Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৭ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী

রংপুর-৩ আসনে প্রার্থী রওশন পুত্র সাদ

জাপায় দেবর-ভাবীর বিরোধ মিটলেও অসন্তোষ কমেনি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

জাতীয় পার্টির প্রকাশ্য বিরোধ আপাতত থেমে গেলেও পর্দার আড়ালে বিরোধ থেকেই যাচ্ছে। দেবর-ভাবীর মধ্যে পদ ভাগাভাগি তথা জিএম কাদের দলের চেয়ারম্যান এবং বেগম রওশন এরশাদ সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। জিএম কাদের চেয়ারম্যানের পাশাপাশি সংসদে বিরোধী দলের উপনেতার দায়িত্ব পালন করবেন। বাবা এরশাদের আসন রংপুর-৩ (সদর) উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে রাহগির আল মাহিরকে (সাদ এরশাদ) মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে। গতকাল রোববার জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
কিন্তু পর্দার আড়ালের বিরোধ তুষের আগুনের মতোই জ্বলতেই থাকবে। দলটির নেতারা জানান, রংপুরের নেতাকর্মীরা উপনির্বাচনে সাদ এরশাদকে প্রার্থী মেনে নিতে পারছেন না। আগে এস এম ইয়াসিরের দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছিল। আবার চেয়ারম্যান জিএম কাদের বিরোধী দলের নেতার দায়িত্ব নিলে সংসদে বিরোধী দলের উপনেতার দায়িত্ব কাজী ফিরোজ রশিদকে দেয়ার কথা ছিল। দেবর-ভাবীর মধ্যে সমঝোতায় অংশ নেয়া নেতারা বলছেন, এভাবে রওশনের দাবি মেনে নেয়া জিএম কাদেরের উচিত হয়নি। দলটির বেশ কয়েকজন নেতা এই প্রতিনিধিকে জানান, তারা সমঝোতার নামে এমন প্রত্যাশা করেননি। রংপুরের নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নামবেন না।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর শনিবার গভীর রাতের বৈঠকে আমরা সমঝোতায় পৌঁছেছি যে, রওশন এরশাদ বিরোধীদলীয় নেতা এবং দলের আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত জিএম কাদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। আমি মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করব। সিদ্ধান্ত হয়েছে যে বিরোধী দলের নেতার বিষয়ে স্পিকারকে চিঠি দেয়া হবে। যদি কোনো কারণে দেয়া সম্ভব না হয়, তবে আগামী সংসদ অধিবেশনে চিঠি দেয়া হবে।

রংপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে কে প্রার্থী হবেন জানতে চাইলে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘কে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হবেন সাদ এরশাদ’।
গত তিন দিন কোথায় ছিলেন জানতে চাওয়া হলে রাঙ্গা বলেন, ‘পিতা-মাতা যখন ঝগড়া করেন, তখন সন্তানরা বড় বিপদে পড়ে যায়। দলের বড় ভাই হিসেবে তাই তিন দিন আড়ালে ছিলাম। তবে চলমান বিরোধ মেটাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছি। এই প্রচেষ্টার ফলেই বৈঠকের আয়োজন করতে পেরেছি।

উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে বারিধারার একটি হোটেলে জিএম কাদের ও রওশনপন্থীদের মধ্যে সমঝোতার বৈঠক হয়। বৈঠকে রওশন এরশাদের পক্ষে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, ফখরুল ইমাম এমপি, মুজিবুল হক চুন্নু এমপি ও সেলিম ওসমান এমপি এবং জিএম কাদেরের পক্ষে কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি, জিয়াউদ্দিন আহমদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি ও মেজর জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এমপি উপস্থিত ছিলেন। এ সময়ে দলের মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপিও উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে সমঝোতা হয়। তবে এই সমঝোতার নেপথ্যে ছিলেন এরশাদের ছোট ভাই গোলাম মোর্শেদ বলে জানা গেছে। তবে মশিউর রহমান রাঙ্গা সরকারের উচ্চ মহলের সঙ্গে দেখা করে সমঝোতার উদ্যোগ নেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবুল হোসেন বাবলা। তিনি বলেন, এখন থেকে জাতীয় পাটির নবযাত্রা শুরু হল। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সুযোগ্য নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির গণজাগরণ সৃষ্টি হবে। একটি কার্যকর বিরোধী দল হিসেবে সংসদের ভেতরে-বাইরে সরকারের অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ডের সমালোচনায় সরব থাকবে আমাদের পার্টি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ