Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্যের জের, শেহলা রশিদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭:১০ পিএম

অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্যের জেরে রাজনীতিক ও সমাজকর্মী শেহলা রশিদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা রুজু করল দিল্লি পুলিশ। কাশ্মীরে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ করা হচ্ছে বলে নানা অভিযোগ তুলে সম্প্রতি প্রতিবাদ করেছিলেন শেহলা। এর জেরেই তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতা, দাঙ্গায় উস্কানি-সহ এক গুচ্ছ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। যদিও এখনও নিজের অবস্থানে অনড় শেহলা।

সেনা জওয়ানরা কাশ্মীরে খেয়ালখুশি মতো বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে এবং বাসিন্দাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে— গত ১৮ আগস্ট এমনই মন্তব্য করেছিলেন শেহলা। কিন্তু সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে সেনার দাবি ছিল, শেহলার অভিযোগ ভিত্তিহীন। বিবৃতি দিয়ে সেনা বলেছিল, শেহলার তোলা অভিযোগ ভিত্তিহীন। এই ধরনের সত্যমিথ্যা যাচাই না করে এই ধরনের অভিযোগ তোলে শত্রুশক্তি বা সংগঠন।’

কিন্তু তার পরও নিজের অবস্থানে অনড় থেকে শেহলা বলেন, ‘সেনা কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করলেই আমি তাদের হাতে প্রমাণ তুলে দেব। আমি এ কথা বলার পরও সেনা তদন্ত শুরু করেছে?’ একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘আমি যা বলেছি, পুরোটাই কাশ্মীর থেকে আসা লোকসজনের বিশ্বাসযোগ্য কথোপকথনের ভিত্তিতে। মিথ্যে বলার কোনও প্রশ্নই নেই। আমি একটা নয় অনেকগুলো অভিযোগ তুলেছি। কাশ্মীরের মানুষ গ্যাস পাচ্ছেন না, রান্না করতে পারছেন না।’

অবস্থানে অনড় থাকায় এবং টুইটারে ক্রমাগত একই রকম মন্তব্যের জেরে এ বার তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল দিল্লি পুলিশ। ১২৪-এ ধারায় দেশদ্রোহিতা, ১৩৫-এ ধারায় শত্রুতায় প্ররোচনা, ১৫৩ ধারায় দাঙ্গায় উস্কানি, ৫০৪ ধারায় শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে এবং ইচ্ছাকৃত অপমানের উদ্দেশ্যে মন্তব্য, ৫০৫ ধারায় জনগণের মধ্যে অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরির উদ্দেশ্যে মন্তব্যের মতো ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আলাখ অলোক শ্রীবাস্তবের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আদপে শ্রীনগরের বাসিন্দা শেহলা জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ছাত্রী। ২০১৫-১৬ সালে তিনি জেএনইউ ছাত্র ইউনিয়নের সহ সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করছেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কানাহাইয়া কুমার, উমর খালিদ গ্রেফতার হওয়ার পর তাদের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন শেহলা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কাশ্মীর


আরও
আরও পড়ুন