলে সেই ব্যক্তি কি ৯১২ টাকা পবে না ৮৬৪ টাকা করে পাবে?
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সঞ্চয়পত্র

২১ জুন, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন