Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৬ কার্তিক ১৪২৬, ২২ সফর ১৪৪১ হিজরী

ট্রাম্প প্রশাসন উদ্বাস্তুর সংখ্যা কর্তনের কথা বিবেচনা করছে

শেষ পর্ব

নিউ ইয়র্ক টাইমস | প্রকাশের সময় : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে লেখা এক চিঠিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত বিশিষ্ট কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা অভিবাসী সংখ্যা কর্তনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। তারা জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দিয়েছেন যা পেন্টাগনে থাকতে ম্যাটিস করেছিলেন। তারা উদ্বাস্তু কর্মসূচিকে জনগণের জন্য ‘ক্রিটিক্যাল লাইফলাইন’ বলে উল্লেখ করেন যা বিদেশে আমেরিকার সৈন্য, কূটনীতিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাহায্য করে। হুঁশিয়ার করে দেন যে তাদের সংখ্যা কর্তন বিরাট অস্থিতিশীলতা ও যুদ্ধের ঝুঁকি সৃষ্টি করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশন্সের সাবেক কমান্ডার অ্যাডমিরাল উইলিয়াম এইচ. ম্যাকরাভেন, জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের সাবেক চেয়ারম্যান জেনারেল মার্টিন ই. ডেম্পসে এবং ইউরোপে সেনাবাহিনীর সাবেক কমান্ডিং জেনারেল লে. জেনারেল মার্ক পি. হার্টলিংসহ সামরিক কর্মকর্তারা লিখেন যে কয়েক দশক ধরে চলে আসা এ নজির ও আজকের পরিস্থিতি বিশ^ প্রয়োজনীয়তার সাথে সামঞ্জস্যশীল এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিটি বহাল রাখা ও উদ্বাস্তু প্রবেশ অনুমোদন নিশ্চিত করার জন্য আমরা আপনার কাছে আবেদন জানাচ্ছি।

তারা আরো বলেন, এমনকি বর্তমানে ৩০ হাজার উদ্বাস্তু অনুমোদনের সিলিংটিও হাজার হাজার লোকের জন্য বিপদ সৃষ্টি করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে অপারেশন পরিচালনাকারী আমেরিকার সামরিক কমান্ড তদারকির পর এ বছর অবসরগ্রহণকারী জোসেফ এল, ভোটেলও এ চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, সিরিয়ার মত যুদ্ধ কবলিত দেশগুলো থেকে উদ্বাস্তু প্রবাহ এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের অন্যতম কারণ।

জেনারেল ভোটেল বিদেশে আমেরিকার সামরিক কার্যক্রম প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের একা কিছু করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ইরাকিরা নিয়মিত ভাবে আমাদের সাহায্য করেছে যারা নিপীড়নের শিকার হয়েছে। আমরা তাদের সাহায্যের মূল্য দিতে পারব না। তবে তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে।

ম্যাটিস নিজেও ২০১৮ ও ২০১৯ সালে মিলারের উদ্বাস্তু সংখ্যা হ্রাসের বিরুদ্ধে একই যুক্তি পেশ করেছিলেন। ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় এ সংখ্যা হ্রাস করে ৫০ হাজারে আনা হয়েছিল।

তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স ডব্লিউ টিলারসন ও জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালির সহযোগিতায় ম্যাটিস ২০১৮ সালে উদ্বাস্তু হ্রাসের সংখ্যা ৪৫ হাজারে রাখতে সক্ষম হন। পর বছর উদ্বাস্তু প্রবেশের সংখ্যা আরো কমিয়ে আনতে মিলার ম্যাাটিসকে রাজি করানোর চেষ্টা করেন এ শর্তে যে ইরাকি ও আফগান উদ্বাস্তু আগমনের সংখ্যা হ্রাস করা হবে না। কিন্তু ম্যাটিস তা প্রত্যাখ্যান করেন ও উদ্বাস্তু সংখ্যা ৪৫ হাজারে রাখার জন্য চাপ দেন। কিন্তু টিলারসনের বিদায় ঘটায় মিলার উদ্বাস্তু সংখ্যা ৩০ হাজারে নামিয়ে আনতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে রাজি করাতে সক্ষম হন।

গত বছর তার ঘোষণায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে অভিবাসন প্রত্যাশীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বাইরে থেকে উদ্বাস্তু গ্রহণের প্রয়োজন নেই।

এক বছর পর মিলার ও তার মিত্ররা উদ্বাস্তু সংখ্যা আরো হ্রাসের পক্ষে তাদের যুক্তি অব্যাহত রাখেন।
কেন্দ্রীয় নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা দফতরের উদ্বাস্তু বিষয়ক বিভাগের প্রধান হিসেবে গত বছর অবসরে যাওয়া বারবারা স্ট্রাক বলেন, বিশে^র সকল স্থান থেকে উদ্বাস্তু গ্রহণের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশের জন্য মডেল হতে পারত। আমেরিকা নেপাল থেকে ভুটানি উদ্বাস্তু গ্রহণের পর অন্য দেশগুলো তা অনুসরণ করে।

তিনি বলেন, এটা নেতৃত্বের বিষয়। এটা নির্ধারিত হবে কে বিশে^ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ও অন্য দেশগুলো আমাদের কিভাবে দেখে।
একদা উদ্বাস্তু পুনর্বাসন কর্মসূচির চালক ও অগ্রনায়ক ছিল পররাষ্ট্র বিভাগ। কিন্তু ট্রাম্পের আমলে তার পরিবর্তন হয়েছে। ট্রাম্প ও মিলার স্পষ্ট করেছেন যে তারা এটা পছন্দ করেন না। এখন পররাষ্ট্র বিভাগে উদ্বাস্তু বিষয়ক শীর্ষ দায়িত্বে রয়েছেন অ্যান্ড্রু ভেপরেক। তিনি ছিলেন হোয়াইট হাউসে মিলারের এক সহযোগী। তার সাথে ছিলেন জাদরোজনি যিনি ২০১৭ সালে উদ্বাস্তু সংখ্যা যত হ্রাস করা সম্ভব সে চেষ্টার অন্যতম নায়ক ছিলেন।

এর ফলে প্রতিরক্ষা দফতরই ছিল একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা সম্ভবত উদ্বাস্তু আগমন সংখ্যা বহাল রাখতে পারত।
এদিকে প্রশাসনে এর প্রবক্তারা বলেন তারা হতাশ যে এস্পার এ ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবেন কিনা।
মিজ স্ট্রাক বলেন, প্রতিরক্ষা বিভাগের যুক্তি আসলেই এক পার্থক্য সৃষ্টি করবে। এখন এ প্রশাসনের নিকট থেকে এ স্বীকৃতি প্রয়োজন যে তারা বিশে^র সবচেয়ে দুর্বল লোকদের আশ্রয় প্রদানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য থেকে সরে যাবে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে যে মিলার উদ্বাস্তু প্রবেশ সংখ্যার সিলিং নির্ধারণে অটল। যারা এর বিরোধী তাদের প্রতিরোধ করতে তিনি সচেষ্ট। আজ মঙ্গলবারে বিষয়টি আলোচিত হবে। এ ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। (শেষ)



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ট্রাম্প


আরও
আরও পড়ুন