Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

“দুরুদে ইব্রাহীমি প্রসঙ্গে কিছু কথা”

মোঃ শিবলী নোমানী ইবনে সাদেক খান। | প্রকাশের সময় : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

বহু দিন হয়ে গেল দুরুদে ইব্রাহীম প্রসংগে কিছু লেখার ইচ্ছে অন্তরের অন্তঃস্থলে ধামা চাপা পড়ে ছিল, সামনে মহররম মাস, এই মাসের ফজিলত সম্পর্কে সম্মানিত আলেম ওলামাগণ কুরআন, সুন্নাহর আলোকে অনেক প্রবন্ধ লিখবেন এবং তা পত্রিকায়ও প্রকাশ পাবে এমনকি ধর্ম নিরপেক্ষ পত্রিকাগুলোও ১০ ই মহররম তথা আশুরা সম্পর্কে তথ্য নির্ভর আর্টিকেল প্রকাশ করবে। এ পর্যায়ে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর বিখ্যাত উক্তির কথা মনে পড়ছে।

বহুযুগ ধরে বেছেছিস্ তোরা
এবার মৃত্যু সাধনা কর
যে হাতে কেবলি কর মোনাজাত
সে হাতে এবার অস্ত্রধর

জাতীয় কবির শেষের কথাটি যথাযথভাবে না বুঝে এক শ্রেনীর তরুন হাতে অস্ত্র তুলে নিচ্ছে। অর্থাৎ বিপদগামি হচ্ছে কারণ যে সকল গডফাদার তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে তারা ইসলামের পবিত্র জিহাদকে কলংকিত করছে। জিহাদ ঘোষনা করার জন্য আমির নির্বাচন করা ফরজ। আর যাকে আমির নির্বাচন করা হবে, তার যোগ্যতার প্রধান মাপকাঠি হযরত আহম্মদ মোস্তফা মোহাম্মদ মোজতোবা আলাইহিস সালাতু ওয়াস্সালামের প্রতি নিজের জীবনের চেয়েও বেশী ভালোবাসা অন্তরে লালন করা। এ প্রসংগে জাতীয় কবির আরেকটি বিখ্যাত উক্তি উল্লেখ করা যায় “আল্লাহকে যে পাইতে চায়, হযরতকে ভালোবেসে”। কিন্তু আমাদের জাতীয় কবি জানতেন, আমাদের সমাজেএমন এক শ্রেণীর আলেম ওলামা রয়েছে যারা সামান্য অর্থের লোভে ইসলামের অপব্যাখ্যা করতে বিন্ধু মাত্র দ্বিধান্নিত হন না। তাদের সম্পর্কে কবি কৈফিয়ত কবিতায় বলেছেন “চোগা চাপকানে ঢাকা পড়বে না সত্য যে পরিচয়”। যে সকল চোগা চাপকানধারী লোকজন কবিকে কাফের বলে। ফতোয়া দিয়েছিলেন তাদের উদ্দেশ্যে কবি বলেছিলেন। “যদিও শহিদ হইতে রাজিও” কবির আবিস্কৃত চোগা পাপকানধারিরা ইসলামের ভূল ব্যাখ্য আজ নতুন দিচ্ছেনা। উয়াজিদের অনুসারীরাও চোগা চাপকানধারী ছিল। সামান্য রাজত্বের লোভে রাহমাতুল্লিল আলামিনের অনুসারিদের উপর ইতিহাসের বর্বর হত্যাকান্ড পরিচালনা করে। সাইয়্যেদেনা ইমাম হোসাইন আলাহিস সালাম জানতেন তার নানা জানের অংগুলির নির্দেশে লক্ষ লক্ষ মাইল দুরের চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হয়েছিল। সুতরাং তিনি যদি চাইতেন ইয়াজিদ ও তার অনুসরিদের নির্মম পরিণতি হতে পারত কারবালার নির্মম ঘটনা ঘটার পুর্বেই। যেহেতু এখানে মহানবীর সম্মানের বিষয় জড়িত তাই ইমাম হুসাইন আলাইহিস্ সালাম পবিত্র মক্কা এবং মদিনার সম্মানিত সকল সাহাবা কেরাম এবং তাবেঈনদের অনুরোধকে উপেক্ষা করে কুফার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। প্রশ্ন হলো কেন করেন? দীর্ঘ সাড়ে ১৩ শত বছর যাবৎ এই প্রশ্নের উত্তর যারা খুজে চলেছেন, আমি তাদেরই একজন। হযতর ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে পবিত্র জিলহজ্ব

মাসের ১০ তারিখে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানি করেন। ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের কুরবানি কবুল হওয়ায় তিনি আল্লাহর বন্ধুর মর্যাদা অর্থাৎ খলিল উল্লাহ্ উপাধি লাভ করেন। আর তাঁর পূত্র হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য স্ততঃস্ফুর্ত ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন, তাঁর এই পবিত্র আত্মত্যাগকে মহান রব্বুল আলামিন কবুল করেন এবং তিনি জবেহ্ উল্লাহ্ উপাধি লাভ করেন। কিন্তু হযরত ইসমাইল আলাহিস সালাম অক্ষত থেকে যান, তাঁর বংশেই মহানবীর আগমন ঘটে সেসাথে এই বিষয়টিও পরিস্কার হয়ে যায়। হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম পর্যন্ত যত নবী রাসুল দুনিয়াতে প্রেরিত হয়েছেন তাঁরা মূলত মহানবীর আগমনের প্রেক্ষাপট তৈরী করেছেন। আর এই প্রেক্ষাপট তৈরীতে যিনি সবচাইতে বেশী ত্যাগ শিকার করেছেন তিনি হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম, মহানবী যেহেতু শ্রেষ্ট ন্যায় বিচারক তাই তিনি ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম ও তাঁর বংশধরকে নামাজের মধ্যেও দুরুদে ইব্রাহীমির মাধ্যমে স্মরনে রেখেছেন। সাথে সাথে তাঁর নিজের বংশদরদের জন্য ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর বংশধরের অনুরূপ দোয়া উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন। লক্ষ্যনিয় বিষয়টি হলো ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম এর বংশ হলো নবী রাসুলের বংশ। আর মহানবীর বংশের কেউ নবী বা রাসুল হতে পারবেন না। তাহলে নবী রাসুল না হয়ে তাদের অনুরুপ দোয়ার হকদার হবেন কিভাবে? এই প্রশ্নের অন্যতম উত্তর হলো কারবালা! অর্থাৎ শুধুমাত্র মহানবীর বংশধরদের মর্যাদাকে দুনিয়া এবং আখেরাতে সমুন্নত রাখার জন্য মহান আল্লাহপাক হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম এর মত হযরত হুসাইন রাদিআল্লাহু আনহুকে অক্ষত অবস্থায় বাঁচিয়ে রাখেননি। উপরন্তু দুধের শিশুকে পিতার চোখের সামনে যেভাবে শহিদ করা হল তা দেখেও যিনি দ্বীন হতে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হন না তিনিইতো জান্নাতের যুবকদের সর্দার সাইয়্যেদেন ইমাম হুসাইন রাজিয়াল্লাহু আনহু। ত্যাগ শিকারের দিক থেকে সাইয়্যেদেন হযরত ইমাম হুসাইনই শুধু না ইমামের অনুসারী আহ্লে বায়েতের সকল সদস্য যেই দৃষ্টান্ত রেখেগেছেন কোন নবী রাসুল অথবা তাঁদের পরিবার এই ধরনের ত্যাগ শিকারের সুযোগ পেয়েছেন বলে ইতিহাসের কোথাও উল্লেখ নেই। আর যারা আহ্লে বায়েতের সদস্য না হয়েও আল্লাহর হাবিবের মোহাব্বতে ইমাম হুসাইন (রা:) এর সহযোদ্ধা হয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের কথা দুরুদে ইব্রাহীমের মধ্যে উল্লেখ না থাকলেও আল্লাহর হাবিব বলেছেন, আমার উম্মতের (হক্কানি) আলেমগন বনী ইসলাইলের নবীর সমতূল্য। এবার চিন্তা করুন আহ্লে বায়েতের সদস্য না হয়েও যে কোন উম্মত বনী ইসলাইলের নবীর সমমর্যাদা লাভের সুযোগ পেতে পারেন। আর যারা আহ্লে বায়েতের সদস্য তাদের মর্যাদা। আল্লাহ ও রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ফেরেস্তাদের নিকট কতটা মূল্যবান! তা ভেবে দেখা উচিৎ। কেবলমাত্র বেদআতের ধুঁয়া তুলে আমরা যাতে তাদের প্রতি অবিচার না করি, আল্লাহপাক আমাদের চিন্তা-চেতনায়, মন-মানসিকতায় প্রবিত্রতা নাজিল করুন, আমিন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন