Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

রিফাত হত্যাকান্ড নতুন ভিডিও ভাইরাল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকান্ডের আরেকটি নতুন ভিডিও পাওয়া গেছে। ভিডিওটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
নতুন ভিডিওটি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সিসিটিভিতে ধারণ করা। এতে দেখা যায়, বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে আহত করার পর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি একাই রক্তাক্ত অবস্থায় রিফাতকে রিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের সামনে স্থাপনকৃত সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, গত ২৬ জুন সকাল ১০টা ২১ মিনিটে মিন্নি একাই একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় রক্তাক্ত ও অচেতন রিফাতকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে যান। এ সময় মিন্নির ডাকে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মামুন নামে এক যুবক রিফাত শরীফকে বহন করা রিকশার দিকে দৌঁড়ে আসেন। রিফাতের অবস্থা দেখে হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে একটি স্ট্রেচার নিয়ে রিকশার পাশে আসেন মামুন।
এ সময় সেখানে উপস্থিত অনেকেই এগিয়ে আসেন। এরপর রিকশা থেকে নামিয়ে অচেতন রিফাতকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। হাসপাতালের সামনে উপস্থিত একজনের ফোন নিয়ে কল দিয়ে কারও সঙ্গে কথা বলেন মিন্নি। তখনো মিন্নির জামায় রক্ত লেগেছিল। এরপর হাসপাতালের ভেতরে যান তিনি। এর কিছু সময় পর মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর ও চাচা আবু সালেহ হাসপাতালে আসেন।
এরপর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে হাসপাতালের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স আসে। সেখানে রিফাতের বন্ধু মঞ্জুরুল আলম জন ও তার কয়েকজন বন্ধু হাসপাতালের সামনে আসেন। তখন কিছু সময় ফোনে কথা বলেন জন। পরে অ্যাস্বুলেন্সটি হাসপাতালের সামনে এনে রিফাতকে বরিশাল নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়। ১০টা ৪৪ মিনিটে অক্সিজেন ও দুটি স্যালাইন লাগানো অবস্থায় রিফাত শরীফকে স্ট্রেচারে করে ওই অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। রিফাতকে বহন করা অ্যাম্বুলেন্সটি ১০টা ৪৯ মিনিটে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সামনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একটি ও বরগুনা জেলা পুলিশের একটি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। তবে নতুন ভিডিওটি কোন ক্যামেরায় ধারণ করা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসা দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন বরগুনার সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র টেকনিশিয়ান সুভাষ চন্দ্র।
সুভাষ চন্দ্র বলেন, রিফাতকে যখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয় তখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। রিফাতের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। বিশেষ করে তার বাম পাশের ফুসফুস ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দ্বিখন্ডিত হয়ে যায়। এ কারণে সব ব্যবস্থা করেও তার জীবন সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে রক্ত দেয়া হয়নি। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রিফাতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসক।
এ বিষয়ে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, হাসপাতালের সামনের ভিডিওটি আমিও পেয়েছি। স্বামী রিফাত শরীফকে বাঁচাতে মিন্নি যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে তা কলেজের সামনের ভিডিও এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণের ভিডিওতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। আমি শুরু থেকেই বলে এসেছি আমার মেয়ে এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত নয়। আমার মেয়েকে ষড়যন্ত্র করে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। আমার মেয়ে নির্দোষ। আমার মেয়ে ষড়যন্ত্রের শিকার।
তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেই কলেজের সামনের ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের সামনের ভিডিওটি গোপন করার চেষ্টা করা হয়ছে। কিন্তু তা পারেনি তারা। এরকম আরও একটি ভিডিও আমার সন্ধানে আছে। আমি ওই ভিডিওটিও উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি।
মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী বলেন, নতুন ভিডিওটি আমি দেখেছি। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় স্বামীকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন মিন্নি।
তদন্ত কর্মকর্তার তদন্তে কী আছে সেটা আমি এখনো দেখিনি। কারণ আদালতে দেয়া পুলিশের অভিযোগপত্রের কপি আমরা এখনো পাইনি। তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ যদি এই ভিডিওর বিষয় উল্লেখ না করে তবে তদন্ত প্রতিবেদনটি ত্রুটিপূর্ণ হবে।



 

Show all comments
  • Sohel Rana ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২:৩১ এএম says : 0
    এখন বোঝা যাচ্ছে মিন্নিকে ব্যবহার করে এমপি পুত্রের কার্য হাসিল করা হয়েছে। আপনারাই বলেন কথা ঠিক কিনা, নাকি কথার মাঝে কোন ভেজাল আছে?
    Total Reply(0) Reply
  • Sony Sarkar ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২:৩২ এএম says : 0
    ঘটনা ঘটিয়ে দেবার পর জাস্ট অনুশোচনায় নিয়ে আসছে, হসপিটালে। তাই বলে সে অপরাধী না,, এটা মানলে হত্যা কারি মাস্টারমাইন্ড মুক্তি পেয়ে যাবে। মিন্নীর অপরাধী, ১০০% এমপি পুএ যদি দুষি হয় তাকেও বিচারের আওতায় আনা হোক।
    Total Reply(0) Reply
  • শেষ যুদ্ধ ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২:৩২ এএম says : 0
    আগে হুমায়ুন ফরিদির রাজিবের অভিনয়ে এই সব দেখতাম নিজেই হত্যা করে আবারও নিজেই মায়াকান্না করে।
    Total Reply(0) Reply
  • Kutub Uddin Aftab ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২:৩২ এএম says : 0
    মিন্নিই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড । মিন্নির এই কাজটা ঠিক গাছের গোড়া কেটে আগায় পানি ডালার মতো । সন্ত্রাসী ডেকে স্বামীকে মাইর খাওয়াইয়া শেষে মেডিকেলে ভর্তি করাইয়া নির্দোষ সাজার চেষ্টা । মিন্নির মৃত্যুদন্ড কামনা করছি ।
    Total Reply(0) Reply
  • Ab Sobhan ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২:৩৩ এএম says : 0
    মিননীতো এইটা আগেও বলছিলো।কিনতু ওর কথা কেউ আমলে নেয় নি
    Total Reply(0) Reply
  • Kutub Uddin Aftab ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২:৩৩ এএম says : 0
    ভিডিওতে মিন্নিকে দেখেছি রিক্সায় রিফাতের পাশে বসে তাকে মেডিকেল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে কিন্তু মিন্নির চেহারায় কোনরকম উদবেগ বা আফসুসের কোনো রকম চিহ্ন মাত্র ছিলোনা। সে নিজেকে বাঁচানোর জন্য সবই করেছে বাধ্য হয়ে ।
    Total Reply(0) Reply
  • Kamrul Hasan ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২:৩৩ এএম says : 0
    মিন্নি নির্দোষ নয়। নয়ন বন্ডের সাথে কথা হয়েছিল রিফাতকে মেরে আহত করার, যাতে রিফাত ভয় পেয়ে পিছু হটে। কিন্তু একেবারে মেরে ফেলবে তা মিন্নি বুঝেনি। গডফাদার সুনাম দেবনাথেরও বিচার চাই।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ