Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬, ১৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

বিশেষ অভিযানে বিরোধী নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ খুলনায়

প্রকাশের সময় : ১২ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

এ টি এম রফিক/আশরাফুল ইসলাম নূর, খুলনা থেকে : জঙ্গি ও দাগি সন্ত্রাসী গ্রেফতারের সাঁড়াশি অভিযানের প্রথম দিনে শুক্রবার ১০২ জন ও গতকাল শনিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত খুলনায় ৯২ জনকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। এসব অভিযানে বিরোধী দল-মতের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, জঙ্গি ও সন্ত্রাসী ধরতে বিশেষ অভিযানের প্রথম (বৃহস্পতিবার দিবাগত) রাতে খুলনায় ১০২ জন গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে জামায়াত নেতা, সাজাপ্রাপ্ত, পরোয়ানা, নিয়মিত মামলার আসামি, মাদক বিক্রেতা ও চাঁদাবাজ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। জেলার ৯ থানায় গ্রেফতার হয়েছে ৭১ জন। এর মধ্যে ডুমুরিয়ার রুদাঘরা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি নেছার সরদার ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীসহ ৫ জন রয়েছেন। কয়রা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে জামায়াতের আরো ৩ জন নেতাকর্মীকে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে ডুমুরিয়া উপজেলায় ৬ জন এবং কয়রা উপজেলায় ৩ জন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী রয়েছেন।
খুলনা মহানগরীর আট থানা এলাকা থেকে প্রথম দিনে গ্রেফতার করা হয় ৩১ জন। তবে এর মধ্যে অস্ত্র বা তালিকাভুক্ত জঙ্গি-সন্ত্রাসী কেউ ছিল না। আবার শুক্রবার রাত থেকে গতকাল শনিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মহানগরী এলাকা থেকে জামায়াতে ইসলামী দৌলতপুর থানার শূরা সদস্য আশরাফুজ্জামানসহ ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। নগরীর পৃথক স্থান থেকে উদ্ধার হয়েছে দুই রাউন্ড গুলি, দু’টি ছোরা, ৯৯ পিস ইয়াবা ও ২০ গ্রাম গাঁজা।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঠু জানিয়েছেন, মহানগরী থেকে এখনো পর্যন্ত জঙ্গি সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তি বা দাগি সন্ত্রাসী গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযান চলছে।
খুলনা জেলা পুলিশের ওসি মো: আব্দুর রশিদ জানান, জেলার কোথাও জঙ্গি সংগঠনের অস্তিত্ব নেই। তবুও দাগি সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
খুলনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশী হয়রানি নতুন কোনো বিষয় নয়। চলছে রমজান, সামনে ঈদ; এসময়ে হয়রানি ও আটক-গ্রেফতার বাণিজ্য চলবে এটা তো গত ৭-৮ বছরের চিত্র।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনা মহানগরীসহ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে সরকারবিরোধী দল-মতের নেতাকর্মীদের নির্বিকারে হয়রানি করছে পুলিশ। বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশির নামে ভীতি সৃষ্টির অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি, কলেজছাত্রী তনু, পুলিশ সুপার পতœী মিতুর এবং সর্বশেষ গুপ্তহত্যাকারীদের গ্রেফতারের খবর নেই। সারাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গি রোধে সাঁড়াশি অভিযানে হাজার হাজার মানুষ আটক করা হচ্ছে। দাগি সন্ত্রাসীদেরও তো গ্রেফতার করতে পারছে না।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মো: হাবিবুর রহমান বলেন, খুলনার কোথাও পুলিশ কাউকে হয়রানি করছে, এমন অভিযোগ কেউ করেননি। অভিযান চলছে সফলতা আসবেই।
খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি এস এম মনিরউজ্জামান বলেন, সময়ের প্রয়োজনেই সাঁড়াশি অভিযান চলছে। যদিও খুলনাতে কোথাও জঙ্গি তৎপরতা নেই।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আব্দুস সামাদ বলেন, কোনোভাবেই শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষকে পুলিশি হয়রানি যেন না করা হয় সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শনিবার সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক অনুষ্ঠিত সভায় এসব ব্যাপারে কথা হয়েছে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মিজানুর রহমান মিজান, জেলা পরিষদ প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ, সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস, কেসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো: আনিসুর রহমান বিশ্বাস, রেঞ্জ ডিআইজি এস এম মনিরউজ্জামান, কেএমপি কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝিসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ