Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৭ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী

মুসলমানদের বিপর্যয়ের কারণ

মাওলানা মুহাম্মদ মামুন | প্রকাশের সময় : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

মুসলিম জাতি এক অনন্য জাতি। তাদের রয়েছে সোনালি ইতিহাস, গৌরবময় ঐতিহ্য। তাদের মনোবল ছিল আকাশছোঁয়া, হৃদয় ছিল দৃঢ়চেতা। তারা ছিল সতেজ ও দৃঢ় ঈমানের অধিকারী।

তাদের ব্যক্তি, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রজীবন পুরোটাই ছিল অনুসরণীয়, ঈর্ষণীয় ও সুখ-সমৃদ্ধিতে পূর্ণ। মুসলিম জাতি ছিল বিজয়ী জাতি। অন্যায় ও জুলুমের কাছে নতিস্বীকার তাদের ইতিহাসে নেই। সমগ্র পৃথিবী আমাদের চিনেছে, জেনেছে এ পরিচয়েই। কিন্তু আজ এ কী হচ্ছে! আজ পৃথিবীতে সবচেয়ে নিগৃহীত, নির্যাতিত ও অধিকারবঞ্চিত সম্প্রদায় হলো মুসলমান। তাদের জান-মাল-ইজ্জত-আব্রু কোনো কিছুরই আজ নিরাপত্তা নেই। মুসলমানরা আজ ইহুদি, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু, শিখ, কমিউনিস্ট- এক কথায় সকল কুফরি শক্তির হাতে মার খেয়ে খেয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। পৃথিবীর আকাশ-বাতাস মুসলমানের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠছে, রক্তে লাল হয়ে উঠছে এ জমিন, তবুও যেন তাদের দিকে ফিরে তাকানোরও কেউ নেই।

কোরআনে কারীমে ঘোষণা হচ্ছে, তোমাদের যারা ঈমান এনেছে ও নেক কাজ করেছে আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি তাদের পৃথিবীর কর্তৃত্ব প্রদান করবেন, যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের দিয়েছেন। তিনি তাদের দ্বীন প্রতিষ্ঠিত করবেন, যে দ্বীন তিনি তাদের জন্য মনোনীত করেছেন। আর ভয়ভীতির পরিবর্তে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন। তারা আমার ইবাদত করবে, আমার সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না। এরপর যে অকৃতজ্ঞ হয় তারাই পাপিষ্ঠ। - সূরা আন নূর (২৪) : ৫৫।

আল্লাহ তায়ালা কখনোই ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। তিনি মিথ্যা বলতে পারেন না। অতএব, আমাদের ওপর যে বিপর্যয় নেমে এসেছে তার কারণ আমাদের ঈমান ও আমলের ত্রুটি ও ঘাটতি। যুগে যুগে আল্লাহ তায়ালা তার এ ওয়াদা পূরণ করে দেখিয়েছেন আবার সে গুণ ও বৈশিষ্ট্য হারানোর দরুন মুসলমানদের বিপর্যয়ের সম্মুখীনও করেছেন।

হাকীমুল ইসলাম কারী তৈয়্যব রহ. বলেন, বর্তমান যুগে মুসলমানরা অভিযোগ করে, বিভিন্ন জাতি আমাদের ওপর জুলুম করছে- খ্রিষ্টানরা এই জুুলুম করেছে, হিন্দুরা এই জুলুম করেছে, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে, মুসলমানদের হত্যা করেছে। আমি বলি- এ অভিযোগ ভুল। কেউ তোমার প্রতি জুলুম করেনি; তুমি নিজেই নিজের ওপর জুলুম করেছ।

কারণ, যে রূহ ও জীবনী শক্তির কারণে তুমি জীবিত ছিলে, অর্থাৎ কোরআন ও ঈমান, তা তুমি ধ্বংস করে লাশে পরিণত হয়েছ। এখন সবার কর্তব্য হলো, লাশ দাফন করে দেয়া, জ্বালিয়ে দেয়া। লাশ জমিনে পড়ে থাকলে দুর্গন্ধ হয়ে পরিবেশ দূষিত করে তুলবে। কেউ লাশ জ্বালিয়ে দিলে অথবা লাশে আঘাত করলে অভিযোগ কেন?

এ করুণ পরিণতি থেকে পরিত্রাণের উপায় হলো, নিজের মধ্যে রূহ ও জীবনী শক্তি সৃষ্টি করা। জীবিতের ওপর হামলার দুঃসাহস কেউ করবে না। লাশ পড়ে থাকলে যে কেউ তার ওপর হামলা করবে। তুমি তো লাশের মতো হয়ে গেছ। এখন কেউ জ্বালিয়ে দিলে কাঁদো কেন? আঘাত করলে অভিযোগ করো কেন? তুমি নিজের মধ্যে রূহ ও জীবনী শক্তি সৃষ্টি করো। অর্থাৎ গোনাহ বর্জন করো এবং নেক আমল করো।



 

Show all comments
  • hhp ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১০:০৬ এএম says : 1
    There cannot be any destruction of muslims because ALLAH (SWT) promised, " Indeed, it is We who sent down the Qur'an and indeed, We will be its guardian." Quran, Chp 15, Vr. 9. Allah tala is definitely not going to guard Quran without guarding muslims because Allah is all wise. There is no wisdom to guard Quran in a muslimfree world. Don't demoralize muslim. Lots of hopeless extremist don't get this important verse due to their low IQ and become jongi.
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Kowaj Ali khan ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:২৮ পিএম says : 1
    ইসলাম শান্তি, ইসলাম মুক্তি, ইসলাম শিফা, ইসলাম রাজনীতি ,ইসলাম শক্তি ,ইসলাম সম্পদ ।ISLAM ALL IN ONE INSALLAH . চেয়ে দেখেন আমরা মোসলমান ? আমরা কি ইসলাম হইতে পারিয়াছি? আমাদের দাড়ি কোথায়? মাথায় টুপি নাই কেন ? চক্ষে কি সুরমা দেই । আমাদের নামাজ তিলাওয়াত কি শুদ্ধ হয়? ............................. আজকে মোসলমানদের দন্য দশা কারণ মোসলমানদের মাঝে ইসলাম নাই। মোসলমানের নামাজ শুদ্ধ হইলে আমরা মোসলমানরা বিশ্ব নেতৃত্ব দিতাম। ইনশাআল্লাহ। আসুন ইসলাম শিক্ষা অর্জন করিয়া ,আমল করিয়া বিশ্বকে করি আল্লাহ তাআলার রহমতে শান্তিময় । ইনশাআল্লাহ। মোসলমানরা অশুদ্ধ নামাজ পড়িয়া ধংসের দিকে দাবিতো হইতেছেন। নামাজের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। সবাই নামাজ শিক্ষা পড়িবেন। আল্লাহ হাফিজ।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Omar Faruk ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২:২৮ এএম says : 0
    বিশ্ব প্রকৃতির গোটা ব্যবস্থাপনাই এমন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ যে, এখানে কোন স্থিতি ও বিরতির অবকাশ নেই। এখানে এক অবিশ্রাম গতি, পরিবর্তন ও আবর্তন বিদ্যমান। এটি কোন জিনিসকেই এক অবস্থায় টিকে থাকতে দেয় না। এখানে সৃষ্টির সাথে লয়, ভাঙ্গার সাথে গড়া, উত্থানের সাথে পতন হাত ধরাধরি করে চলছে।
    Total Reply(0) Reply
  • মিরাজ আলী ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২:২৮ এএম says : 1
    মুসলমানদের আজ বড় বিপর্যয়ের কারণ ঐক্যবদ্ধ না হওয়া।
    Total Reply(0) Reply
  • সৈকত ফকির ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২:২৯ এএম says : 1
    আল্লাহ তাআলা পারস্পরিক সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা, সহযোগিতা ও ভালোবাসার পরিবেশ সৃষ্টির জন্যই মানুষকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। কিন্তু আজ আমরা বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, রক্তপাত, নিরাপত্তাহীনতা, আতঙ্ক ও বিপথগামিতা দেখতে পাচ্ছি এবং এটি একটি ভয়াবহ বিপর্যয়।
    Total Reply(0) Reply
  • তাসলিমা বেগম ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২:৩০ এএম says : 1
    দুঃখজনকভাবে অন্যান্য সমাজ ও জনগোষ্ঠীর মতো সারা বিশ্বের মুসলিম সমাজও কঠিন বিপর্যয় ও সংকটের সম্মুখীন এবং বেশকিছু মুসলিম দেশ সৌদি সরকারের মতো অযোগ্য লোকদের হাতে রয়েছে।
    Total Reply(0) Reply
  • সিদরাতুল মুনতাহা ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২:৩০ এএম says : 1
    কোরআন ও সুন্নাহ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে আজ এই অবস্থা।
    Total Reply(0) Reply
  • Sultan Mahmud ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১০:৩৮ পিএম says : 0
    তাহলে তালেবান হারলো কেন বলতে পারেন হুজুর ? তারা তো পূর্ণ শরীয়াহ মোতাবেক চলছিল। আধুনিক সমরাস্ত্রের সামনে তারা 2001 সালে টিকতে পারেনি কেন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসলাম

২২ অক্টোবর, ২০১৯
২০ অক্টোবর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন