Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১ হিজরী

আমরা পারফেক্ট নই ভুলত্রুটি থাকতে পারে

মন্ত্রিত্ব গেলে ‘সাংবাদিকতায় ফিরবেন’ ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০৩ এএম | আপডেট : ১২:০৯ এএম, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা ইতিবাচক রাজনীতি করি। আমাদের ভুলত্রুটি থাকতে পারে। আমরা পারফেক্ট নই, তবে আমরা এটা স্বীকার করি। এই সাহস আওয়ামী লীগের আছে। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপিরা জেলে গেছেন। ভুলত্রুটি আমাদের থাকতে পারে, কিন্তু এই দলে তার শাস্তি আছে। ওরাতো শাস্তি দেয় না, ক্ষমতায় থেকেও দেয়নি। কারণ শেখ হাসিনার মত সাহস কারো নেই।
গতকাল শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন জনগণের ক্ষমতায়ন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন। কাদের বলেন, নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মামলা করে ছাত্রদলের সম্মেলন বন্ধ হয়েছে। ছাত্রদলের সম্মেলন বন্ধে বিএনপির নেতৃত্বই দায়ী এতে আওয়ামী লীগের কোনো দায় নেই। বিএনপির নেতৃত্বের সঙ্কটই এর কারণ। মন্ত্রিত্ব হারালে রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতায় পেশায় ফিরে যাবেন বলে জানান তিনি।
এ সময় ছাত্রদলের সম্মেলন বন্ধ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রদলের সম্মেলন বন্ধ হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তারা মামলা করে সম্মেলন বন্ধ করেছে। এখানেও শেখ হাসিনার দোষ, আওয়ামী লীগের দোষ। যত দোষ নন্দ ঘোষ। এখানে আওয়ামী লীগের দোষ কি? বিএনপির যে সংকট সেটা তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংকট। তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বহিঃ প্রকাশ ছাত্রদলের সম্মেলন বন্ধ। এটা তাদের নেতিবাচক রাজনীতিরও বহিঃপ্রকাশ।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা ইতিবাচক রাজনীতি করি। আমাদের ভুলত্রুটি থাকতে পারে। আমরা পারফেক্ট নই, তবে আমরা এটা স্বীকার করি। এই সাহস আওয়ামী লীগের আছে। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপিরা জেলে গেছেন। ভুলত্রুটি আমাদের থাকতে পারে, কিন্তু এই দলে তার শাস্তি আছে। ওরাতো শাস্তি দেয় না, ক্ষমতায় থেকেও দেয়নি। কারণ শেখ হাসিনার মত সাহস কারো নেই।
গতকাল শনিবার ছাত্রদলের কাউন্সিলে কথা থাকলেও সংগঠনটির এক নেতার আবেদনে আদালত স্থগিতাদেশ আসায় তা আটকে যায়। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, সরকারের চক্রান্তেই ছাত্রদলের কাউন্সিলর বন্ধ করা হয়েছে। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ কেন ছাত্রদলের সম্মেলন বন্ধ করতে যাবে? ছাত্রদলের নেতাদের মামলার কারণে তাদের কাউন্সিল বন্ধ হল। এখানেও নন্দ ঘোষ শেখ হাসিনার দোষ, এখানেও নন্দ ঘোষ, আওয়ামী লীগের দোষ।
গত বৃহস্পতিবার আদালতের আদেশের আগে দিনভর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের পদচারণায় সরগরম ছিল নয়া পল্টনের বিএনপি কার্যালয়বৃহস্পতিবার আদালতের আদেশের আগে দিনভর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের পদচারণায় সরগরম ছিল নয়া পল্টনের বিএনপি কার্যালয়নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে মামলা করে সম্মেলন পন্ডু করেছে। এখানে আওয়ামী লীগ বা সরকারে এখানে দোষ কী?
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ছাত্রদলের এই সঙ্কটের জন্য বিএনপির নেতৃত্ব দায়ী। তাদের বিদ্বেষপ্রসূত রাজনীতি, তাদের নেতিবাচক রাজনীতি বিএনপিতে সঙ্কট তৈরি করেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের অর্জনই বাংলাদেশে বিরোধী দলের রাজনীতি করাকে সঙ্কটপূর্ণ করে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন কাদের। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার উন্নয়ন অর্জন দেখলে এই দেশে অনেকের আঁতে ঘা লাগে, যন্ত্রণা শুরু হয়। শেখ হাসিনার উন্নয়ন অর্জন ও তার অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা বাংলাদেশে বিরোধী রাজনীতির জন্য সঙ্কটের কালো ছায়া নামিয়ে এনেছে। আওয়ামী লীগের কেউ কেউ দুর্নীতিতে যুক্ত বলে স্বীকার করে নিয়েই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন কাদের। আমাদের দলের সবাই চকবাজারের ইমাম, একথা বলব না। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারের অনেক মন্ত্রী দুদকে হাজিরা দিচ্ছে, আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী জেলে আছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের খানিকটা উষ্মা প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা আজকের এমন একটি সুন্দর অনুষ্ঠানকে পত্রিকার শিরোনাম রাজনৈতিক করার জন্য ভিন্ন দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা প্রাসঙ্গিক না কেন? আজকের যেই অনুষ্ঠানে এসেছি, তাকে ভিন্ন দিকে নিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা সাংবাদিকতা করেন,আমিও আপনাদের অগ্রজ। মন্ত্রিত্ব গেলে আমি আবার সাংবাদিকতায় আসব। পঁচাত্তর পরবর্তীতে ছাত্রলীগের সভাপতি ওবায়দুল কাদের ৮০ এর দশকে শেখ ফজলুল হক মনি প্রতিষ্ঠিত দৈনিক বাংলার বাণীতে কাজ করতেন। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগেও সক্রিয় থাকেন তিনি। পরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ পেরিয়ে এখন দলটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন ওবায়দুল কাদের। শেখ হাসিনার ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের সরকারে যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী কাদের প্রায় একে দশক ধরে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।
অনুষ্ঠানে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী সংগঠনের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা জেলা এবং ১৭ সেপ্টেম্বর গাজীপুর জেলায় ‘জনগণের ক্ষমতায়ন দিবসের অনুষ্ঠান হবে। সারা দেশে জেলা-উপজেলায় কর্মসূচি পালন হবে ২৮ সেপ্টেম্বর।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাটের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন,আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আবুল বারকাত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে এ মোমেন, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ওবায়দুল কাদের


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ