Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

গোয়াইনঘাটে ছাত্রীদের উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় শিক্ষকের উপর বখাটেদের হামলা

গোয়াইনঘাট (সিলেট) সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৬:৪৩ পিএম

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং হাজী সোহরাব আলী স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রীদের উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন বখাটেদের হামলার শিকার হয়েছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাফলং ইউনিয়ন কমপ্লেক্স এর সামনে বখাটেদের হামলার শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে গোয়াইনঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সূত্র ও থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এলাকার কিছু বখাটে ছেলে প্রায়ই পাঠদানকালীন হাজী সোহরাব আলী স্কুল এন্ড কলেজ বাউন্ডারির ভেতরে প্রবেশসহ মধ্যাহ্ন বিরতি ও স্কুল-কলেজ ছুটির পর রাস্তাঘাটে ছাত্রীদের উত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন এর প্রতিবাদ করেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর স্কুল চলাকালীন সময়ে এলাকার কয়েকজন বখাটে ছেলে মোটর সাইকেল নিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে স্কুল কলেজ ছাত্রীদের ইভটিজিং করতে থাকে। এ সময় শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন উত্যেক্তকারীদের অভিভাবকদের কাছে বিচার দিবেন বলে শাসিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে চলে যেতে বলেন। এ নিয়ে বখাটেদের সাথে শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিনের কথা কাটাকাটি হয়। তখন বখাটেরা শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিনকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এরই জের ধরে ১৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাফলং থেকে মামার বাজার যাওয়ার পথে (ইউনিয়ন পরিষদের অদূরে) বখাটেরা শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিনের মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুর রহিম খান ও জাকির খান জানান, শিক্ষকরা হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর। স্কুল ও কলেজ ছাত্রীদের ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আজ সেই শিক্ষক বখাটেদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। যা খুবই দুঃখজনক। আমরা শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে হাজী সোহরাব আলী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সরোয়ারদী জানান, শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড আর এর ভিত্তি মজবুত করার পিছনে যাদের অবদান তারা সমাজে মানুষ গড়ার কারিগর (শিক্ষক) হিসেবে অভিহিত। সেই শিক্ষকের উপর হামলা করা মানেই গোটা জাতি আক্রান্ত হওয়ার সামীল। তিনি বলেন, দিনে দিনে ইভটিজিং এতটা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে যে, আজকাল এর প্রতিবাদ করতে গেলেও নানা লাঞ্চনা, বঞ্চনা ও হামলার শিকার হতে হয়। তারই পুনরাবৃত্তি হলো ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বখাটে কর্তৃক শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনা। যা অত্যন্ত ঘৃণ্য ও জঘন্যতম কাজ। তাই আমি শিক্ষকের উপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ করছি। যাতে করে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর কখনো না ঘটে।

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আহাদ জানান, ছাত্রীদের উত্যেক্তের প্রতিবাদ করায় শিক্ষকের উপর হামলার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। অভিযোগের ভিত্তিতে মানুষ গড়ার কারিগর (শিক্ষকের) উপর হামলায় জড়িত বখাটেদের আটক করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সিলেট


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ