Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার , ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬, ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

জনবল সঙ্কটে আনোয়ারায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:২১ এএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চিকিৎসক, জনবল ও যন্ত্রপাতির সঙ্কটে ভোগছে। এতে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। যন্ত্রপাতি এ্যানেসথেসিয়া, বিশুদ্ধ পানি ও জনবলের অভাবে অপারেশন থিয়েটার চালু করা যাচ্ছে না। প্রসব জনিত সমস্যাসহ অপারেশন রোগীদের বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। উপজেলার প্রায় ৩ লাখ জনগণের একমাত্র ভরসা এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। আনোয়ারা উপজেলার জনসাধারণ ছাড়াও এ হাসপাতালে ছুটে আসে বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও কর্তফুলী এলাকার রোগীরা। এলাকাবাসী জানান, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এক্স-রেসহ কোন রোগের পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। ফলে গ্রামের মানুষকে বাধ্য হয়ে ছুটে যেতে হচ্ছে চট্টগ্রাম শহরে। সরজমিনে হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, ২১টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ৮টি শূন্য। তার মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম), জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেসিয়া), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন, সহকারী ডেন্টাল সার্জন, সহকারী সার্জন এ্যানেসথেসিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক মেডিকেল অফিসার পদটিও শূন্য রয়েছে। এসব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাছাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ১১টি পদে ৭টি শূন্য রয়েছে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসক সহকারী পদে ৯টিতে ৯টিই শূন্য। ২য় শ্রেণি কর্মকর্তা পদে ৩০টিতে ৩টি শূন্য, ৩য় শ্রেণির বিভিন্ন কর্মচারী পদে ৮৪টির মধ্যে ৩১টি শূন্য, ৪র্থ শ্রেণি কর্মচারী পদে ২৩টির মধ্যে ৫টি শূন্য রয়েছে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ২৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক চলছে সিএইচসিপিদের মাধ্যমে। কোন চিকিৎসক যাচ্ছে না এসব ক্লিনিকে। হাসপাতালে রোগী বহনের জন্য একমাত্র এ্যাম্বুলেন্স, রোগীদের রোগ নির্ণয়ে এক্স-রে মেশিন, ওটি লাইট, ইসিজি মেশিন, ডায়াথার্মি মেশিন নষ্ট হয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ অচল অবস্থায় রয়েছে। ফলে হাসপাতালে রোগীদের রোগ নির্ণয় পরীক্ষাসহ দৈনন্দিন কাজ ঠিকমত হচ্ছে না। এলাকাবাসীর কাঙ্খিত সেবাও মিলছে না। দ্রæত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসক, জনবল ও পরীক্ষা নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবস্থা না নিলে মানুষের মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্যসেবা অচিরেই বেস্তে যাবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু জাহিদ মো. সাইফুদ্দিন বলেন, চিকিৎসক, জনবল ও যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য সমস্যা থাকলেও আমরা রোগিদের সেবা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। হাসপাতালের সমস্যার কথা উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ব্যাহত


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ