Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

স্থবির কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক

মুন্সী কামাল আতাতুর্ক মিসেল : | প্রকাশের সময় : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কের বেশির ভাগ এলাকা জুড়ে থাকে দীর্ঘ যানজট। আঞ্চলিক এ সড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ অংশের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে লালমাই বাজার এলাকা পর্যন্ত তীব্র যানজট স্থায়ী হওয়ায় যাত্রীদের কষ্টের শেষ নেই।
কাজের ধীরগতি ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এনডিএ এর অপরিকল্পিতভাবে কাজ পরিচালনার কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সড়কের লাকসাম অংশে অসংখ্য ছোট বড় গর্ত আর খানাখন্দকে ভরপুর কুমিল্লা- নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের এখন বেহাল অবস্থা। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এ সড়কে শত শত যানবাহনে হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগের মধ্যেই চলাচল করছেন। প্রতিনিয়িত যানবাহন বিকল হয়ে পথে পথে তৈরি হচ্ছে অসহনীয় যানজট। এতে যে কোন সময় মারাত্মক দুর্ঘটনাসহ যানচলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কোথাও কোথাও যানজট পেরোতে লেগে গেল এক ঘণ্টা! আবুল কালাম, আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন যাত্রী দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকদের সপ্তাহে প্রায় ৫ দিনই পোহাতে হচ্ছে এসব দুর্ভোগ। তারা মনে করছেন, সড়কটি দ্রুত কাজ করা গেলেই মুক্তি মিলবে এই যন্ত্রণা থেকে।

আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষীপুর জেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়ে। বিশেষ করে নারী-শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা বেশি দুর্ভোগ ভোগ করে। সড়কের বেহাল দশার কারণে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীরা নিরুপায় হয়ে কয়েক কিলোমিটার কাঁদাযুক্ত রাস্তা দিয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হয়। সড়কের গর্তের কোথাও কোথাও ছোট যানবাহন দেবে যেতে দেখা গেছে। বেশি খারাপ অবস্থা পদুয়ার বাজার, শ্রীমন্তপুর, উত্তর রামপুর আবদুর রহমান ফিলিং স্টেশন এলাকায়।

এই সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী কুমিল্লার লালমাই এলাকার আব্দুল গফুর বলেন, মহাসড়েকর এই অবস্থা হলে মানুষ যাবে কোথায়? সড়কের এক পাশ সংস্কার না করে অন্য পাশের কাজ ধরায় মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। লাকসাম বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল কাদের নামের একজন বাসযাত্রী জানান, দীর্ঘদিন যাবত এ আঞ্চলিক মহাসড়কের বেহাল দশা। সুস্থ শরীর নিয়ে বাসে উঠে অসুস্থ শরীর নিয়ে বাস থেকে নামতে হয়। প্রতিদিনই এ সড়কের কোথাও না কোথাও ঘটছে দুর্ঘটনা।

এ প্রসঙ্গে এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী সামছুল ইসলাম দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, বেহাল সড়কের হাল ফেরাতে দরকার পরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনা। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণের উপায় বের করতে হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পদুয়ার বাজার, শ্রীমন্তপুর, উত্তর রামপুর আবদুর রহমান ফিলিং স্টেশন এলাকায় সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে গাড়িগুলো ধীরগতির কারণে এইসব এলাকায় সবচেয়ে বেশি যানজট হয়। এই সড়কে রিকশা, ব্যাটারিচালিত টমটম, বাস, ট্রাক থেকে শুরু করে ১৬ চাকার কনটেইনার মুভারসহ সব ধরনের যান চলাচল করে।

এ ব্যাপারে লালমাই হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ জিয়াউল হক চৌধুরী জানান, কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পদুয়ার বাজার থেকে বিজয়পুর পর্যন্ত বেশি যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে পুলিশ বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কুমিল্লার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহাদ উল্লাহ জানান, ঠিকাদারের সাথে কথা হয়েছে, সংস্কার কাজ শুরু হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ