Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে উঠছে কুড়িল ফ্লাইওভার

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

রাজধানীর কুড়িল ফ্লাইওভারটি ক্রমেই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে উঠছে। ফ্লাইওভারের উপরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হলেও সেগুলো মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই। উপরে ময়লা ও বালির স্তুপ দিনের পর দিন জমে থাকলেও সেগুলো সরানোর কোনো পদক্ষেপ নেই। আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের কাছে এহের ময়লা নোংরা পরিবেশের একটি ফ্লাইওভার দেশের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। এ নিয়ে দৈনিক ইনকিলাবসহ একাধিক মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। বড় বড় গর্তের কারণে ফ্লাইওভারের উপরে কোনো যানই স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। শুধু তাই নয়, এসব গর্তে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনাও ঘটছে।

গতকালও সরেজমিনে দেখা গেছে, খিলক্ষেত থেকে ফ্লাইওভারের উঠায সময় বেশ কয়েকটি বড় বড় গর্ত। বৃষ্টির পানিতে সেগুলো দিন দিন আরও বড় হচ্ছে। কুড়িলের দিকে নামতে গেলে র‌্যাম্পের মাথায় বড় বড় গর্তে পানি জমে আছে। এ ছাড়া ফ্লাইওভারের সবগুলো র‌্যাম্পের মাথায় ও ঢালু অংশ ময়লা ও বালুর স্তর জমে আছে। বৃষ্টিতে সেগুলো কাদায় পরিণত হয়ে পুরো ফ্লাইওভারে ছড়িয়ে পড়ে। গত সোমবার বৃষ্টিতে ফ্লাইওভারে জমে থাকা বালুগুলো পুরো ফ্লাইওভারে ছড়িয়ে পড়ে পুরো পরিবেশকে নোংরা করে ফেলেছে।

২০১৩ সালের ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেন। সে সময় এটি ছিল দৃষ্টিনন্দন ফ্লাইওভার। ছয় বছরের মাথায় সব নান্দনিকতা হারিয়ে ফ্লাইওভারটি এখন যাত্রীদের কাছে অপরিচ্ছন্ন ও বিরক্তিকর হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে।
রাজউকের তত্ত্বাবধানে কুড়িল ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছে প্রজেক্ট বিল্ডার্স লিমিটেড। প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪৭ কোটি টাকায় রেল ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ১৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ফ্লাইওভারের লুপ চারটি। এগুলো হলো বনানী, কুড়িল, খিলক্ষেত ও পূর্বাচল প্রান্তে। সরেজমিনে দেখা গেছে, এ চারটি লুপের অধিকাংশ স্থান থেকে পিচ উঠে গেছে। পিচ উঠে যাওয়ায় ভেতেরর বালুও সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেই গর্তগুলোতে আবার কখনও বৃষ্টির পানি অথবা ময়লা জমে পুরো পরিবেশকে নষ্ট করে দিচ্ছে।

শুধু তাই নয় লুপের মাথায় জমে আছে বালু ও মাটির স্তুপ। লুপের ডানে-বামে ছোটবড় অনেক খানাখন্দ। কোনো কোনো গর্ত দেড় ফুট ছাড়িয়ে গেছে। বৃষ্টিতে পানি জমে যাওয়ায় সেই গর্তগুলোতে গাড়ির চাকা আটকে যাচ্ছে। নিয়মিত এ ফ্লাইওভার দিয়ে যাতায়াত করে এমন কয়েকজন বলেন, কুড়িল থেকে খিলক্ষেত যাওয়ার জন্য নিচ দিয়ে কোনো বিকল্প রাস্তা নেই। এ কারণে রাতে সব ধরণের যান এ ফ্লাইওভার ব্যবহার করে। বিশেষ করে বিভিন্ন মালামাল বহনকারী রিকশাভ্যানও ওঠে ফ্লাইওভারে। মানুষচালিত ভ্যানগুলো ফ্লাইওভারে উঠতে গিয়ে অনেক ধীরে চলে। তখন পেছনের দিকের গাড়ি আর স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে না। রিকশাভ্যানও ফ্লাইওভারে ওঠে অথচ তা দেখার কেউ নেই। একজন ভুক্তভোগি বলেন, রাতে ভ্যানগুলোর কারণে ফ্লাইওভারে যানজট লেগে থাকে। দীর্ঘ গাড়ির সারি এক পর্যায়ে লুপের বাইরেও চলে যায়। এ ছাড়া নির্মাণের পর থেকে কোনো প্রকার মেরামত না করার কারণে ফ্লাইওভারের জয়েন্টগুলো অনেক ফাঁকা হয়ে গেছে। এতে করে প্রতিটি জয়েন্ট অতিক্রমকালে গাড়িগুলো বড় ধরনের ঝাঁকুনি খায়। এতে শিশু, বৃদ্ধ ও রোগিদের অসুবিধা হয়। উত্তরখান এলাকার বাসিন্দা ইয়াসির বলেন, রাতে মোটর সাইকেল নিয়ে কুড়িল ফ্লাইওভারে চলা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ একদিকে বড় বড় গর্ত অন্যদিকে ফ্লাইওভারের জয়েন্টগুলোতে বড় গাড়িও লাফিয়ে ওঠে। একটু অসাবধান হলেই এখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আছে। তিনি বলেন, যারা নিয়মিত চলাচল করেন তাদের হয়তো একটা ধারনা আছে। কিন্তু কেউ নতুন হলে তার দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ায় আশঙ্কা অনেক বেশি। আর ফ্লাইওভারের উপরে একটা গাড়ি দুর্ঘটনায় পতিত হলে পেছনের গাড়িগুলোও আক্রান্ত হতে পারে।

ভুক্তভোগিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খোলা ট্রাকে মাটি ও বালি পরিবহনের সময় সেখান থেকে পড়ে পড়ে ফ্লাইওভারের উপরে এসব বালি-মাটি জমেছে। কখনো কখনো সিটি করপোরেশনের ময়লার ট্রাক থেকেও ফ্লাইওভারের উপরে ময়লা পড়ে। সেগুলো পরিস্কার না করায় ময়লার দুর্গন্ধে ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়ে।
ফ্লাইওভার ব্যবহারকারীরা জানান, সচরাচর এ ফ্লাইওভারের ওপরের অংশ পরিষ্কার করতে দেখা যায় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বৃষ্টিতে ধুয়ে গিয়ে যতটা পরিষ্কার হয় তার ওপর ভরসা করতে হয়। একজন মোটরসাইকেল চালক বলেন, ফ্লাইওভারে উঠতে এবং নামতে ঢালু। এছাড়া সাধারণ রাস্তার চেয়ে ফ্লাইওভার সরু। ফ্লাইওভারের রেলিং বা কিনারা ঘেঁষে যে বালু বা ভিজে যে কাদার সৃষ্টি হয়, তার ওপর চাকা গেলে স্লিপ করে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সম্পূর্ণ টোল-ফ্রি ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে কুড়িল ফ্লাইওভার নির্মাণে প্রথমে ২৫৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বেড়ে ৩০৩ কোটি হয়। প্রকল্পের পুরো অর্থ রাজউকের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হয়। ফ্লাইওভারটি রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্বও রাজউকেরই। কিন্তু তারা সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করায় দিন দিন ফ্লাইওভারটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।



 

Show all comments
  • ash ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৫:৪৫ এএম says : 0
    AI HOCHE BANGLADESH ER WNNOOON ER NOMUNA ! AK DIKE HAJAR KUTHI TAKA KOCHOROCH KORE DURNITIR MADDOME AKTA JINISH BANAY, BOSOR GURTEI OTAR CHOTLA WTHE GORTHO HOE EKAKAR, ABAR NOTUN KORE HAJAR HAJAR TAKA KHOROH KORTE HOY, EVABE HOLE DESHER KI VABE WNNOTI HOBE?? DESH TO KOTHAO JABE NA
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ফ্লাইওভার

২৯ আগস্ট, ২০১৯
৬ ডিসেম্বর, ২০১৭

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ