Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৭ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী

নাটকীয়তায় প্রার্থী সাদ রংপুরে জাপা নেতারা ক্ষুব্ধ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম

নানা নাটকীয়তার পর রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি রওশন পুত্র রাহগীর আল মাহী সাদকেই (সাদ এরশাদ) প্রার্থী করছে। এই উপনির্বাচনে প্রার্থী ঠিক করা নিয়ে বিভেদ থেকে নানা নাটকীয় ঘটনা এবং জাতীয় পার্টি ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। দুই পক্ষের সমঝোতা বৈঠকে দেবর-ভাবির পদ ভাগাভাগির পর গতকাল বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের ১৪ জন সিনিয়র নেতাকে নিয়ে আলোচনা করে দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা রংপুর-৩ আসনে জাপা প্রার্থী সাদ এরশাদের নাম ঘোষণা দেন। অথচ এক ঘন্টা আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, প্রার্থী কে হবেন তা পরের দিন আলোচনা করে চ‚ড়ান্ত হবে।
এরশাদের স্ত্রী কো-চেয়ারম্যান রওশন এই আসনে ছেলে সাদকে প্রার্থী করতে চাইলেও তার বিরোধিতা করছিলেন রংপুরের নেতারা। এরশাদের ভাতিজা সাবেক এমপি হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফের সমর্থকরা রংপুুরে গতকাল সাদের কুশপুত্তুলিকা পোড়ান। সাদের নামে রংপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস থেকে ফরম ক্রয় করা হলেও গতকাল সাদ এরশাদ বলেছেন, আমি এখনও এ মনোনয়ন প্রাপ্তির বিষয়টি জানি না। মনোনয়ন পেলে তো ঠিক আছে। তবে আগে শুনি, তারপর বলতে পারব বিস্তারিত।
নানা কান্ডে বিতর্কের জন্ম দেওয়া সাদকে বাবা এরশাদ রাজনীতি থেকে সরিয়ে বিদেশে রাখলেও তাকে রাজনীতির ময়দানে নিয়ে আসতে সচেষ্ট ছিলেন মা রওশন। ২০০০ সালে নারীঘটিত এক বিষয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সাদ। এরপর তাকে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন এরশাদ। এরশাদ অসুস্থ থাকার মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাদকে দেখা যায় জনসম্মুখে। মা রওশনের সঙ্গে বিভিন্ন সভায় আসতে শুরু করেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর তিনি আরও সক্রিয়।
দীর্ঘ দিন মালয়েশিয়ার প্রবাস জীবন শেষে সাদ এখন ঢাকাতে থিতু হয়েছেন। জাতীয় পার্টির দপ্তর বিভাগ জানিয়েছে সাদ এখন ব্যবসা করেন।
এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার ছাড়াও ভাগ্নী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মেহেজেবেন্নুসা রহমান টুম্পাও এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এছাড়াও প্রার্থী হতে চাইছিলেন দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এস এম ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম মহাসচিব এস এম ইয়াসির। জাপার নেতাদের জানানো হয় ইয়াসিরকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু দেবর-ভাবির সমঝোতার পর তার কপাল ভেঙে যায়। রংপুরের নেতারা জানান, সাদের বিরোধিতায় রংপুরের মেয়র ও মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা সরব হওয়ার পর জি এম কাদেরের পক্ষ ইয়াসিরকে প্রার্থী করতে চাইছিলেন। হঠাৎ সাদকে মনোনয়ন দেওয়ার খবর রংপুরে যেতেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতারা। জানতে চাইলে এস এম ইয়াসির বলেন, এমন সিদ্ধান্তে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ভীষণ মর্মাহত। এত দিন ধরে দলকে আমি এত সার্ভিস দিয়ে আসলাম। কিন্তু দল আমাকে মূল্যায়ন করল না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, আমি যদি নির্বাচন করি, তবে আমি জাতীয় পার্টি থেকে নয়, স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করব। জাতীয় পার্টির নাম আমি কোথাও ব্যবহারও করব না। রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির কেউ সাদ এরশাদের পক্ষে কাজ করবেন না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছেন রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ