Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

লোকবল সঙ্কটে হুমকিতে বনজ সম্পদ

পার্বত্য চটগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ

কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) থেকে কবির হোসেন | প্রকাশের সময় : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

বনজ সম্পদ আর সৌন্দর্যে ভরপুর পার্বত্য চট্টগ্রাম। চারদিকে সবুজের সমারোহ। দীর্ঘবছর ধরে বিশাল এ বনজ সম্পদ প্রকৃতির মাঝে মেলে ধরে এক নান্দণিক সৌন্দর্যের মনকাড়া অবয়ব। যা উপভোগ করতে দেশি-বিদেশি তথা বাংলাদেশের হাজারো পর্যটন প্রতিনিয়ত আসে রাঙ্গামাটি তথা কাপ্তাই।
সরকার এ পার্বত্য আঞ্চল হতে প্রতিনিয়ত কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করছে সরকার। বর্তমানে লোকবল সঙ্কটে সেই পুরাতন বনজ সম্পদের ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় বনের সম্পদ দখল বা ধবংস করে ঝুঁম চাষে ব্যস্ত রয়েছে। হুমকির মুখে বিশাল বনজ সম্পদ। দুর্ভোগে মাঠ পর্যায়ের বন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য চটগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ কাপ্তাই-কর্ণফুলী বনরেঞ্জসহ ২ লাখ ২ হাজার ৬শ’৬৯দশমিক৪৯ একর বিশাল জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে বনজ সম্পদ। এ সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য মঞ্জুরিকৃত পদ ২৫৯ এর বিপরীতে আছে ১৬৮জন। পদের অনুক‚লে লোক নিয়োগ না দেওয়ার ফলে দীঘ দিন যাবত শূন্য পড়ে আছে। দক্ষিণ বন বিভাগের এ বিশাল বনজ সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রয়েছে ৬টি বন রেঞ্জ ও স্টেশন পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্যা বিট। কয়েক বছর পূর্বেও দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় একটি রেঞ্জ তথা একটি বিটে বনজ সম্পদ পাহারা দিতে ১০ থেকে ১৫ জন স্টাফ ছিল। বর্তমানে লোকবল সঙ্কটের ফলে একটি রেঞ্জে অফিস কার্যক্রম করছে ৩/৫জন, এবং একটি বিটে হাতিয়ারসহ রাতে-কিংবা দিনে ২ থেকে ৩ জন পাহারা দিতে দেখা যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন বন প্রহরী হাতিয়ার নিয়ে পাহারা দিতে দেখা যায়।

মাঠ পর্যায়ের অনেক বনরক্ষী দুঃখে, ক্ষোভে কান্না কণ্ঠে বলেন, আমরা এ বিশাল বনজ সম্পদ পাহারা দিতে গিয়ে পাহাড়ের উচু-নিচুতে টিলা হতে পা পিছলে পড়ে গভীর রাতে-কিংবা দিনে বনদস্যু তথা পাহাড়ী বন্য হাতির আক্রমণের স্বীকার হয়ে হাজারো বার হতাহত হয়েছি। এছাড়া ২৪ ঘণ্টা পাহারা দিতে গিয়ে কখনও খেয়ে না খেয়ে বনজ সম্পদ পাহারা দিয়ে আসছি। দুর্গম পাহাড়ের মধ্যে সুপেয়ও পানি না পাওয়ার দরুন পাহাড়ী ঝর্ণা তথা দুষিত পানি পান করে টাইফয়েড, ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। বিটে যদি পরিমাণমত লোকবল দেওয়া হয় তাহলে আমরা পালাক্রমে একটু বিশ্রাম নিয়ে বন পাহারা দিতে সক্ষম হতাম।

এদিকে অনেক বনপ্রহরী অভিযোগ করেন, দুর্গম বনে পাহারা দিতে গিয়ে স্ত্রী/সন্তন তথা পরিবারের কোন ধরনের সমস্যা হলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারিনা। আমাদের কথা কেউ শুনে না সাংবাদিক ভাই অনুরোধ করছি আমাদেরকে নিয়ে কিছু লেখুন।
দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) তৌফিকুল ইসলাম, উপরোক্ত জনবল সঙ্কটের কথা অকোপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, লোকবল সঙ্কট তথা বিভিন্ন সমস্যা জানিয়ে প্রতি মাসে মাসিক প্রতিবেদন দিচ্ছি বনমন্ত্রণালয়ে তথা উধর্বতন কর্মকর্তাদের নিকট কিন্তু কোন কিছুই হচ্ছেনা। ফলে বিশাল বনজ সম্পদ পাহারা দিতে গিয়ে আমার মাঠ পর্যায়ের লোকজন বিভিন্ন সঙ্কট তথা বনজ সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি পার্বত্য চটগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিশাল সম্পদ রক্ষার জন্য জনবল বাড়িয়ে দিয়ে তা রক্ষা করার জন্য বন মন্ত্রণালয়ের প্রতি আকুল আবেদন জানান ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ