Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

সেই ক্যাসিনো সম্পর্কে কিছুই জানতেন না গভর্নিং বডির চেয়াম্যান মেনন!

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১:৫৭ পিএম

রাজধানীর ইয়াংমেনস ক্লাবের অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে গ্রেফতার করা হযেছে এর মালিক যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে। ক্লাবটির গভর্নিং বডির চেয়াম্যান হলেন সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

ক্লাবটিতে ক্যাসিনোর আদলে জুয়ার আসর চালানোর অভিযোগে অভিযান চালিয়ে বুধবার হাতেনাতে ১৪২ জনকে আটক করে র‌্যাব। এ বিষয়ে ক্লাবটির চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেনন এমপি গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেন, ক্যাসিনো সম্পর্কে কিছুই জানতাম না, ক্যাসিনো চলছে কিনা তা দেখভাল করা গভর্নিং বডির চেয়ারম্যানের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

মেনন বলেন, এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে আমাকে ইয়ংমেনস ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। এলাকার কোথায় কী ঘটছে তার খবর রাখার দায়িত্ব সংসদ সদস্যের নয়, পুলিশের।

তিনি বলেন, আমি জানি ইয়াংম্যানসের ফুটবল টিম আছে। ক্রিকেট খেলে। আমাকে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সেখানে একদিন নিয়ে যায় এবং বলা হয়, আপনি ক্লাবের চেয়ারম্যান হবেন। আমি বলেছিলাম, ঠিক আছে। ব্যস ওইটুকুই। আমি এর পর আর কখনও সেখানে যাইনি।

ক্লাবের ভেতরে জুয়াখেলার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার আগে থেকেই এ বিষয়ে জানে। এছাড়া পুলিশ তো এটা ভালো করেই জানে। তারা এতদিন ব্যবস্থা নেয়নি কেন?

বুধবার রাতে রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় ইয়ংমেনস ক্লাবের নিষিদ্ধ জুয়ার ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে ১৪৫ নারী-পুরুষকে আটক করেছে র‌্যাব। এদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। ক্যাসিনোতে মদ আর জুয়ার বিপুল সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রায় ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ক্লাবটির সভাপতি যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। অনেক দিন ধরে এখানে জুয়াসহ নানা অপকর্ম চলছিল। সাম্প্রতিককালে অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ার পর বুধবার অভিযান পরিচালিত হয়। ইয়াংমেনস ক্লাবের পর ওই রাতেই ঢাকার আরও তিনটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাব।



 

Show all comments
  • MIZANUR RAHMAN ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২:৪১ পিএম says : 0
    সরকারের উচিৎ কে কোন দল করে এটাকে গুরুত্ব না দিয়ে পাপিষ্টদের সাজা দেয়া।
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Shah Alam Khan ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৯:০৭ পিএম says : 0
    কাক যেমন চোখ বন্ধ করে ডিম পাড়ে কারন সে নিজে ডিম পারাটা দেখলো না কাজেই সে ভাবে আর কেহই তাঁর ডিম পাড়াটা দেখলো না। তাই সে অরক্ষিত ভাবেই ডিম বাসায় রেখে খাবারের সন্ধানে যায়, এদিকে কোকিল কাকের ডিম পাড়া দেখেছে তাই সে অপেক্ষায় ছিল কাক যাবার সাথে সাথে কোকিল কাকের বাসায় গিয়ে কাকের ডিমটা খেয়ে নিজে ডিম পেড়ে সেটা রেখে যায়। বোকা কাকা কোকিলের ডিম তাদিয়ে কোকিলের বচ্চা ফুটায় আর হায় হায় করে। এখানে আমাদের সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন যে কথা গুলো বললেন সেটা পড়ে মনে হচ্ছে তিনি কাকের মতই করেছেন। তবে এটা বিশ্বাস করতে মন চায় না কারন তিনি যখন বিমান মন্ত্রী ছিলেন তখন প্রধানমন্ত্রীকে বিমানে যান্ত্রিক গোলযোগ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল একটি দলের স্বার্থে। তখন তিনি দায়িত্বে থাকার পরও কাকের মত অভিনয় করে নেত্রী হাসিনার হাত থেকে রেহাই পেয়েছিলেন। এখন তিনি সেই একই কায়দায় পুলিশকে চকমা দেয়ার জন্যে একই ভাবে পুলিশকে দোষারুপ করছেন এটাই নিন্দুকদের মন্তব্য। নিন্দুকেরা বলছেন, মেনন সাহেব প্রধানমন্ত্রীর হত্যা মামলা থেকে নাজানার বাহানা করে ক্ষমা চেয়ে ক্ষমা পেয়েছিলেন। তিনি যদি সত্যই না জেনে থাকেন তাহলে ওনার বুঝা উচিৎ ছিল সংস্থা কিংবা সংগঠনের প্রধান হলে দায়িত্ব ঘাড়ে এসে যায় বার বার নাজানার বাহানা করে ক্ষমা পাওয়া যায়না। বিমানের পর ইয়ংমেন্স ক্লাবের বিষয়টাও একই কায়দায় ওনার ঘাড়ে এসেছে, এবার তিনি ভিন্ন পদ্ধতীতে পুলিশকে দায়িকরে ছাড় পেতে চান!!! নিন্দুকদের দাবী এবার মেনন সাহেবকে কোন ভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না কারন বিমানের ঘটনার পর উনি যত সংস্থা বা সংগঠনের মাথা হয়ে আছেন সব প্রতিষ্ঠানের সঠিক খবর ওনার রাখা উচিৎ। আর যদি খোঁজ খবর রাখতে না পারেন তাহলে সেই সব পদ থেকে অব্যহতি নেয়া উচিৎ ছিল। নিন্দুকেরা আরো বলছে মেনন সাহেবকে এই জুয়া থেকে আয়ের একটা অংশ দেয়া হয় তাঁর দলীয় খরচের জন্যে। এখন নিন্দুকদের সবার দাবী প্রধানমন্ত্রী ওনার জীবন নাশের ব্যাপারে নিজ দায়িত্বে মেননকে ক্ষমা করেছেন। কিন্তু এই জুয়ার বিষয়টা হচ্ছে জাতীয় বিষয় কাজেই এখানে প্রধানমন্ত্রীর ছাড় দেয়ার কোন কারন নেই বলে নিন্দুকদের মন্তব্য। ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেনন সাহেবকে ছাড় দেয়ার জন্যে বক্তব্য দিয়ে দিয়েছেন সেই আলোকেই মেনন সাহেব এখন পুলিশকে দোষারুপ করে পার পেতে চাচ্ছেন এটাও নিন্দুকেরা কঠিন ভাবে বলে বেড়াচ্ছে। নিন্দুকদের এতসব কথার পর আমরা সাধারণ জনগন বেকায়দায় আছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড় দেয়ার আভাশ দিয়েছেন, মেনন সাহেব ছাপাই গাইলেন যাতে প্রধানমন্ত্রীর না দেখার ভান করতে অসুবিধা না হয় সেই কাজটা হয়ে গেছে। তারপরও আমরা আশা করবো যেহেতু প্রধানমন্ত্রী প্রমাণ করেছেন তিনি একজন ঈমানদার, সত্যবাদী, নামাজী মুসলমান সেহেতু তিনি ৯/৬ করতে পারেন না। কাজেই আমরা এবার ওনার কাছ থেকে মেননের বিষয়ে ন্যায় বিচার আশা করছি। আল্লাহ্‌ প্রধানমন্ত্রীকে সত্য পথে চলার শক্তি প্রদান করুন। আমিন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মেনন


আরও
আরও পড়ুন