Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

দত্তনগর বীজ উৎপাদন খামারের ৩ কর্মকর্তা সহ ৪ জনকে সাময়িক বরখাস্ত

২কোটি টাকার ধান পাচার করে আত্মসাৎ করার চেষ্টার অপরাধে

মহেশপুর(ঝিনাইদহ)উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২:৩০ পিএম

বিএডিসি’র ঝিনাইদহের মহেশপুরের দত্তনগর বীজ উৎপাদন খামারের ৩ কর্মকর্তা সহ ৪ জনকে ২কোটি টাকার ধান পাচার করে আত্মসাৎ করার চেষ্টার অপরাধে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃতরা হলেন, গোকুল নগর খামারের উপপরিচালক তপন কুমার সাহা, করিঞ্চা খামারের উপ পরিচালক ইন্দ্রজিৎ চন্দ্র শীল, পাতিলা খামারের উপ পরিচালক আকাতারুজ্জামান তালুকদার ও যশোর শেখহাটি বীজ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রের উপপরিচালক মো. আমিন উদ্দিন।

২০১৮-১৯ উৎপাদন বর্ষে দত্তনগর খামারের আওতাধীন গোকুলনগর বীজ উৎপাদন খামার থেকে উৎপাদিত ১১৭ দশমিক ২৬০ মেট্রিক টন ও পাথিলা বীজ উৎপাদন খামার থেকে উৎপাদিত ৬৯ দশমিক ৫০০ মেট্রিক টন, মোট ১৮৬ দশমিক ৭৬০ মেট্রিক টন এসএল-৮ এইচ জাতের হাইব্রিড বীজ যশোর বীজ পক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, গোকুলনগর বীজ উৎপাদন খামার থেকে উৎপাদিত ৭৫ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন, পাথিলা বীজ উৎপাদন খামার থেকে ৩২ দশমিক ১১০ মেট্রিক টন ও করিঞ্চা বীজ উৎপাদন খামার থেকে ২২ দশমিজ ৩৫ মেট্রিক টন মোট অতিরিক্ত ১২৯ দশমিক ২২ মেট্রিক এসএল-৮ এইচ জাতের হাইব্রিড বীজ কোনো ধরনের চালান ছাড়াই যশোর বীজ পক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত মজুত করা হয়েছে।উল্লেখিত ধানের উৎপাদন ও মজুদের কোন রেকর্ড ফার্মে নেই মর্মে তদন্তে প্রমানিত হয়েছে।
বিএডিসির যশোর শেখহাটির বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত ১২৯ দশমিক ২২ মেট্রিক বীজ গোপনে বিক্রির জন্য মজুতের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। এ কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক আব্দুল কাদের এ কারচুপির কথা চিঠি লিখে বিএডিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেন।পরে সংবাদপত্রে বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি হয়।

কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করতে এসে সত্যতা পান ।বিএডিসির জিএম (বীজ) নুরুন্নবী সরদার ও অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (খামার) তপন কুমার আইচ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর বীজ উৎপাদন খামার পরিদর্শন করে তদন্ত করেন। এরপর প্রাথমিক ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন। এর পর বিএডিসির সচিব আব্দুল লতিফ মোল্লা সোমবার এক চিঠিতে তাদের সাময়িক বরখাস্তের এই আদেশ দেন।

লতিফ মোল্লার চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘উক্ত ধানবীজ অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেরা আত্মসাৎ করার জন্য সংরক্ষণ ও উৎপাদন বিষয়ক প্রকৃত তথ্য গোপন করেছেন মর্মে প্রতীয়মান হয়।’গত কাল মঙ্গলবার দৈনিক ইনকিলাবের অনলাইনে সংবাদটি প্রকাশিত হওয়াই বিষয়টি টক অবদা টাউনে পরিনত হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ