Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

শিক্ষাঙ্গনে ধর্ষণ রোধে দরদী মনের আকুতি

মুফ্তি আবদুল হক | প্রকাশের সময় : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

আদর্শ-আলোকিত মানুষ গড়ার কারখানা শিক্ষালয়ে সম্প্রতি ধর্ষণ, পাশবিক আচরণ, অপহরণ ও নৈতিক অবক্ষয় এবং ধর্ষণোত্তর মর্মান্তিক হত্যা, অমানবিক জুলুম-নির্যাতন অতীতের সকল রেকর্ডকে অতিক্রম করেছে। অপরাধ প্রবণতা ও যৌন নির্যাতন গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অবক্ষয় ও অশুচির ঢেউ আছড়ে পড়েছে আমাদের সমাজ-রাষ্ট্রের সর্বত্রে। শিশু ধষণ, নির্যাতণ অত:পর নির্মম হত্যার যে সকল চিত্র সম্প্রতি ফুটে উঠেছে, তাতে দেশের মিডিয়া জগতকে লজ্জাবনত করেছে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের এক জরিফ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এ বছরের প্রথম ছয় মাসে শিশু ধর্ষণ বেড়েছে ৪১ শতাংশ হারে। ২০১৮ সালে শিক্ষদের মাধ্যমে নির্যাতিত হয়েছে ১২৯ টি শিশু। শিক্ষকদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৭ টি শিশু। শারিরীক ভাবে নির্যাতিত শিশুর সংখ্যা ৭০ টি। যৌন হয়রানির শিকার ৩৩ টি। ধর্ষণ চেষ্টা করা হয়েছে ৭ জনের উপর। জরীপের বাইরে আরও থাকতে পারে। ছাত্রী ধর্ষন এবং অপহরণের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে উদ্বেগ জনক হারে।
বস্তত: স্কুল, কলেজ ভর্সিটির পবিত্র অঙ্গনকে অপবিত্রকারী, সন্তান-সন্ততিতুল্য ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি অশুভ-কুদৃষ্টি দানকারী বিদ্যা মীর জাফরদের তান্ডবে দেশ-জাতি আজ দিশে হারা-পাগলপারা। রাসূলের ঘর নামে খ্যাত মাদ্রাসার ইল্মী পার্কে কতিপয় ইথরদের বিশ^াস ঘাতকতায় ধার্মিক জনতা দস্তুর মতো তাজ্জব-বিস্ময়াপন্ন। শিশু শিক্ষা শিক্ষালয়ের কুসুম কাননে হিংস্্র নরপিচাশদের শঙ্কায় পিতা-মাতা উহ! যারপর নাই প্রাণ উষ্টাগত-আল্লাহর কাছে সিজদাবনত। ফলশ্রæতিতে অভিভাবক মহল আজ উৎকণ্ঠার উত্থাল তরঙ্গে সতরাচ্ছে। জন সাধারণ দুশ্চিন্তার মহা সাগরে নিমজ্জিত হয়েছে। আদুরে সন্তা-সন্ততিদের এ কাল বৈশাখী ও টর্ণেডোর চোবলে মা-বাবা যারপর নাই বিস্মিত-হতভম্ব। তুদুপুরী ছাত্রী অপহরণের উপর্যুপুরী ঘটনা কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে অবিভাবকদের মনে। হায়! যেখানে আলো সেখানে আধাঁর। যেখানে শান্তির সমাধান সেখানে অশান্তির দাবানল। যেখানে নিরাপত্তার দূর্গ সেখানে প্রতিনিয়ত জীবণ নাষের হুমকি। মানূষ যাবে কেথায়? বিদ্যালয় মাহা বিদ্যালয়ের স্টুডেন্টদের পিতা-মাতা কখন নেবে স্বস্তির নি:শ^াস? কোমলমতি শিশুদের বাবা-মার অস্থির মনে কে শুনাবে শান্তির বানী? কে মুছবে তাদের চোখের পানি? মাদ্রাসার ইলম পিয়াসুদের মাতা-পিতাকে কে দিতে পারবে একটুখানি প্রশান্তির অভয়? সরকারের একাধিক প্রশাসন না সরকার বাহাদুর স্বয়ং? কার জিমমায় অভিভাবকগণ ছেলে-মেয়ে ও নাতী-নাতনীকে নিরাপত্তাহীনতার অভয়ারণ্যে প্রেরণ করবে? এ অবস্থা চলতে থাকলে হয়ত: সেই প্রাচীন প্রথা; ঘরোয়া চৌহদ্দীর অভ্যন্তরে সীমিত পরিসরে শিক্ষা -দীক্ষার কার্যক্রম চালাতে হবে। তখন দেশের শিক্ষার হার সর্বনি¤েœ তলিয়ে যাবে। আর শিক্ষালয় গুলোর সুরম্য দালান-ইমারত সমূহ ছেলে-মেয়ে কে কবে নাগাদ কোলে নেবে-বুকে জড়াবে মৌন বোবা কান্নায় ক্রমান্বে নি:শেষ হয়ে যাবে। কেননা জাতি বিধ্বংশী এসিডর গতিধারা চলতে থাকলে বাঙ্গালী জাতি নিকট ভবিষ্যতে শিক্ষাঙ্গনের প্রতি আগ্রহ-উৎসাহ যে হারিয়ে ফেলবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
আমি একজন অসাম্প্রদায়িক দ্বীনি নাগরিক হিসেবে দেশ জাতির কারিগর আদর্শ শিক্ষক গণের প্রতি সম্মানের চাঁদর বিছিয়ে দিই। কিন্তু শিক্ষক নামের কলঙ্ক ও হায়নাদের আচরণ দর্শনে যারপর নাই বিস্মিত হই। শিক্ষাঙ্গনের ভাব গাম্ভীর্য পূর্ণ পবিত্রতা বিনষ্টকারীদরে কদর্য স্বভাব শ্রবণে সম্বিত হারিয়ে ফেলি। বিশেষত: নৈতিকতা ও সভ্যতার আধার মাদ্রাসায় কোন অবঞ্চিত ঘটনা বিস্ফোরিত হলে মনে হয় যেন মাথার উপর আসমান ভেঙ্গে পড়েছে। যে সব কুলাঙ্গার স্বীয় পঁচা স্বাভাবের ধুমায়িত অনলে রাসূলের ঘরকে ভস্ম ও ছারখার করেছে, তারা হায়! তুচ্ছ কামভাবের বসবর্তী হয়ে নবীজির মডেল শিক্ষালয় ‘সুফ্ফায়’ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। হাজী শরীয়তুল্লাহ, শামছুল হক ফরিদপুরী, শাহ জালাল, শাহ পরান, খান জাহান আলী, মুফতী আমীমুল এহছান, পীরজী, হাফেজ্জী, ড: শহীদুল্লাহ ও খতীব ওবাইদুল হক গণের কষ্টার্জিত ইসলামী তাহজীব-তামাদ্দুনের মার্যাদাপূর্ণ পাগড়ীকে ধুলোয় ধূসর করেছে। কোটি কোটি মানুষের ধর্ম বিশ^াসের মূলে আস্তার সংকট তৈরী করেছে। হায়! কাবাঘর থেকে কুফরী উদগীরণ হলে মুসলমানী থাকবে কোথায়?
নি¤েœ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সিনেট, গভর্ণিং বডি, পরিচালনা পর্ষদ ও শুরা কমিটির সদয় বিবেচনার সকাশে দরদী মনের আকুতি কতিপয় প্রস্তাবনা পেশ করা হলো।
১। কোন দায়িত্বশীল বা শিক্ষক একলা অবস্থানে থেকে কোন ছাত্রী বা শিশু-কিশোরকে আহবান করলে তিনজনের সমভিব্যাহারে উপস্থিত হতে হবে। কদাচ একজনের উপস্থিতি শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে প্রতিবিধান করা যেতে পারে।
২। কোন শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোন ছাত্রী বা শিশু-কিশোর কে কোথাও ভ্রমনে-বিচরণে নিতে পারবেনা। নচেৎ আইন লঙ্ঘনজনিত দোষে দোষী সাব্যস্ত করা হোক।
৩। মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রীরা পুরুষ শিক্ষকগণ থেকে অবশ্যই শরয়ী পর্দা অবলম্বন করতে হবে। পর্দা লঙ্ঘনকারিনীদেরকে আবশ্যিক শাস্তির আওতাভুক্ত করা হোক। এ প্রসঙ্গে মনে রাখতে হবে নেকাব পরিহিতাবস্থায় পুরুষের সাথে নিস্প্রয়োজনীয় বৈঠক ইসলামী সংস্কৃতির পরিপন্থি।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শিক্ষাঙ্গন

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
২৫ জানুয়ারি, ২০১৬

আরও
আরও পড়ুন