Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১ হিজরী

স্বাস্থ্য সচিবের নিজ জেলার সদর হাসপাতালটি রোগীর অসহ্য ভারে নিজেই কাহিল

এক’শ বেডের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি ৪২০ মানবিক বিপর্যয়ের আশংকা

ঝিনাইদহ থেকে মোস্তফা মাজেদ | প্রকাশের সময় : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৩:৪২ পিএম

রোগীর অসহ্য চাপে স্বাস্থ্য সচিবের নিজের জেলা সদরের হাসপাতালে মানবিক বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। এক’শ বেডের হাসপাতালে বুধবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন ৪২০ জন রোগী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের না পারছে কোন বেড দিতে, না পারছে খাবার দিতে। খাবার না পেয়ে রোগীরা প্রায় প্রতিদিন হৈচৈ করছে। এদিকে বহির্বিভাগে রোগীর অসহ্য চাপ। গতকাল বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ১২৫৯ জন। জরুরী বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণ করে বাড়ি ফিরে গেছেন ৮৫ জন।

হাসপাতালটি সরেজমিন পরিদর্শন করে বুধবার অপ্রতুল চিকিৎসা ব্যবস্থার এই নাজুক চিত্র দেখা গেছে। হাসপাতালের সাধারণ বেড ও কেবিন ছাড়াও মেঝে, বারান্দা ও সিড়িঘরে বিছানা পেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। রোগী আর স্বজনদের আনাগোনায় তিল ধরানোর ঠাঁই নেই হাসপাতালের কোথাও। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর এ ধরণের রোগীর চাপ দেখা যায়নি বলে মনে করছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে সাধারণ বেড রয়েছে ৭০টি। পেয়িং বেড এবং কেবিন রয়েছে আরো ৩০টি। এর মধ্যে বুধবার পর্যন্ত দেখা গেছে ৯টি মহিলা মেডিসিন বেডের বিপরীতে ভর্তি হয়েছেন ৮৭ জন, মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ৯টি বেডের বিপরীতে ৩৬ জন, ৮টি শিশু বেডের বিপরীতে ১১৯ জন শিশু, ৫টি ইওসি বেডের বিপরীতে ৮৪ জন গর্ভবতী নারী, ডায়রিয়া ৬টি বেডের বিপরীতে ২০ জন, পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ১৫টি বেডের বিপরীতে ৩৯ জন এবং পুরুষ সার্জিরী বিভাগে ১৮টি বেডের বিপরীতে ৭১ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার আরতি রায় জানান, নার্স সংকটের মধ্যে এ ধরণের রোগীর চাপে আমরা হাফিয়ে উঠছি। এ ভাবে সুষ্ঠ সেবা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন শত শত নতুন রোগীর চাপে চিকিৎসক ও নার্সদের মন মানসিকতা স্বাভাবিক থাকছে না বলে নার্সদের অনেকেই মনে করেন। তাদের ভাষ্য দীর্ঘদিন নাসিং সুপার ভাইজারের পদ খালী।

ভারপ্রাপ্ত দিয়ে এই পদ চালানো হচ্ছে। সেবা তত্বাবধায়কের পদ খালী থাকায় নার্সরা ছুটি নিতে এখানে সেখানে দৌড়াদৌড়ি করছেন। হাসপাতালের পরিসংখ্যান অফিসার আব্দুল কাদের জানান, ৪০ জন চিকিৎকের মধ্যে হাসপাতালে ২২টি পদে ডাক্তার রয়েছে। এরমধ্যে ৮ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। বাকী পদ বছরের পর বছর শুন্য থাকছে। তিনি বলেন, আউটডোর ও ইনডোরে রোগীর এই ভয়াবহ চাপে হাসপাতালে কর্মরত প্রায় সবাই নাকাল। আড়াই’শ বেডের বিল্ডিং হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত এই বেহাল দশা ভোগ করতে হবে বলে চিকিৎসক ও নার্সরা মনে করনে। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ আইয়ুব আলী জানান, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একটি মাত্র পথ হচ্ছে শুন্য পদে অতি সত্তর নিয়োগ ও নতুন ভবনের নির্মান কাজ দ্রুত শেষ করে হস্তান্তর করা। তা না হলে রোগীদের এই চাপ সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে। উল্লেখ্য বর্তমান স্বাস্থ্য সচিব মোঃ আসাদুল ইসলামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার সলেমানপুর গ্রামে। তাই অনেকেই স্বাস্থ্য সচিবের নিজ জেলার নাজুক স্বাস্থ্য সেবা ও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলো চালু না হওয়ায় রসিকতা করে নানা মন্তব্য করেন।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সদর হাসপাতাল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ