Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১ হিজরী

রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেয়ায় জড়িত থাকলেই ব্যবস্থা

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেয়ায় যারা জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাসপোর্টের সঙ্গে শুধু পুলিশ জড়িত থাকে না। এর সঙ্গে জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, চেয়ারম্যান সার্টিফিকেটসহ অন্যরাও জড়িত থাকে। তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হবে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন দুর্গাপূজায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত বৈঠকে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ সময় ডিএমপির কমিশনার, র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, এবার সারাদেশে ৩১ হাজার পূজামন্ডপ হবে। গত বছরের তুলনায় এবার মন্ডপ বেড়েছে এক হাজার। ঢাকায় বেড়েছে ২৩৭টি। সারাদেশে ৫ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া পূজামন্ডপগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে তিন লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে। প্রত্যেকটি পূজামন্ডপে নিরাপত্তায় পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকবে। এছাড়া, পূজামন্ডপে সিসি টিভি, আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর থাকবে। পূজামন্ডপে বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থা সজাগ থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মন্ডপের আশপাশে ইভটিজারদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ থাকবে। এছাড়া, মহিলা স্বেচ্ছাসেবক দল, ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ উপস্থিত থাকবে। পূজার সময় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে। স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বেচ্ছাসেবক দল প্রস্তুত থাকবে। জেলা সদর এবং উপজেলা সদরে পুলিশ কন্ট্রোল রুম থাকবে। পাশাপাশি জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ সার্ভিস আরও কার্যকর থাকবে। যেকোনও সমস্যায় এখানে ফোন দিলে সেবা পাওয়া যাবে। প্রতিমা বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। উপকূলীয় এলাকায় প্রতিমা বিসর্জনের সময় কোস্টগার্ড এবং সীমান্তে প্রতিমা বিসর্জনের সময় বিজিবি উপস্থিত থাকবে।’
পূজা শুরুর আগেই অনেক জায়গায় প্রতিমা ভাঙচুরের খবর এসেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিমা ভাঙচুরের খবর পেয়েছি। আমি খোঁজ নিয়েছি। মূলত কমিটি বা জমি নিয়ে দ্ব›েদ্ব এবং ভুল বোঝাবুঝিতে এগুলো হয়েছে। সাংবাদিকদের অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশে মাদকবিরোধী ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রক্রিয়া শুরু থেকেই চলছে। দলের নেতা বা এমপি হোক, কাউকেই ছাড়া হচ্ছে না।

কয়েকদিন আগে পুলিশের একজন ডিআইজিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইন ভঙ্গ করলে তাকে আইনের মুখোমুখি দাঁড়াতেই হবে। দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চলমান প্রক্রিয়া। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। শৃঙ্খলাভঙ্গের খবর যেখান থেকে আসছে, সেখানেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে প্রবেশ করে, তখন আট লাখ রোহিঙ্গাকে বায়োমেট্রিকে নিবন্ধন করা হয়। কিন্তু এরপর আরও তিন লাখ রোহিঙ্গা দেশে ঢুকেছে, তাদের বায়োমেট্রিক হয়নি। তারপরও পাসপোর্ট অফিসের সার্ভার খুবই অত্যাধুনিক। বায়োমেট্রিক না করলেও পাসপোর্ট করতে গিয়ে ধরা পড়ছে রোহিঙ্গারা। এত কিছুর পরও সুচতুরভাবে কেউ কেউ অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দিচ্ছে, তাদের গ্রেফতারও করা হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ