Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

সমুদ্রের ঢেউয়ের বিপুল শক্তির রহস্য

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:১১ পিএম

সমুদ্রের ঢেউ অধিকাংশ মানুষেরই মন ভালো করে দেয়। অনেকে সেই পানিতে গা ভাসাতে ভালোবাসেন। কেউ বা করেন সার্ফিং। কিন্তু পদার্থবিদ্যার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ঢেউয়ের সংজ্ঞা ও এর কাজের খবর কজন রাখেন?

পর্তুগালের আটলান্টিক উপকূলে সার্ফাররা ছোট-বড় সব রকম ঢেউ উপভোগ করতে পারেন। আন্দ্রেয়াস হেগার পেশায় পদার্থবিদ্যার শিক্ষক। সার্ফিং নিয়ে তাঁর বিশাল উৎসাহ। পদার্থবিদ হিসেবে তিনি আদর্শ পরিস্থিতি কাজে লাগান। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ঢেউ আসলে কী? আন্দ্রেয়াস মনে করিয়ে দিলেন যে ঢেউ আসলে এমন এক শক্তি, যা স্থানান্তরিত হয়। তিনি একটি তোয়ালে ঝাঁকিয়ে দেখিয়ে দিলেন যে ঢেউ তোয়ালেজুড়ে ছড়িয়ে গেল। এ ক্ষেত্রে ঝাঁকানোর ফলে সৃষ্টি হওয়া শক্তি স্থানান্তরিত হলো।

কিন্তু তোয়ালের মধ্যে ঢেউয়ের সঙ্গে পানির ঢেউয়ের মিল কোথায়? মিল অবশ্যই আছে। তোয়ালে হোক অথবা পানি, ঢেউ কিন্তু ভর নয়। শুধুই শক্তি, যা স্থানান্তর করা হয়। সৈকতে ঢেউয়ের সেই চরিত্র বোঝা যায় না। এ ক্ষেত্রে পানি আসলে শুধু পরিবহনের মাধ্যম।

সার্ফাররা যখন তাঁদের বোর্ডের ওপর অপেক্ষা করেন, এটা অনেকটা সে রকম। পানির অণুও সেভাবে খুব কম নড়াচড়া করে। ঢেউ অবশ্য আরো দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলে। সমুদ্রে ঢেউ সৃষ্টিকারী এ শক্তি কোথা থেকে আসে? জোয়ার-ভাটা অবশ্যই এর অন্যতম কারণ। চাঁদের প্রভাবে সমুদ্রের পানি সব সময় চলমান অবস্থায় থাকে। চাঁদের অভিকর্ষের ফলে জোয়ার ও ভাটা হয়। তখন ঢেউয়েরও সৃষ্টি হয়। তবে মূলত বাতাসের সাহায্যেই ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। বাতাসের শক্তি ও তার স্থায়িত্ব এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ বাতাসই পানির অণুগুলোকে গতিশীল করে তোলে। ঠিক হেয়ার ড্রাইয়ার যেভাবে কৃত্রিম বাতাস সৃষ্টি করে ঢেউয়ের জন্ম দিতে পারে।

মহাসাগরের মধ্যে সৃষ্টি হওয়ার পর ঢেউ প্রায়ই সারা দিন ধরে কয়েক শ কিলোমিটার যাত্রা করে উপকূলের দিকে ধেয়ে যায়। দীর্ঘ ও চ্যাপ্টা পানির ঢেউ ছোট ও উঁচু ঢেউয়ের তুলনায় আরো দ্রুত এগিয়ে যায়। কারণ সেগুলো নিজস্ব শক্তিতেই রাশ টানতে পারে। ঢেউয়ের মধ্যে পানির অণু চক্রাকার হয়ে ঘুরতে থাকে। এ চক্রাকার ঘূর্ণন পানির আরো গভীরেও চলতে থাকে। পানি যত গভীর হয়, অণুগুলোর কক্ষপথ ততই ছোট হতে থাকে। ঘূর্ণমান পানির কণাগুলো যখন সমুদ্রের তলদেশে মাটির ওপর আছড়ে পড়ে, তখন তাদের গতি থমকে যায়। এর প্রভাবও টের পাওয়া যায়। তখন শ্যালো ওয়াটার ওয়েভ সৃষ্টি হয়। সার্ফিংয়ের উপযুক্ত ঢেউও আসলে শ্যালো ওয়াটার ওয়েভ।

নিচের পানির অণু সমুদ্রের তলদেশে থমকে গেলেই সেই অবস্থা সৃষ্টি হয়। ওই সময় ওপরের কণাগুলো বিনা বাধায় ঘুরতে থাকে। এর ফলে লাগামহীন পানির অণুগুলো আরো বেশি ওপরের দিকে ধেয়ে যায়। সার্ফিংয়ের উপযুক্ত ঢেউ তখন সমুদ্রতীরে এসে ভেঙে পড়ে। সার্ফারদের জন্য সেটা হলো আদর্শ অবস্থা।

তবে আদর্শ ঢেউ কিন্তু সময় মেনে চলে না। সে কারণে আন্দ্রেয়াস হেগার সন্ধ্যাবেলায়ও পানির ওপর কেরামতি দেখাতে থাকেন।

সূত্র : ডয়চে ভেলে।



 

Show all comments
  • মোয়াজ্জেম হোসেন ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:০৫ পিএম says : 0
    পৃথিবীতে সমুদ্র ডেউয়ের সাথে চাঁদের কোন সম্পর্ক নেই। সমুদ্র ডেউয়ের শক্তি হলো বাতাস, বাতাস থেকে সমুদ্রে ডেউয়ের উৎপত্তি হয়। আর বাতাসকে পরিচালনা করেন স্রষ্টা।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পরিবেশ

১৭ অক্টোবর, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ