Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৮ কার্তিক ১৪২৬, ২৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

সউদী বাধায় বিশ্বে তুর্কি ডিজি আধিপত্যের অবসান হবে না

‘সোপ অপেরা নয়, ডিজি’-শেষ পর্ব

ফাতিমা ভুট্টো, দ্য গার্ডিয়ান | প্রকাশের সময় : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

গত ১৮ মাসে তুর্কি টিভির আন্তর্জাতিক বাজার চাহিদা ব্যাপক ভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০১৮ সালের ২ মার্চ ভোর রাত ১টায় এমবিসি ডিজির সম্প্রচার বন্ধ করে। এমবিসির আড়াই কোটি ডলার ক্ষতি করে ৬টি ডিজি প্রত্যাহার করা হয়। চ্যানেলের মুখপাত্র বলেন, এ অঞ্চলের কয়েকটি টিভি চ্যানেল থেকে সকল তুর্কি ড্রামা অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন তা আমি নিশ্চিত করতে পারব না। ২০১৫ সাল থেকে সউদী আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) এমবিসি কেনার জন্য আলোচনা চালাচ্ছিলেন। কিন্তু এর দাম ৩০০ কোটি ডলার চাওয়াকে তিনি খুব বেশি মনে করেছিলেন। ২০১৭ সালের নভেম্বরে এক দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে এমবিসির বোর্ড সদস্য ও শেয়ার হোল্ডারদের অধিকাংশকে গ্রেফতার করা হয়।
বিলাসবহুল জেলে ৮৩ দিন কাটানোর পর এমবিসির প্রতিষ্ঠাতা সউদী ব্যবসায়ী ওয়ালিদ বিন ইবরাহিম, যার বোন ছিলেন এক সাবেক বাদশাহর স্ত্রী, মুক্তি পান। তার কোম্পানির বেশির ভাগ শেয়ারের মালিক এখন একজন গোপন ব্যক্তি যার প্রথম নির্দেশ হচ্ছে এমবিসির সকল ডিজি অনুষ্ঠান বাতিল করা।

এর আগে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চল ছিল ডিজির বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বাজার। দুবাইতে গেম অব থ্রোনস ও অপরাহর সাথে ‘মাগনিফশান্ট সেঞ্চুরি’র বিজ্ঞাপনও প্রদর্শিত হত। অন্যদিকে ফাতমাগুলের চিত্রনাট্যকার এইস ইয়োরেন্সকে সউদী আরব তার স্থানীয় চ্যানেলগুলোর জন্য টিভি সিরিজ লেখার নির্দেশ প্রদান করে। গুজব ছড়ায় যে শাহজাদা ও রাজনীতিকরা তুরস্ক সফরে গেলে এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। সম্ভবত আধুনিক বিনোদন জগতে তুরস্কের এ অগ্রগতি এমবিএসকে অসন্তুষ্ট করে থাকবে।

এটা নিশ্চিত যে ২০১৭ সালে কাতারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় দেশটির প্রতি তুরস্কের সমর্থন যুবরাজকে নিশ্চিত ভাবে ক্ষুব্ধ করে। এভাবে ২০১৮ সালে এমবিএস তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানকে অশুভ ত্রয়ীর অন্তর্ভুক্ত করে নতুন ওসমানীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠার চেষ্টার জন্য অভিযুক্ত করেন। তিনি দ্রুত মধ্যপ্রাচ্য টিভি থেকে ডিজি বিলুপ্ত করেন।

ডিজির উত্থান পর্ব থেকে অভ্যন্তরীণ ও ভূরাজনীতিসহ রাজনীতিকে পৃথক করা অসম্ভব। এরদোগান নিজে ‘ম্যাগনিফিশান্ট সেঞ্চুরি’র প্রতি বিরূপ মনোভাবাপন্ন বলে ব্যাপক প্রচারণা রয়েছে। তিনি এটাকে অত্যন্ত অশ্লীল ও সত্য ঘটনা বর্জিত ওসমানীয় ইতিহাস বলে মনে করেন। তার সরকার এর প্রযোজকদের তোপকাপি প্রাসাদের মত বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানে চিত্রায়নের অনুমোদন বাতিল করে। সরকারের রোষানলে পড়ার ভয়ে টার্কিশ এয়ার লাইন্স অভ্যন্তরীণ রুটে তাদের জন্য বিমানে আপ্যায়ন বাতিল করে। এরদোগানের একেপি পার্টির এক এমপি শো’টি নিষিদ্ধ করার জন্য পার্লামেন্টে আবেদন করেন।

যদিও ‘ম্যাগনিফিশান্ট সেঞ্চুরি’কে রাষ্ট্র কখনো তুর্কি সফট পাওয়ার হিসেবে বিশে^ প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করেনি, অন্য ডিজিকে করেছে। তুর্কি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের (টিআরটি) দুটি সাম্প্রতিক নির্মাণকে সরকার তাদের নির্দেশনা না বললেও সর্বাত্মক অনুমোদন প্রদান করে। এর একটি হল দিরিলিসঃ এরতুগুল বা পুনরুজ্জীবনঃ এরতুগুল। তিনি ছিলেন ওসমানীয় গৌরবের সূচনাকারী ব্যক্তি। ওসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান ওসমানের পিতা।
ডিজির ট্যাগলাইন ছিল- ‘একটি জাতির জাগরণ।’ এর পাঁচটি সিজনে দর্শকরা দেখেছে ক্রুসেডার, মঙ্গোল, খ্রিস্টান বাইজেন্টাইন ও অন্যদের বিরুদ্ধে এরতুগুলের লড়াই। এটি রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত সবচেয়ে জনপ্রিয় শো’র সম্মান লাভ করে। এরদোগান এরতুগুল সম্পর্কে বলেন, সিংহরা তাদের নিজেদের কাহিনী লেখা শুরু না করা পর্যন্ত তাদের শিকারিরাই সব সময় নায়ক হয়।

আরেকটি শো পেইতাত আবদুল হামিদ বা শেষ সম্রাট, ওসমানীয় গৌরবগাথার অন্তিম রেশ। এর ভিত্তি ছিল শেষ শক্তিশালী ওসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদের শাসনকাল। ২০১৭ সালে এর প্রচার শুরু হওয়ার পর তা বিপুল সংখ্যক দর্শককে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়। প্রতি শুক্রবার প্রতি দশজনের একজন দর্শকই তরুণ তুর্কি (শেষপর্যন্ত তারাই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে) ও ইউরোপীয় কুচক্রিদের বিরুদ্ধে তার প্রতিরোধের লড়াই-এর কাহিনী দেখত।

এ ডিজির সমর্থক ও নিন্দুক উভয়েরই মত ছিল যে সুলতানকে যে মডেলে রূপায়ন করা হয়েছে, তার সাথে এরদোগানের অনেক মিল রয়েছে। এরদোগানের অনুরাগীরা দুই গর্বিত নেতার মধ্যে মিল দেখতে পান যারা কেউই পাশ্চাত্যকে মোকাবেলা করতে ভীত নন। যারা দুই জনই তুরস্ককে বিশ^ মুসলিম ঐক্যের কেন্দ্রস্থল রূপে দেখতে চান।

২০২৩ সাল নাগাদ ডিজি রফতানি থেকে বছরে ১০০ কোটি ডলার আসবে বলে সরকার আশা করছে। ইজেত পিন্টু তার ইস্তান্বুল অফিসে আমাকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বাজার হারানোর কারণে এ লক্ষ্যমাত্রা ৫০ কোটি ডলার ধরাই বাস্তব সম্মত। তবে রিমেক স্বত্ব, ল্যটিন আমেরিকায় রফতানি এবং ইতালি ও স্পেনসহ পশ্চিম ইউরোপে পৌঁছনোর ঘটনা ক্ষতি হ্রাস করবে।

সেলিন আরাত বলেন, তুর্কি সিরিজগুলো স্থায়ী জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এগুলোর চাহিদা আর নাও বাড়তে পারে। তবে বিশ্বে তুর্কি টিভির চাহিদা রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে সউদী পদক্ষেপ এ ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করেছে। কিন্ত তা তুর্কি ডিজি আধিপত্যের অবসান ঘটাতে পারবে না।



 

Show all comments
  • Nasir Hazary Bin Ahad ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:৩৩ এএম says : 0
    Don't you dare to start watching one single Turkish series!!! They will make you an addict. Trust me! They give you an English sub for the first or second serie but then they leave you empty. And you unbelieveable keep watching it eventhough you know nothing Turkish language
    Total Reply(0) Reply
  • Km Munna ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:৩৪ এএম says : 0
    I really like all Turkish series that I know amd in summer I'm going to watch more and more series. After watching Turkish series I can not watch any American films.
    Total Reply(0) Reply
  • Kamal Pasha Jafree ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:৩৬ এএম says : 0
    I also like turkey dramas best was dirills ans recently I saw yer gor ask it started so beautifully but I was so disappointed seeing the middle and end of the drama
    Total Reply(0) Reply
  • MD Akhteruzzaman ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:৩৮ এএম says : 0
    তুর্কি ডিজি যেভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে তাতে এত সহজে নামাতে পারবে না।
    Total Reply(0) Reply
  • Mannan Bhuiyan ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:৩৯ এএম says : 0
    আমাদের বাংলাদেশেও দিন দিন তুর্কি সিরিয়াল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ওদেরকে পেছনে ফেলার মতো প্রতিদ্বন্দ্বি কাউকে দেখছি না।
    Total Reply(0) Reply
  • মা হোমিও হল ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:৩৯ এএম says : 0
    সৌদি নিজেও পারে না অন্য মুসলিম দেশকেও এগাতে দেয় না।
    Total Reply(0) Reply
  • Jewel rana ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭:২৬ এএম says : 0
    সৌদি আরব দিনদিন মনে হচ্ছে তারা অমুসলিm...
    Total Reply(0) Reply
  • jewel rana ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭:৩৩ এএম says : 0
    এই সিরিয়াল গুলো খুবই সুন্দর আমি কোন নাটক বা সিরিয়াল দেখতাম না কিন্তু দিরিলিস আরতুগুল এবং আবদুল হামিদ এই দুইটি সিরিয়াল আমি ভাষা না বুঝেও শেষ পর্যন্ত দেখে গেছি।
    Total Reply(0) Reply
  • Samsul ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৩:০৬ পিএম says : 0
    সৌদি কিছু পারেনা! আবার অন্যকোনো মুসলিম রাষ্টকেও করতে দেয়না! এরা, শুধু পারে নারী আর আরাম আয়েস করতে। ইনশাআল্লাহ তুর্কি এগিয়ে যাবে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন