Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০৫ কার্তিক ১৪২৬, ২১ সফর ১৪৪১ হিজরী

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সচল টেলিযোগাযোগ সেবা বিটিআরসির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪:৩৮ পিএম

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে টেলিযোগাযোগ সেবা সীমিত করার নির্দেশনা দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিটিআরসি)। সংস্থাটির নির্দেশনার পরও এখনো ওইসব এলাকায় ইন্টারনেট সেবাসহ সকল প্রকার টেলিযোগাযোগ সেবা সচল রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়শেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রোহিঙ্গাদের জন্য বিটিআরসি যে নির্দেশনা দিয়েছে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। সোমবার (০৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর তোপখানাস্থ নির্মল সেন মিলনায়তনে রোহিঙ্গাদের টেলিযোগাযোগ/ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পর্কিত সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ উত্তর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করবেন সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের মহাসচিব এড. আবু বক্কর সিদ্দিক, সবুজ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, এনপিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য ডাঃ আলতাব, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ বাহারানে সুলতান বাহার, জাতীয় উন্নয়ন পার্টির সভাপতি মাহাবুব খোকন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য কাজী আমানুল্লাহ মাহফুজ, শরীফুল ইসলাম প্রমূখ।

লিখিত বক্তব্যে মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গাদের টেলিযোগাযোগ/ইন্টারনেট ব্যবহার সম্পর্কিত বিটিআরসির নির্দেশনা কার্যকর হয়নি বলেই আমরা প্রত্যক্ষ করছি। অথচ গত ২ সেপ্টেম্বর বিটিআরসি অপারেটরদেরকে একটি নির্দেশনায় বলে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোন প্রকার সিম বিক্রি, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সিম ব্যবহার বন্ধ তথা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মোবাইল সুবিধাদি প্রদান না করা সংক্রান্ত সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করে বিটিআরসিকে অবগত করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। পরের দিন আরেক নির্দেশনায় বলা হয় সন্ধ্যা ৬ টা থেকে পরের দিন ভোর ৫ টা পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ৩জি ও ৪জি সেবা বন্ধ থাকবে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও বন্ধ থাকবে।

তিনি বলেন, একটি অবৈধ সেবা গ্রহণ করে অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশকারী নাগরিকগণ সংগঠিত হচ্ছে, অপরাধ করছে এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। এমতাবস্থায় তাদেরকে ৭ দিন দূরে থাক এক ঘণ্টার জন্য বিটিআরসি টেলিযোগযোগ ও ইন্টারনেট সেবা দিতে পারে কি না বা তাদের সেই ক্ষমতা আছে কি না তা আমাদের প্রশ্ন।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০১৬ সালে ৩০ এপ্রিল বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে বৈধ নাগরিকদের সিম নিবন্ধনের সময় শেষ হবার পর রাত ১২ টার পর নিবন্ধন করতে ব্যর্থ সকল সিম বন্ধ করা হয়েছিল। গত দুই মাস পূর্বেও ১৫ অধিক ২৩ লাখ সিম বন্ধ করা হল। অথচ অবৈধ নাগরিকদের বেলায় কেন ৭ কার্যদিবসেও কেন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেল না, তা আমরা জানতে চাই। ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে ১২টি ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন আমাদের প্রতিনিধি মোঃ নিজামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। গত ৩ দিন যাবত তারা ক্যাম্প পরিদর্শন কালে লক্ষ্য করেছেন রোহিঙ্গারা অবাধে দিন রাত ২৪ ঘন্টা টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। যদিও নির্দেশনার প্রথম দিন ইন্টারনেটের গতি অনেক জায়গায় কম ছিল। ক্যাম্প পরিদর্শনকালে বিটিআরসি’র কোন কর্মকর্তাকে আমাদের প্রতিনিধিরা লক্ষ্য করেন নাই। রিটেইলারদের ব্যবসায় কোন মন্দা আসেনি। অর্থাৎ বিটিআরসির নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি, এতে কোন সন্দেহ নাই। এতে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের অবৈধ টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধে কয়েকটি পরামর্শ দেয়া হয়। এর মধ্যে- রোহিঙ্গাদের হাতে বাংলাদেশি যেসকল নাগরিক তাদের নিবন্ধিত সিম বিক্রয় করেছেন এবং যে সকল অপারেটর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সিম বিক্রয় করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সকল প্রকার কর্পোরেট সিম বন্ধ করতে হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরকারী/আধা সরকারী/স্বায়ত্তশাসিত ও বৈধ এনজিও সমূহের কর্মরত ব্যক্তিগণের সিম সক্রিয় রেখে বাকি সকল সিমের সংযোগ নিষ্ক্রিয় করতে হবে। পূর্বের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যবহৃত টেলিকম সেবা বুথ চালু রাখতে হবে। অবৈধভাবে টাওয়ার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতকরণ ও সীমান্ত ওপারে নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে হবে। ৭ কার্য দিবসে বিটিআরসির নির্দেশনা কেন বাস্তবায়ন হল নাÑ তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তা ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রকাশের দাবী জানাচ্ছি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোন গাফিলতি থাকলে তার জন্য দায়ী ব্যক্তিকেও চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিটিআরসি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ