Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

সড়ক নির্মাণেও মোদির অর্থনীতি ধাক্কা খাচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

সংকটের মুখে ভারতীয় অর্থনীতি চাঙ্গা করার জন্য নরেন্দ্র মোদি সরকার অবকাঠামো খাত উন্নয়নে জোড় দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সম্প্রতি গঠন করা একটি টাস্কফোর্স বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে। মুম্বাই-ভিত্তিক কেয়ার রেটিং অনুসারে, চলতি অর্থবছরের ২০২০ সালের মার্চ মাসের শেষের দিকে মহাসড়ক নির্মাণের হার ধীর হতে হতে প্রতিদিন ২৭ কিলোমিটারে যেয়ে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে, নতুন প্রকল্পগুলির জন্য জমি অধিগ্রহণের ক্রমবর্ধমান ব্যয়।

কেয়ার রেটিংয়ের গবেষণা বিশ্লেষক আশীষ কে নাইনান বলেন, ‘গত কয়েক বছরে ভ‚মি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া যেমন উন্নত হয়েছে, দামও বেড়েছে। সুতরাং, ভারতের জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষের (এনএইচএআই) পক্ষে নতুন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

জাতীয় রাজপথ নির্মাণে মোট মূলধন ব্যয়ের মধ্যে ৩০ শতাংশ ধরা হয়েছে জমিগুলির দাম হিসেবে, কিন্তু, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জমির দাম প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। ২০১৩-১৪ সালে জমি অধিগ্রহণ ব্যায় ছিল হেক্টর প্রতি ৯০ লাখ রুপি (১.২৫ মিলিয়ন ডলার), যা ২০১৮-১৯ সাল নাগাদ হেক্টর প্রতি ২.৪৭ কোটি রুপিতে এসে দাঁড়িয়েছে। অবকাঠামো নির্মাণকারীদের লোন দিতে বেসরকারী খাতের ব্যাংকগুলির অনীহা এবং নন-ব্যাংকিং আর্থিক সংস্থাগুলির প্ররোচণাও নতুন প্রকল্পগুলির জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে। সুতরাং, অনেক বড় প্রকল্প হুমকির মধ্যে রয়েছে।

এমন একটি প্রকল্প হচ্ছে সরকারের ‘ভারতমালা পরিযোজন’। ২০১৭ সালে ঘোষিত উচ্চাভিলাষী এই কর্মসূচির আওতায় মোদি সরকার ২০২২ সালের মধ্যে ৩৪,৮০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক নির্মাণ পরিকল্পনা গ্রহণ করে। কিন্তু মার্চ ২০১৯ সাল পর্যন্ত মোট ২৩ শতাংশ অর্থাৎ, ৭,৯৯৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ১৭৮ টি সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হয়। চলতি বছর জুনের ৩০ তারিখ পর্যন্ত তহবিলের অভাব এবং জমি অধিগ্রহণ সমস্যার কারণে ৪৬ টি প্রকল্প তিন মাস পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও, কেয়ার রেটিংয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত বছর অর্জিথ দৈনিক ৩০ কিমি নির্মাণের গতি বজায় রাখতে বিল্ড অপারেট ট্রান্সফার (বিওটি) মডেলের অধীনে বেসরকারী খাতের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তবে এই মডেল হুমকির মুখে রয়েছে কারণ, নির্মাণকারীরা এবং বিনিয়োগকারীরা ট্র্যাফিকের পরিমাণ (রাস্তা / এনএইচ ব্যবহারকারী) এবং নির্মাণ ঝুঁকির জন্য আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, পাঁচ বছরের মেয়াদি এই খাতটির জন্য সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারমনের দেয়া ১০০ লাখ কোটি রুপির বরাদ্দ খুব বেশি কাজে আসবে না। এ বিষয়ে ভারতের বিনিয়োগ ও অবকাঠামো গবেষক সাগর দুয়া বলেন, ‘ইউনিয়নের বাজেটের ভিত্তিতে হাইওয়ে নির্মাণ, অবকাঠামোগত সুযোগ বৃদ্ধির অগ্রণী অনুঘটক হিসাবে প্রত্যাশা করা হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) এনএইচএআই-এর সাম্প্রতিক বিবৃতি অনুযায়ী, হাইওয়েগুলি নির্মাণ এবং জমি ক্রয়ের অতিরিক্ত ব্যয় পরিচালনা করতে (ন্যায্য ক্ষতিপূরণের অধিকার আইন, ২০১৩ অনুযায়ী) যথেষ্ট পরিমাণে অর্থ সরবরাহে সরকারের অনীহা প্রকাশ পেয়েছে। যা আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিচ্ছে।’

কর্তৃপক্ষের নজর দিতে পারে এমন অন্যান্য বিকল্প রয়েছে। কেয়ার রেটিংয়ের ন্যানান বলেন, ‘গ্রিনফিল্ড প্রকল্প তৈরির ফলে বিলম্ব হতে বাধ্য। কর্তৃপক্ষকে বিদ্যমান জমি ব্যবহার করে আরও অবকাঠামোগত উন্নয়নের সম্ভাবনা অন্বেষণ করতে হবে।’ কেয়ার রেটিং এর প্রস্তাব অনুযায়ী, বিওটি সড়ক প্রকল্পগুলিতে বেসরকারী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকারকে ট্রাফিকের ব্যবহার এবং নির্মাণ ঝুঁকি হ্রাস ও নির্মূল করতে হবে। প্রত্যাশিত ট্র্যাফিকে ঘাটতি হলে সে ক্ষেত্রে ছাড়ের পরিমাণ বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। সূত্র : নিউজ রিপাবলিক।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সড়ক নির্মাণ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ