Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

‘খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে’

মানববন্ধন ও বিভাগীয় সমাবেশের ঘোষণা ঝিমুনি কর্মসূচি বলছে নেতাকর্মীরা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বেগম খালেদা জিয়া সুচিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ঠিকভাবে না হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসা পুরোপুরিভাবে শেষ না করেই খালেদা জিয়াকে ফের কারাগারে নেয়ার ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে অভিযোগ করেন তিনি। গতকাল (রোববার) বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিভাগীয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

খালেদা জিয়ার জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন করবেন কি না প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্যারোল চাওয়ার অধিকার তো আমাদের নেই। প্যারোল চাইতে পারেন পেসেন্ট নিজে। উনি তো চাননি এখন পর্যš। বলেছেন যে, ‘আমি প্যারোল চাচ্ছি না’। ভবিষ্যতে চাইবেন কি না আমরা বলতে পারব না।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে মহাসচিব বলেন, প্রতিদিনই তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। আত্মীয়স্বজন যারা দেখা করতে যান, আমরা গিয়েছি, আমরা জানি, তাকে বিছানা থেকে ওঠাতেও দু’জনকে সাহায্য করতে হয়, বিছানা থেকে ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য তাকে হুইল চেয়ারে করে নিতে হয় সেখানেও আরও দুইজনকে হেল্প করতে হয়। এখনও তিনি পা বেন্ড করতে পারেন না, চেয়ারে বসলে পা সোজা করে রাখতে হয়। রাতে ঠিকভাবে ঘুমাতে পারেন না, তার দুই কাঁধ প্রায় ফ্রোজেন, হাতগুলো ফ্রোজেন হয়ে যাচ্ছে। অসুখটা এমন যেটা- ইরিভারসেভেল ডিজিস, যে ক্ষতিটা হবে তা আর কোনো চিকিৎসাতেই ফিরে আসবে না। যে কারণে আমরা বার বার বলছি, দেশনেত্রীর জামিন প্রাপ্য, সেটা তার পাওয়া উচিত। অনেকেই এই মামলাগুলোতে জামিনে মুক্ত আছেন। তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না উদ্দেশ্যমূলকভাবে। জামিনে মুক্তি পেলে তার সুবিধা মতো দেশে হোক, বিদেশে হোক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারতেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএসএমএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি (খালেদা জিয়া) এখন সুস্থ হয়ে গেছেন, তার রোগের উপশম হয়েছে এবং পরিচালক (সম্ভবত) তিনিও বলেছেন, তিনি (খালেদা জিয়া) এখন সুস্থ। আমরা মনে করি, এটা ষড়যন্ত্রেরই একটা অংশ। তাকে আবার চিকিৎসা না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর একটা ক্ষেত্র তৈরি করতে চাচ্ছে। আমরা যেটা বলতে চাই, দেশনেত্রীর চিকিৎসা যদি প্রোপারলি না হয় তাহলে যেটা তার ঘটছে সেটা হচ্ছে- প্রতিদিন তার শরীর আরো খারাপ হচ্ছে, অবনতি হচ্ছে তার স্বাস্থ্যের। যেটাকে বলা হচ্ছে যে, প্রোগ্রেসিভলি খারাপের দিকে যাচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব এ সময় বিএসএমএমইউর মেডিক্যাল প্রতিবেদন পড়ে শোনান, যেখানে খালেদা জিয়ার জটিল রোগের সুচিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। খালেদা জিয়ার ন্যূনতম চিকিৎসার দিকে সরকার কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নজর দিচ্ছে না অভিযোগ করে দলের ভাইস চেয়ারম্যান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, তার (খালেদা জিয়া) এখন বয়স ৭৫ চলছে- এ অবস্থায় যেকোনো সময়ে তার ব্লাড সুগার ১৪, তারা (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) বলেন এটা নাকি নরমাল। আচ্ছা বলেন তো ফাস্টিং ব্লাড সুগার ১৪, এটা কী নরমাল হয়? যারা বলেন তারা কিন্তু ডাক্তার। অর্থাৎ ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, হাসপাতালের ডিরেক্টর সাহেব বলেন। তারা কিন্তু মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছেন। সরকারের শেখানো বুলি বলে যাচ্ছেন।

জাহিদ হোসেন বলেন, বাম হাতে দেশনেত্রী কিছু ধরতেই পারেন না, বাম হাত সোজা করতে পারেন না। হাতটা তিনি ছয় ইঞ্চি তুলতে পারেন না। সে জায়গায় তারা বলছেন যে, উনি ভালো, সুস্থ আছেন। যে মানুষটি দাঁড়াতে পারেন না, যে মানুষটি হাঁটতে পারেন না।

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এখানে তো আইনের চাইতে রাজনৈতিক বিষয়টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা তো চেষ্টা করেছি এবং এখনও চেষ্টা করে যাচ্ছি আন্তরিকভাবেই, যাতে করে আমরা তার জামিন পেতে পারি। কিন্তু পদে পদে বাধা, রাজনৈতিক প্রভাব। তার স্বাস্থ্যগত কারণে আমরা আবার চেষ্টা করব জামিনের জন্য।

সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচি ঘোষণা : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীসহ সারাদেশে মানববন্ধন ও বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগরে মানববন্ধন এবং ১২ সেপ্টেম্বর সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করছি। এরপর আমাদের অঙ্গসংগঠনগুলো এ ধরনের মানববন্ধন ও সমাবেশের কর্মসূচি পরপর দিয়ে আসতে থাকবে। এর সঙ্গে আরো কর্মসূচি যুক্ত হবে। আমরা যে বিভাগীয় শহরে জনসভা করছিলাম- এটা কনটিনিউ করবে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে সমাবেশ হবে, ২৯ সেপ্টেম্বর হবে রাজশাহীতে এবং আমরা আশা করছি সিলেটে ২১ তারিখ সমাবেশের সম্ভাবনা আছে। রংপুরেও হবে তারপরে।

এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আবারও মানববন্ধনের মতো লোক দেখানে (নয়াপল্টনে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মতে) কর্মসূচি ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। সংবাদ সম্মেলনের পর অনেকেই প্রশ্ন তোলেন দলের শীর্ষ নেতারা কী আসলেই ম্যাডামের মুক্তি চান, নাকি চান যে তিনি কারাবন্দি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করুন। দলটির একজন সহ-সম্পাদক ক্ষোভ প্রকাশ করে ইনকিলাবের কাছে বলেন, এটা কি কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো। প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুললে ম্যাডামের মুক্তি হবে। নেতারা কি আসলে তার মুক্তি চায়। ছাত্রদলের এক সাবেক নেতা বলেন, হাস্যকর এবং লোক দেখানো এসব কর্মসূচি না দিলেই পারত। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চায় জোরালো আন্দোলন আর তারা ঘোষণা করছেন ঝিমুনি কর্মসূচি। মাহবুবুর রহমান নামে এক কর্মী বলেন, মানববন্ধন কি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব বিস্তার করে? সরি জানি না বলে জানতে চাইলাম। মো: আমিন নামে আরেকজন বলেন, মানববন্ধন নয়, নেত্রীর মুক্তির জন্য প্রকৃত কর্মীদের দাবি রাজপথে গণঅনশন ও অবস্থান। রবিউল ইসলাম নামে মহানগরের এক কর্মী বলেন, মানববন্ধন কর্মসূচি যদি দিতেই হয়, তাহলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত একসাথে মানববন্ধন ঢাল তৈরি করা হোক। শুধু লোক দেখানো কর্মসূচি দিয়ে নেত্রীর মুক্তি হবে না।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: খালেদা জিয়া

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ