Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

হিন্দিকে জাতীয় ভাষা, দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়া

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিন্দিকে জাতীয় ভাষা হিসেবে গ্রহণের যে ডাক দিয়েছেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সেটা তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ এমনকি হিন্দিকে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে আন্দোলন করারও হুমকি দিয়েছেন। ১৪ সেপ্টেম্বর হিন্দি দিবস উদযাপনের সময় শাহ হিন্দিকে জাতীয় ভাষা হিসেবে গ্রহণের ইঙ্গিত দেন। দক্ষিণাঞ্চলের কেরালা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনারায়া বিজয়ান পুরো দেশে হিন্দিকে গ্রহণের প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি এটাকে “ভাষার নামে দেশে আরেকটা বিতর্ক তৈরি এবং বড় বড় ইস্যুগুলো থেকে মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন”। হিন্দি যদিও দেশের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ভাষা এবং ৪২২ মিলিয়ন মানুষ এই ভাষায় কথা বলে, তবে ১.৩ বিলিয়ন মানুষের এই দেশে আসলে ২২টি অফিশিয়াল ভাষা রয়েছে। শাহ বলেন, “সাংস্কৃতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য একটি অভিন্ন ভাষা থাকাটা গুরুত্বপ‚র্ণ। এমনকি গান্ধিজী ও সর্দার প্যাটেল যারা ঐক্যবদ্ধ ভারতের জন্য কাজ করেছিলেন, তারাও হিন্দিকে জাতীয় ভাষা হিসেবে গ্রহণের আহŸান জানিয়েছিলেন”। এই স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে বিতর্ক উসকে দেয়ার জন্য বেশ কিছু বিরোধী দলের নেতা শাহের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিরোধী কংগ্রেস পার্টির মুখপাত্র আনন্দ শর্মা বলেন, “ভারতের সংবিধান প্রণেতাদের পরিপক্কতার মাধ্যমে যে বিষয়টির সমাধান হয়ে গেছে, সেই আবেগ-ঘনিষ্ঠ ও স্পর্শকাতর বিষয় কোন বিতর্ক তৈরি করা উচিত নয় আমাদের”। দক্ষিণ তামিলনাড়ুতে বিরোধী দ্রাবিড়া মুন্নেতরা কাজাগাম বা ডিএমকে দলের নেতা এম.কে স্ট্যালিন এবং অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা কমল হাসান এ ধরণের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন। ডিএমকে নেতা এম.কে স্ট্যালিন বলেছেন, “হিন্দিকে আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়াকে থামানোর জন্য যে কোন ধরণের ত্যাগের জন্য প্রস্তুত আছে ডিএমকে”। তিনি তার নেতা কর্মীদেরকে হিন্দি-বিরোধী আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহŸান জানান। কমল হাসান সোমবার এক ভিডিও বার্তায় সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, “আমরা সব ভাষাকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আমাদের মাতৃভাষা সবসময়ই হবে তামিল। জাল্লিক্কাট্টু (ষাঁড়ের দৌড়-বিরোধী আন্দোলন) ছিল সামান্য প্রতিবাদ মাত্র। সব ভাষার জন্য আন্দোলন হবে আরও অনেক বড়। ভারত বা তামিলনাড়ুর এ ধরনের যুদ্ধে না জড়ানোই ভালো”। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় কেমিক্যালস ও ফার্টিলাইজার মন্ত্রী ও বিজেপির কর্নাটকের সিনিয়র নেতা ডি.ভি সদানন্দ গৌড় এইসব সমালোচনার পাল্টা জবাব দিয়ে বলেছেন, হিন্দি আসলেই ঐক্যবদ্ধ করার ভাষা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল মুখপাত্র বলেছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তার বক্তব্যে যে ধারণা ও তথ্য দিয়েছেন, সে ব্যাপারে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে দক্ষিণ ভারতের মিডিয়ার একাংশ। এসএএম।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন