Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১ হিজরী

তাবরেজ হত্যা মামলার চার্জশিটে যোগ হল খুনের ধারা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৫:২৫ পিএম

চাপের মুখে তাবরেজ আনসারি মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আবার খুনের মামলা যোগ করল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। ২৯ জুলাই ঝাড়খণ্ড পুলিশ যে চার্জশিট জমা দিয়েছিল, তাতে আশ্চর্যজনক ভাবে খুনের মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছিল। যা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানান তবরেজের স্ত্রী। বুধবার ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নতুন করে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (খুন) যুক্ত করা হয়েছে।

১৭ জুন ঝাড়খণ্ডের খরসওয়ান জেলায় তবরেজ আনসারিকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে, চোর সন্দেহে পেটানো হয়েছিল। তাবরেজকে গণপিটুনির সেই ভিডিও সোশ্যালে ঝড় তোলে। ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু অতিউৎ‌সাহী নৃশংস ভাবে তাকে পেটাতে পেটাতে জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করছে। ঘটনার পাঁচ দিন পর, ২২ জুন পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন মারা যান ওই যুবক।

এই মামলায় মোট ১১ জনকে চিহ্নিত করে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে প্রকাশ মণ্ডল ওরফে পাপু মণ্ডল, কামাল মাহাতো, সুনামো প্রধান, প্রেমচাঁদ মাহালি, সুমন্ত মাহাতো, মদন নায়েক, চামু নায়েক, মহেশ মাহালি, কুশল মাহালি, সায়ন্তন নায়েক ও ভীমসেন মণ্ডল। তবরেজ আনসারির স্ত্রী সম্প্রতি এই মামলা সিবিআইয়ের হাতে হস্তান্তরের দাবি জানান। তার বক্তব্য, ‘জেলা পুলিশের উপর আস্থা নেই।’

সম্প্রতি জেলা পুলিশ তাবরেজ আনসারি মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের ধারা প্রত্যাহার করায়, চূড়ান্ত পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তার স্ত্রী। গত সোমবার ঝাড়খণ্ড পুলিশের উদ্দেশে হুঁশিয়ারির সুরে তবরেজের স্ত্রী শাহিস্তা পারভিন জানান, গণপিটুনির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা না দিলে, তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেবেন। তাবরেজের একুশ বছরের স্ত্রী শাহিস্তা রাঁচির পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখাও করেন। গিয়েছিলেন ডিসির দফতরেও। তার আর্জি, অভিযুক্ত ১১ জনের বিরুদ্ধে আইপিসি ৩০৪ ধারার বদলে ৩০২ (খুন) ধারা দিতে হবে।

ঝাড়খণ্ড গণপিটুনিতে নিহত তাবরেজ আনসারির পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট বলা হয়, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তার মৃত্যু হয়েছে। সেই রিপোর্ট হাতে আসার পরেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা প্রত্যাহার করা হয়। মাথার খুলিতে চিড়, বিভিন্ন অরগ্যান ফেলিওর এবং হার্টের প্রকোষ্ঠে রক্ত জমাটবাঁধার মিলিত ফলই হল তবরেজের কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণ।

শাহিস্তার অভিযোগ, গোটা দুনিয়ার মানুষ দেখেছে আমার স্বামী তাবরেজকে কী নৃশংস ভাবে পিটিয়ে ‘হত্যা’ করা হয়েছে। অথচ, জেলা প্রশাসন ৩০২ ধারা তুলে নিয়ে, খুনিদের আড়াল করতে চাইছে। এর পরেই হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, ‘পুলিশ তবরেজের খুনিদের বিরুদ্ধে ফের খুনের মামলা না দিলে, ডিসি অফিসের সামনেই আমি আত্মহত্যা করব।’ সূত্র: টিওআই।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত


আরও
আরও পড়ুন