Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

অভিযোগের পাহাড়ে শোভন-রাব্বানী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:৩৭ এএম

দেশের এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। চাঁদাবাজী, দলের বিভিন্ন কমিটির পদ বিক্রি বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানার অভিযোগ ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ থেকে বিতর্কিত এই দুই নেতাকে বাদ দেয়া হয়। দুই ছাত্রনেতা এখন বিতর্কের টক অব দ্যা কান্ট্রি। তাদের বিরুদ্ধে কার্যত অভিযোগের পাহাড়। প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে ‘মনস্টার’ অবিহিত করেছেন।

ছাত্রলীগের দায়িত্ব পাওয়ার পর ‘হল জীবনের’ সমাপ্তি ঘটিয়ে ফ্লাটে বিলাসী জীবন-যাপনে অভ্যস্ত শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে ছাত্ররা। গতকাল তাদের বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা যেমন তাদের বিচার দাবি করছেন, তেমনি অন্যান্য সংগঠন থেকেও তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি উঠেছে। এমনকি রাব্বানীর ডাকসুর জিএস পদ থেকে বহিস্কারের দাবিও উঠেছে। অবশ্য বিতর্কিত এই দুই ছাত্রনেতার পিছনে মূল দল আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা যেমন ছিলেন, তেমনি তাদের বিরুদ্ধে একাধিক নেতা শীর্ষ নেতৃত্বের কানভারী করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে শোভন-রাব্বানীকে সরকারের কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী- সংসদ সদস্য এবং সাংগঠনিক সম্পাদকরা মদদ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শোভন ও রাব্বানী বিরুদ্ধে নানা অভিয়োগের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের ক্ষোভ প্রকাশের খবরে তোলপাড় চলছিল কয়েকদিন ধরে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিস্তর লেখালেখিও হয়। বিতর্কিত নেতাদের সরাতে ও সংগঠনকে গতিশীল করতে ছাত্রলীগের আগাম সম্মেলনের দাবি তুলে ধরেন অনেকেই। শোভন ও গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলামের কাছে গিয়ে চাঁদা দাবি। এই দুই নেতা উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারের কাছ থেকে কমিশন আদায় করে দেয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও দু›জনই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগ নিয়েও আলোচনার ঝড় উঠেছে। আসুন জেনে নেই শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ। বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেয়া ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেন।

সম্মেলনের পরও একাধিক শাখায় কমিটি না দেয়া, বিলাসী জীবন, দুপুরের আগে ঘুম থেকে না ওঠা, গণমাধ্যমকর্মীদের এড়িয়ে চলা কিংবা ফোন না ধরা। সংগঠনের একাধিক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েও নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে উপস্থিত হওয়ার অভিযোগ।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নাল আবেদীন রাশেল অভিযোগ করেছেন গোলাম রাব্বানী তার কাছে কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার আগে বিপুল পরিমান টাকা দাবি করে। টাকা পেলে কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হবে না বলেও জানায়। কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের এক নেতার বক্তব্য সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। সেখানে বলা হয় সংগঠনের কমিটির বড় পদের জন্য ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শোভনের বিয়ের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দুই নেতার বিরুদ্ধে ওঠা সংগঠনের নেত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগও ওঠে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে নিজের কক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) লাগিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন গোলাম রাব্বানী। ছাত্রলীগের পদ পাওয়ার পর থেকেই শোভন ও রাব্বানী রাজধানীর কাঁঠালবাগান ও হাতিরপুলে যথাক্রমে ৭০ হাজার ও ৪০ হাজার টাকার ভাড়া ফ্লাটে জীবনযাপন শুরু করেন। গত বছর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরদিন থেকে রাব্বানী টয়োটা কোম্পানির নোয়া মডেলের একটি মাইক্রোবাস ব্যবহার করতে শুরু করেন। ছাত্রলীগের বিতর্কিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর উদ্দেশে এবার বিস্ফোরক বক্তব্য ছুড়ে দিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও রাব্বানীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠল। শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল এ অভিযোগ তুলেছেন। প্রেমঘটিত বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জের ধরে কমিটি বিলুপ্তের প্রায় সাত মাস পর শেখ রাসেল রাব্বানীর বিরুদ্ধে অর্থ দাবি ও টেন্ডার ভাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ তুলেছেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় শোভন ও রাব্বানীর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় দু›জনের কর্মকান্ডের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের অন্য নেতারাও বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। এ দিকে দায়িত্ব পাওয়ার পর শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসির) ডাচে আলাদা আলাদা মোটরসাইকেলে করে আসেন নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

টিএসসিতে বিক্ষোভ মিছিল
গত শনিবার মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের টিএসসিতে তারা বিক্ষোভ করেন। এসময় পদবঞ্চিতরা বলেন, যে অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে তার তদন্ত করে বিচার করতে হবে। শুধু পদ থেকে সরিয়ে দেয়াই তাদের একমাত্র শাস্তি হতে পারে না।

ছাত্রলীগের সাবেক কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক রাকীব হোসেন বলেন, সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নকারী ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়ায় বহিস্কৃতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিতে হবে। এর ঘণ্টা দুয়েক পর টিএসসি হয়ে শোভন-রাব্বানীকে বহনকারী গাড়ি এলিফোন্ট রোডের দিকে যাওয়া সময় তাদের পক্ষেও স্লোগান দেন কিছু শিক্ষার্থী। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া শোভন-রাব্বানীকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আনন্দ-উল্লাস করেছেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা।

ছাত্রলীগের কমিটির নতুন দায়িত্বশীলদের নাম ঘোষণার পরপরই ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার ছাত্রলীগের নেতাকর্মী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল শাখাগুলোর নেতাকর্মী টিএসসিতে জড়ো হতে থাকেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলামকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে ছাত্রলীগের একাংশের পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, এই দুই নেতা সদ্য পদ হারানো ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রব্বানীকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে নেতৃত্বে এসেছিলেন। গতকাল ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একাংশের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় তাঁরা ‘৪০ লাখের কমিটি—মানি না, মানব না’, ‘পকেট কমিটি মানি না, মানব না’, ‘টাকায় কেনা কমিটি মানি না, মানব না’ ইত্যাদি শ্লোগান দিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তাঁরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

বিতর্কের মুখে পদত্যাগপত্র
তীব্র বিতর্কের মুখে তারা পদত্যাগপত্র জমা দিলে তা গ্রহণ করা হয়। এর আগে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলা হয়। ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর গণভবনে দলীয় সভাপতির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ফেরত আসেন শোভন-রাব্বানী। এরই মধ্যে তাদের গণভবনে প্রবেশের স্থায়ী পাস স্থগিত হয়ে যায়। এরপর ভুল সংশোধনের সুযোগ চেয়ে ও ক্ষমাপ্রার্থনা করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি লিখেছিলেন গোলাম রাব্বানী। শুক্রবার ‘ভিসির কাছে চাঁদা দাবি- শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে আলোচনা নতুন মোড় নেয়। সারা দেশে ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের প্রতি নিন্দার ঝড় ওঠে। কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ ১ বছর না পেরোতেই শোভন-রাব্বানীর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ ওঠে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতাসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে নানা ধরনের নেতিবাচক কর্মকান্ডের কথা উঠে আসে। এর মধ্যে স্বেচ্ছাচারিতা, অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতা, নেতাকর্মীদের প্রত্যাশিত মূল্যায়ন না করা অন্যতম। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপেক্ষা, ফোন রিসিভ না করার অভিযোগও ছিল। এর বাইরে রাতজাগা ও দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা, কর্মসূচিতে বিলম্বে যাওয়া, প্রধান অতিথিদের বসিয়ে রাখা, জেলা সম্মেলন করতে না পারা, বিতর্কিতদের দিয়ে কমিটি গঠনের বিষয়ও এ তালিকায় রয়েছে।

ভিসির কাছে চাঁদা দাবি
তাদের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগও আছে। এসব দেখে-শুনে ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা শনিবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিতে বলেন।

বিলাসী জীবন
ছাত্রলীগ নেতাদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়শই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই উক্তিটি শেয়ার করেন, উচ্চ আদর্শ ও সাদামাটা জীবনযাপন, এই হোক তোমাদের আদর্শ। ছাত্রলীগের উদ্দেশ্যে তিনি বহুবার এই কথা বলেছেন। তবে আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে সদ্য পদ হারানো সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ক্ষেত্রে ভিন্ন ধারণা পাওয়া যায়।

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হলে থেকে সাধারণ জীবনযাপনেই অভ্যন্ত ছিলেন। কিন্তু, পদ পাওয়ার পরপরই তারা রাজধানীর কাঁঠালবাগান ও হাতিরপুলে যথাক্রমে ৭০ হাজার ও ৪০ হাজার টাকার ভাড়া ফ্লাটে জীবনযাপন শুরু করেন। যদিও ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের কোনো চাকরি অথবা ব্যবসায়ে জড়িত থাকার সুযোগ ছিলো না। রাব্বানীর দাবি, অবস্থান বিবেচনায় অবিশ্বাস্য মূল্যের হওয়া সত্ত্বেও হাতিরপুলের ২ হাজার ৬শ’ বর্গফুটের ওই ফ্লাট তিনি ভাড়া নিয়েছিলেন মাত্র ৪০ হাজার টাকায়। তিনি জানিয়েছেন যে, ২০১৫ সাল থেকে বাবা এবং ছোটভাই তার বাসাভাড়া দিয়ে আসছেন। গত বছর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরদিন থেকে রাব্বানী টয়োটা কোম্পানির নোয়া মডেলের একটি মাইক্রোবাস ব্যবহার করতে শুরু করেন। তিনি কীভাবে এই গাড়ির মালিক হলেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে রাব্বানি বলেন, মাইক্রোবাসের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করা হয়নি, কিস্তির টাকা বকেয়া রয়েছে। তবে সেই কিস্তির টাকা তিনি কী করে পরিশোধ করেন, তা জানাতে চাননি।

শোভনেরও এরকম একটি গাড়ি
বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকাকালীন ক্যাম্পাসের কোথাও যেতে হলে এই দুজন অন্য সবার মতোই রিকশা ব্যবহার করতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) রাব্বানী গতমাসে ডাকসু ভবনে তার নিজ কক্ষে একটি শীতাত নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) লাগিয়েছেন। এ বিষয়ে তার দাবি, এক শুভাকাঙক্ষী তাকে উপহার হিসেবে এসি লাগিয়ে দিয়েছেন।

সিলেট বিমান বন্দরে যা ঘটেছে
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন সিলেট থেকে ঢাকায় ফেরার পথে অনেক নেতাকর্মী নিয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন। এ সময় সেখানে তোলপাড় করা হয়। এ নিয়ে সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।
গত ৭ সেপ্টেম্বর দলের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার বোর্ডের সভায় ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি তাদের কমিটি ভেঙে দেওয়ার কথা বলেন। পরে শোভন-রাব্বানীর গণভবনে প্রবেশের স্থায়ী পাসও বাতিল করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে শোভন-রাব্বানীকে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।



 

Show all comments
  • Farhan Uddin ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:২৫ এএম says : 0
    এতো অভিযোগ থাকলে কি রাজনীতি করা যায়
    Total Reply(0) Reply
  • Tauhid Alom ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:২৫ এএম says : 0
    ভাই আর ধান কাটতে পারলো না। খুব দুঃখের বিষয়।
    Total Reply(0) Reply
  • Mahmuda Sultana Rubi ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:২৬ এএম says : 0
    ক্ষমতার অপব্যবহার করলে একদিন না একদিন তা ধরা পরবেই।লোভ মানুষকে ধ্বস করে।সততা নষ্ট করে। যার জলন্ত প্রমাণ শোভন -- রব্বানি
    Total Reply(0) Reply
  • Ferdhouse Rahman ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:২৬ এএম says : 0
    বেশী খাইলে হজম শকতির ঔষধাদি লাগে,না হলে গ্যাসের সমস্যায় ভুগতে হয়,
    Total Reply(0) Reply
  • Tahiya Afra ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:২৬ এএম says : 0
    পাপে বাপরে ছারে না
    Total Reply(0) Reply
  • Arif Uddin ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:২৬ এএম says : 0
    কোন অভিযোগ নেই ওরা সত্যিকারের সোনার ছেলে!
    Total Reply(0) Reply
  • Ln MD Zafar Ullah ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:২৭ এএম says : 0
    Really sad for them
    Total Reply(0) Reply
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:২৮ এএম says : 0
    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের টাকা ভাগাভাগির অভিযোগে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।
    Total Reply(0) Reply
  • সাইফুল কবির ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:২৮ এএম says : 0
    কারো পকেটে অনৈতিকভাবে পয়সা ঢুকলে, সেটা বের করে মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে সবচেয়ে বড় সফলতা। শুধু দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিলে, পয়সাতো পকেট থেকে সরবে না।
    Total Reply(0) Reply
  • msIqbal ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:২৮ এএম says : 0
    শোভন-রাব্বানীর পদচ্যুতি স্রেফ বাংলাওয়াশ!! চাঁদাবাজি এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ছাত্রলীগের পদ ছাড়তে বলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রকারন্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন যে শোভন-রাব্বানী অন্যায় করেছে, তারা অপরাধী। অপরাধ দমনের সত্যিকারের সদিচ্ছা থাকলে শুধুই পদচ্যুত না করে ছাত্রলীগ থেকে শোভন রাব্বানীকে বহিষ্কার করে তাদেরকে সহ ছাত্রলীগকে দেখভালের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের ৯ সদস্যের সিন্ডিকেটের প্রত্যেকেই আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন।
    Total Reply(0) Reply
  • তন্ময় ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:২৯ এএম says : 0
    চাঁদাবাজি ও নানা অনৈতিক কুকর্মের জন্য ছাটাই হওয়া ছাত্রলীগের নেতাদ্বয়ের বিরুদ্ধে কেন চাঁদাবাজির মামলা রুজু করা হইবেনা বলিয়া সু-মো-টো রুল নিশি জারি করা হোক!
    Total Reply(0) Reply
  • sarowar ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:৩৩ পিএম says : 0
    ওদের প্রত্যেকেই আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক!
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ছাত্রলীগ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ