Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

এবার জাবি প্রক্টর ও ছাত্রলীগ নেতার ফোনালাপ ফাঁস

জাবি সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:৩৫ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানির মধ্যকার টাকা লেনদেনের বিষয়ে একটি ফোনালাপ ফাঁসের পর এবার বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রক্টর ও শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হামজা রহমান অন্তরের ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে।

এই ফোনালাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিারোজ-উল হাসান রাব্বানি ও সাদ্দামের ফোনালাপ ফাঁস করার অভিযোগ আনেন অন্তরের বিরুদ্ধে। আর এই ফোনালাপের মাধ্যমে প্রক্টর হামজা রহমান অন্তরকে হুমকি দিয়েছে এমন অভিযোগ তুলে গণমাধ্যমকে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ পত্রে হামজা রহমান অন্তর বলেন,‘ আমি জাহাঙ্গীরনগর ব্শ্বিবিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির বৈধ ছাত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। গত (১৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট সম্পর্কে জানার জন্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ভাই হঠাৎ আমাকে ফোন দেন। একপর্যায়ে ক্যাম্পাস ও শাখা ছাত্রলীগের অর্থ কেলেঙ্কারীর অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আমি উক্ত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শাখা ছাত্রলীগের ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ভাইয়ের সাথে কথা বলিয়ে দেই। উক্ত ফোনকলের অডিও রেকর্ড আজ প্রকাশিত ও ভাইরাল হয়।’

এছাড়াও তিনি আরো বলেন,‘ আজ সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফিরোজ উল হাসান স্যার আমাকে ফোন দিয়ে ঐ ভাইরাল অডিও নিয়ে আমাকে হুমকির সুরে উনি বলেন আমি কেন অডিও ভাইরাল করছি এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-সম্মান নষ্ট করছে দাবি করে কাজটি ঠিক হয়নি বলেন ও আমাকে দুর্নীতির প্রমাণ দেখাতে হুমকি প্রদান করলে আমি বলি, “এটি জাহাঙ্গীরনগর ও দেশব্যাপী ওপেন সিক্রেট এবং আমাকেও টাকার ভাগ দেবার চেষ্টা করলে আমি প্রত্যাখ্যান করি। জাবির ৩৮ থেকে ৪৫ এর জুনিয়রেরাও টাকার ভাগ পেয়েছে”। উপরোক্ত কথা বলার পরে উনি আমতা-আমতা করে বিষয়টি স্বীকার করলেও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।

এমতাবস্থায়, আমি আমার শিক্ষা জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। আমার কোনো ক্ষতি হলে তার দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর বর্তাবে।

নিম্মে হামজা রহমান অন্তর ও জাবি প্রক্টরের মধ্যকার ফোনআলাপ সম্পূর্ণ নিম্মে তুলে ধরা হলো:

অন্তর: স্যার আসসালামুআলাইকুম

প্রক্টর: অন্তর, তুমি তোমার ফোন থেকে এমন একটা অডিও বানাইলা কেন?

অন্তর: স্যার আমি তো কিছু জানি না!

প্রক্টর: তোমার ফোন থেকেই তো কথা হয়েছে।

অন্তর: কথাতো হয়েছে দুই পক্ষ থেকে স্যার, আমার ফোন থেকে কিছু হয় নাই, স্যার এইটা শিউর থাকেন।

প্রক্টর: তুমিইতো কথা বললা, তোমার ফোন থেকেই তো কথা বলাই দিলা।

অন্তর: আমার ফোন থেকে কথা হইছে, কিন্তু ঐ পাশে তো রাব্বানি ভাই ছিলো। এখন রেকর্ডটা কি ঐ পাশ থেকে হইছে না কি গোয়েন্দা সংস্থা করছে সেটাতো আমি জানি না।

প্রক্টর: কবে তোমার সাথে এই কথা হইছে।

অন্তর: স্যার পরশু দিন রাতে যখন রাব্বানি ভাইদের কমিটি ভেঙে যাচ্ছিলো। তখন আমারে হঠাৎ করে ফোন দিছে রাব্বানি ভাই। তখন আমার সাথেই ছিলো। তখন আমি বললাম ভাই আমিতো বেশি কিছু জানিনা আপনি সাদ্দাম ভাই এর সাথে কথা বলেন। পরে সাদ্দাম ভাইর সাথে কথা বলল। কথা বলে আমার ফেনে তো লক দেওয়া আছে আমার ফোনে তো কিছু করার সুযোগ নাই। ফোন কাটার সাথে সাথেই ফোনটা আমার হাতেই চলে আসে।

প্রক্টর: কিন্তু তোমার ফোন থেকেই তো কথপোকথনটা রাব্বানির সাথে।

অন্তর: স্যার, আমার ফোন থেকে কথপোকথন কিন্তু ঐ পাশে তো রাব্বানি ভাই ছিলো।

প্রক্টর: রাব্বানির যদি এমন রেকর্ড থাকে তাহলে এতো দিন করে নাই কেন? এতো দিন তোমার সাথে কথা বলে আজকে সেটা পাবলিসড করতেছে কেন? ঐ দিন করতো, কালকে করতো। নিজের হাতে ক্ষমতা নাই বলে বিশ্ববিদ্যালয়টাকে নষ্ট করতে চায় কেন?

অন্তর: স্যার, আমি তো স্যার বেশি কিছু বলিনাই। স্যার, আপনি হয়তো শুনছেন। আমি ধরাই দিছি ফোনটা।

প্রক্টর: হ্যাঁ, তুমি ধরাই দিছো ফোনটা। কিন্তু আলটিমেটলিতো ফোনটা তো তোমার।

অন্তর: স্যার, আমার ফোনে ফোন দিতে পারে না স্যার? সে আমার নেতা না?

প্রক্টর: না ফোন দিতেই পারে। কিন্তু এই যে গল্পগুলো, এই গল্পগুলো আগে বলেনি কেন? যদি এই গল্পগুলো থাকে?

অন্তর: স্যার, এই গল্পগুলো তো এখন টক আব দ্যা টাউন। এটা তো অস্বীকার করারও কিছু নাই স্যার। জাহাঙ্গীরনগরের এইটা তো একটা চলমান ইস্যু। আমি কি এইটা অস্বীকার করবো। রাব্বানি ভাই যখন আমারে ফোন দিয়ে জিঙ্গাসা করছে আমি কি অস্বীকার করবো? সে আমার নেতা না?

প্রক্টর: তুমি কি অস্বীকার করবা, তোমাকে কি অস্বীকার করতে বলছি? তোমাকে তো আমি কিছু অস্বীকার করতেই বলি নাই। তুমি স্বীকার করবা অস্বীকার করবা সেটা তো তোমার ব্যাপার।

অন্তর: স্যার, আপনি তো ভালো করেই যানেন স্যার। আমি হয়তো বাহিরে একরকম বলবো কিন্তু আমার ঘরে যখন কেউ জিঙ্গাসা করেবে তখন তো আমি আর মিথ্যা বলবো না।

প্রক্টর: আমি তোমাকে তো সত্য-মিথ্যা বলতে বলছি না।

অন্তর: আমার ফোন থেকে কিছু হয় নাই স্যার। এইটা শিউর থাকেন।

প্রক্টর: কিন্তু এই যে সাদ্দাম যে কথা গুলো বলছে এই কথাগুলো কতটাকু ট্রু?

অন্তর: স্যার ট্রুর বিষয়টা তো স্যার জাস্টিফিকেশনের দায়িত্ব আমার না। রাব্বানি ভাই যদি সাদ্দাম ভাইর সাথে কথা বলতো সেটাও হয়তো ফাঁস হইতো। কিন্তু আমার ফোন থেকে কথা বলে ফাঁস হয়ে তো এটা কিছু আসে না। এই জিনিসটা তো স্যার সবাই জানে আপনি ও জানেন স্যার।

প্রক্টর: না, আমি বলি তোমাকে, ফোনটা যেহেতু তোমার দায়টা কিন্তু তোমাকেই নিতে হবে।

অন্তর: স্যার, ফোনআলাপ ফাঁস হয়না? নির্বাচনের আগে দেখেন নাই আওয়ামী লীগ নেতাদের.......

প্রক্টর: হ্যাঁ হয়। কিন্তু যেহেতু তোমার ফোনে করছে তুমি কি দায়টা এড়াইতে পারো?

অন্তর: স্যার, আমার কোনো দায় নাই স্যার, কারন আমি করি নাই স্যার।

প্রক্টর: তুমি করো নাই ঠিক আছে, কিন্তু ধর বিশ্ববিদ্যারয়ের পেছনে এত বড় ষড়যন্ত্র..... ওর অস্তিত্বে টান পড়ছে সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এরকম করবে সে?

অন্তর: বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ষড়যন্ত্র বিষয়টা এরোকোম না স্যার। ছাত্রলীগ নিয়েও তো স্যার ষড়যন্ত্র চলতেছে স্যার। গত চার পাঁচ দিন ধরে। এখন স্যার .........

প্রক্টর: এইটা তো জাহাঙ্গীরনগরের ইস্যুর সাথে না তাদের বিরুদ্ধে তো পুরা গ্লোবাল ইস্যু আছে।

অন্তর: স্যার, আমি জাহাঙ্গীরনগরে না পড়লেও ছাত্রলীগ করতাম স্যার। আমার কাছে স্যার ছাত্রলীগ আগে।

প্রক্টর: সেটা তোমাকে আমি বলি নাই। ছাত্রলীগ আগে ভালো কথা। কিন্তু এখন জাহাঙ্গীরনগরে যেহেত পড় জাহাঙ্গীরনগর ছাত্রলীগ করো।

অন্তর: জাহাঙ্গীরনগর ছাত্রলীগ তো আর জাহাঙ্গীরনগরের সাথে তৈরি হয় নাই। এইটা সেন্ট্রাল ছাত্রলীগ এর একটা ইউনিট।

প্রক্টর: তুমি কিন্তু উল্টা দিকে কথা বলতেছো অন্তর।

অন্তর: না স্যার,আমি লজিকাল কথা বলতেছি স্যার, আমি আমার বাহিরের লোক জিঙ্গাসা করলে আমি একটা কথা বলবো কিন্তু ঘরের লোক জিঙ্গাসা করলে আমি কি স্যার উল্টা-পাল্টা কথা বলবো? আমি কি বলবো যে ভাই হ্যাঁ এরকম কিছু ঘটে নাই।

প্রক্টর: আমি তোমারে বলি, তুমি জাহাঙ্গীনগরে যদি না পড়তা জাহাঙ্গীনগরের ছাত্রলীগ হিসাবে কিন্তু ইস্টাবলিস হতে না। জাহাঙ্গীরনগর ছাত্রলীগ হিসাবেই তোমার পরিচয়।

অন্তর: স্যার, ক্যাম্পাসের ৪৪-৪৫ পর্যন্ত টাকা পাইছে স্যার, আমি এটা গোপন রাখার কে স্যার?

প্রক্টর: আচ্ছা তোমাদের কে টাকা দিলো আর কে টাকা দেয় নাই সেটা দেখার দায়িত্ব কি আমার?

অন্তর: স্যার আমাকেও তো টাকা সাধছে আমি তো নেই নাই স্যার।

প্রক্টর: না তোমাকে কে সাধছে না সাধছে সেটা তো আমি জানি না। কে দিয়েছে সেটা দেখার দায়িত্ব আমার নাকি।

অন্তর: স্যার আপনি যদি চান আমি আপনাকে প্রমাণ দেখাতে পারবো স্যার। ৪৪-৪৫ ব্যাচ ও টাকা পাইছে স্যার।

প্রক্টর: আরে বাবা এইটা নিয়ে কেন তুমি পড়ে আছো? টাকা কে দিছে আমি তো সেটা জিঙ্গাসা করছি না। সাদ্দাম কি বলতে পারবে ও টিচার দের কাছে টাকা পেয়েছে ? বলতে পারবে ও কোথাও?

অন্তর: স্যার সেটা সাদ্দাম ভাইর বিষয়। আমি তো বেশি কিছু বলি নাই আমি তো ঢাইরেক্ট..........

প্রক্টর: তাহলে এখন মনে কর আমাকে যদি থার্ড পারসন বা অন্য কেউ টাকা দিয়ে দেয় সেটার দায়িত্ব কি টিচার দের নাকি।

অন্তর: স্যার আপনি কি ফোন কলটা খেয়াল করছেন কিনা আমি কিন্তু বেশি কিছু বলি নাই।

প্রক্টর: আমি জানি। ফোনটা তুমি শুরু করাই দিসো এইটুকুই না তুমি ফোনটা করসো না তোমাকে ফোন করেছে..........

অন্তর: আমাকে ফোন করছে স্যার। আমি ফোন করলে এক রকম কথা থাকতো, আর আমাকে ফোন করে জিঙ্গাসা করলো কে দিসে টাকা?

প্রক্টর: হ্যাঁ তখন তুমি বলছো আমার পাশে সাদ্দাম ভাই আছে উনার সাথে কথা বলেন।

অন্তর: হ্যাঁ, আমারে ফোন করছে স্যার, এখন আমারে সে ফোন দিয়ে তো স্যার সেতো কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি।

প্রক্টর: ৪৪,৪৫ টাকা পাইছে কিনা সেটা আমার দেখার বিষয় না, সাদ্দাম কি বলতে পারবে উপাচায টাকা দিয়েছে?

অন্তর: সেটা সাদ্দাম ভাই জানে স্যার। সাদ্দাম ভাই যেহেতু দায়িত্ব নিয়ে বলছে সে ঐ যায়গায় ছিলো এইটা উনার ব্যাপার।

প্রক্টর: সে দায়ীত্ব নিয়ে বলতে পারবে উপাচার্য টাকা দিয়েছে?

অন্তর: সেটা সাদ্দাম ভাই জানে আমি তো বলতে পারবো না।

প্রক্টর: ঠিক আছে অন্তর।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ