Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

উন্নয়ন এখন একটা জোকস : সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল

বিএনপির ১২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:০৭ এএম

সরকার যে উন্নয়ন উন্নয়ন বলে চিৎকার করছে, জিকির করছে সেটিকে একটি ‘জোকস’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আজকে কোথাও কোনো আইন নেই, কোথাও কোনো বিচার নেই, কোথাও কোনো গভর্নেন্স নেই। সব কলাপস হয়ে গেছে। সে কারণে তারা (সরকার) আজকে যতই চিৎকার করুক, উন্নয়ন, উন্নয়ন উন্নয়ন। এই উন্নয়ন একটা জোকস। এটা একটা গল্প। রূপকথার গল্প তৈরি করে করে ছাড়ে তারা। ভেতরে অবস্থা কী, সত্যিকার অর্থে তারা জানেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুরে নয়াপল্টনে যৌথসভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। কারণ তাকে বন্দি করা হলে শাসকগোষ্ঠীর লুটপাট করতে সুবিধা। এ জন্যই তাকে কারাবন্দি করা হয়েছে। কেননা বেগম খালেদা জিয়া হলেন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। যিনি সারাটি জীবন গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষের জন্য লড়াই করেছেন। নিজের জীবন বাজি রেখে কারো সাথে আপস না করে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। আজকে এসব কারণেই দেশনেত্রীর জামিন দেয়া হচ্ছে না। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। সরকার সচেতনভাবে সংবিধান লংঘন করে দেশ শাসন করছে। একই ধরনের মামলায় অন্য অনেকে জামিন পেলেও কেবল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হচ্ছে না।

বিএনপির অন্যতম এই নীতিনির্ধারক বলেন, এখানে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে তারা দলীয়করণ করেছে, করে ফেলা হয়েছে। এই যে আদালতের কথা বলা হচ্ছে- নিম্ন আদালতে কোনো সিদ্ধান্ত হয় না আইন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ছাড়া। এখন ওপরের দিকে আমাদের আস্থা ছিল এভাবে যদি আমরা একটা একটা ঘটনা দেখি জনগণের আস্থা সেখান থেকে আস্তে আস্তে কমে আসছে, আসা শুরু করেছে। তিনি বলেন, আজকে আমাদের ২৬ লাখ নেতাকর্মীর নামে ১ লাখের বেশি মামলা। অসংখ্য নেতাকর্মী গুম। যার মধ্যে এমপি ও জনপ্রতিনিধিও আছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে এমন কোনো নেতাকর্মী নেই যার নামে ৩০-৪০টি মামলা নেই! তাহলে এটা কিসের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র? আজ গোটা দেশের সমাজব্যবস্থা বিভক্ত করা হয়েছে। এভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে ফ্যাসিস্ট সরকার। আজ এতগুলো টিভি চ্যানেল কিন্তু জনগণের কথা কি তারা তুলে ধরতে পারছে? এককথায় দেশে কোনো সরকার নেই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বুধবার প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন যে, আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না, করলে বিএনপির অস্তিত্ব থাকত না। এ কথাটা বলতে উনি (প্রধানমন্ত্রী) কী এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, আসলে তারা অস্তিত্ব না রক্ষা করার জন্যই কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু বিএনপি নয়, বাংলাদেশে যাতে বিরোধী দল না থাকে, ভিন্নমত না থাকে, বিলীন হয়ে যায় তার জন্যই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করছেন।

এ প্রসঙ্গে ইতিহাস স্মরণ করে ফখরুল বলেন, যারা আমরা বয়স্ক মানুষ এদেশের ইতিহাস প্রথম থেকে দেখে এসেছি যে, ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। একইভাবে আজকে ভিন্ন কায়দায় একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠা করা হয়ে যাচ্ছে।

সড়ক দুর্ঘটনার লাগাম টানতে না পারার জন্য সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমাদের সেতু ও সড়কমন্ত্রী মহোদয় খুব সুন্দর সুন্দর কথা বলেন। তিনি বলেন যে, এখন সড়ক খুব নিয়ন্ত্রণে আছে। প্রতিদিন আপনার ১০-এর নিচে বোধহয় নেই যে, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ যাচ্ছে। আমি যেটা জানি, দূরপাল্লার যে কোচগুলো যায় নিয়ম হচ্ছে একটা গাড়িতে দুইজন ড্রাইভার থাকবে। ১০ ঘণ্টার পথ হলে একজন ৫ ঘণ্টা, আরেকজন ৫ ঘণ্টা চালাবে। এখন ঢাকা-ঠাকুরগাঁও রোডে যদি যায় এক ড্রাইভারই যাচ্ছে এবং সে আবার ওই রাতে ফেরত আসে। অর্থাৎ নির্ঘুম। এটা নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে কোনো কিছু করা হয়নি। সরকারের তরফ থেকে এই সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, কয়েক দিন আগে একটি পরিবারের তিনজন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। প্রথম দিন একজন, পরের দিন দুইজন। মা- মেয়ে একসাথে দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে। ফুটপাথের ওপর দাঁড়িয়ে আছে ওখানে গিয়ে মেরে দিচ্ছে। খোঁজ নিয়ে দেখেন এই গাড়ির মালিকানা সব সরকারদলীয় লোকজনদের অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনের।

এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে যৌথ সভা থেকে নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষে ১২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব। বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে সকাল ১১টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের এক যৌথসভা হয়। সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মো: মুনির হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ড্যাবের সভাপতি প্রফেসর ডা: হারুন আল রশিদ, মহাসচিব প্রফেসর ডা: আবদুস সালাম, মহিলা দলের সুলতানা আহম্মেদ, ওলামা দলের শাহ মুহাম্মদ নেছারুল হক, নজরুল ইসলাম, তাঁতি দলের আবুল কালাম আজাদ, মজিবুর রহমান, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহাতাব, আব্দুর রহিম, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, আবদুল হালিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ঘোষিত কর্মসূচি : যৌথসভায় গৃহীত কর্মসূচি হচ্ছে ১৫ সেপ্টেম্বর মৎস্যজীবী দল, ১৬ সেপ্টেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দল, ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁতি দল, ১৮ সেপ্টেম্বর অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স-বাংলাদেশ (এইবি), ১৯ সেপ্টেম্বর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), ২০ সেপ্টেম্বর যুবদল (দেশব্যাপী), ২১ সেপ্টেম্বর ওলামা দল, ২২ সেপ্টেম্বর মহিলা দল (দেশব্যাপী), ২৪ সেপ্টেম্বর কৃষক দল, ২৫ সেপ্টেম্বর শ্রমিক দল, ২৭ সেপ্টেম্বর এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) এবং ২৮ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন