Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৮ কার্তিক ১৪২৬, ২৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

কাশ্মীর কখনো ভারতের অংশ ছিল না

দ্বিতীয় কিস্তি

মুনশী আবদুল মাননান | প্রকাশের সময় : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২:৪৩ পিএম | আপডেট : ২:৪৮ পিএম, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

একথা বলার অপেক্ষা রাখেনা, কাশ্মীরি জনগণ কাশ্মীরের ভারত ভুক্তি কখনোই মেনে নেয়নি। তাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও জবরদস্তির মাধ্যমে কাশ্মীরকে ভারতভুক্ত করা হয়। নিরংকুশ আত্মনিয়ন্ত্রনাধিকার বা বৃহত্তর স্বায়ত্ত¡শাসনের জন্য কাশ্মীরিজনগণ সেই ১৯৪৭ সাল থেকে লড়ে যাচ্ছে। এই ন্যায়সঙ্গত লড়াই-সংগ্রাম দমনে ভারত লাগাতার এক চক্ষুনীতি অনুসরণ করে আসছে। এই দমন-দলনে কাশ্মীরের জনগণের মধ্যে এ প্রত্যয় দৃঢ় হয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই ভারতের সঙ্গে থাকা সম্ভব নয়। স্বাধীনতাই একমাত্র মুক্তির উপায়। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, স্বাধীনতা অনিবার্য হলেও কাশ্মীরি জনগণের একটি ক্ষুদ্রাংশ ৩৭০ ও ৩৫-ক ধারার সুবাদে ভারতের সঙ্গে এক ধরনের মানসিক নৈকট্য অনুভব করতো। তাদের সেই মানসিক নৈকট্যটিও এখন আর থাকলো না। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ এবং বিজেপিসহ তার পরিবার ভুক্ত সংগঠনের কর্তা ব্যক্তিরা হয়তো ভাবছেন ৩৭০ ও ৩৫-ক ধারা রহিত করার মাধ্যমে কাশ্মীরকে চিরদিনের জন্য ভারতের অংশ করে নেয়ার কাজটি তারা সম্পন্ন করেছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য সেটা মনে করেন না। তাদের মতে, কাশ্মীরকে চিরদিনের মতো হারানোর একটা পথ রচিত হলো এর মাধ্যমে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, কাশ্মীর কখনই ভারতের অংশ ছিল না। কাশ্মীরের স্বাধীনচেতা সংগ্রামী জনগণ কখনোই বরিহরাগত আগ্রাসন ও শাসন মেনে নেয়নি। এখন বা ভবিষ্যতেও মেনে নেবে না। কাশ্মীর ভারতের প্রতিবেশী। তবে কখনোই তা তার অংশ অধীন ছিলনা। অপূর্ব নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অধিকারী কাশ্মীরকে ভূস্বর্গ বলা হয়। স¤্রাট জাহাঙ্গীর বলেছিলেন, ‘আগার ফেরদৌস বেরোয়ে যমিন আস্ত,... হামীন আস্ত, হামিন.... আস্ত, হামিন আস্ত।
(পৃথিবীতে যদি কোনো বেহেশত থাকে তবে তা এখানে, এখানে, এখানে।) শান্তি ও সৌন্দর্যের কারণে সুদূর অতীতকাল থেকে বহিরাগত নিজেতাদের প্রলুবব্ধ করেছে। তারা অভিযান চালিয়ে ভূস্বর্গ দখল করে নিয়েছেন। কিন্তু সে দখল ধরে রাখতে পারেননি। অন্য কোনো শক্তি তা দখলে নিয়েছেন কিংবা কাশ্মীরাই স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করেছেন। কোনো আগ্রাসী শক্তিই আখেরে কাশ্মীরে টিকে থাকতে পারেনি। এটাই কাশ্মীরের ইতিহাস।
কাশ্মীর সুপ্রাচীন এক জনবসতির নাম। খ্রীস্টপূর্ব তিন হাজার বছর আগে এখানে জনবসতি গড়ে ওঠে বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন। এই হিসাবে এখন থেকে পাঁচ হাজার বছর আগে এখানে জনবসতি ছিল। সম্ভবত নুহ (আ:) বংশধররাই এখানে বসতি গড়ে তোলে। প্রত্মতাত্তি¡কেরা কাশ্মীরে প্যালিওলাথিক নিওলিথিক ও মেগালিথিক-সকল যুগের প্রত্মনিদর্শন খুঁজে পেরেছেন। এসব নিদর্শন কাশ্মীরের জনবসতির প্রাচীনত্বেরই সাক্ষ্য দেয়। অনেকেই মনে করেন, আদি বাসিন্দাদের অনেকে বিভিন্ন সময়ে হত্যাকাÐ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও রোগব্যাধির শিকার হলেও কাশ্মীরের এখনকার জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই আদি বাসিন্দাদের উত্তরাধিকার বহন করছে।
কাশ্মীরি জনগোষ্ঠী সকল যুগে সকল ক্ষেত্রে প্রতিবেশী জনগোষ্ঠীর চেয়ে অগ্রসর ছিল বলে অনুমিত হয়। তাদের সভ্যতার বিকাশ ধারা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রত্যক্ষ নির্দশন ইত্যাদি থেকে সেটা বুঝা যায়। উদাহরণ হিসাবে উল্লেখ করা যায়, ভারতে যখন ইতিহাস রচনা বা চর্চার কোনো ধারনাই ছিল না কাশ্মীরে তখন ইতিহাস লিখিত হয়েছে। এই সঙ্গে সংরক্ষণও। খ্রীস্টপূর্ব ১১৮৪ সাল থেকে পরবর্তী সময়ের কাশ্মীরের প্রায় সকল শাসকের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় তাদের ইতিহাস গ্রন্থাদিতে। শাসনকাল ও শাসকদের একটি তালিকা দিয়েছেন পারভেজ দেওয়ান। সেই তালিকা থেকে দেখা যায়, মহাভারতের যুদ্ধের (তিন থেকে পাঁচ হাজার বছর আগে) আগে রাজা প্রথম গোনানডা ২০ বছর শাসন করেন। এরপর অজ্ঞাত সময় থেকে পান্ডুরাজবংশ শাসন করে খ্রীস্টপূর্ব তৃতীয় সড়ক পর্যন্ত। সেখান থেকে খ্রীস্টযুগের শুরু পর্যন্ত শাসন করে মৌর্য রাজবংশ। কুশান রাজবংশের শাসন ছিল ১৭৮ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। তারপর গোনানডা (দ্বিতীয়) রাজবংশের শাসন চালু ছিল পঞ্চম শতাব্দী পর্যন্ত। হুন শাসকদের শাসন ছিল ৬২৭ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত পরের ৯৪৮ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করেন কারকোটা রাজবংশের শাসকরা। অত:পর বিচ্ছিন্ন কয়েকজন রাজা শাসন করেন কিছুকাল। ১১০১ সাল থেকে শুরু হয় লোহারা রাজবংশের শাসন। দ্বিতীয় লোহারা রাজবংশের শাসন শেষ হয় ১৩৩৯ সালে। সেখান থেকে শুরু হয় মুসলিম বা সুলতানী শাসন। কিছু ব্যতিক্রমবাদে শাহ মীর রাজবংশের শাসনই মূলত সুলতানী শাসন। এরপর ধারাবাহিকভাবে মীর্জা হায়দার দৌলত কাসগরী (১৫৪১-১৫৫১) চাক রাজবংশ (১৫৬১-১৫৮৯), মোঘল (১৫৮৯-১৭৫২) আফগান (১৫৫২-১৮-১৯) শিখ (১৮১৯-১৮৪৬) এবং ডোগরা (১৮৪৬-১৯৪৭) শাসনের অধীনে ছিল কাশ্মীর।

 

প্রথম কিস্তি



 

Show all comments
  • আবু আব্দুল্লাহ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১১:২১ এএম says : 0
    তার মানে কাশ্মীর কাশ্মীরিদের নিচ্ছয় হিন্দুদের নয়
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কাশ্মীর


আরও
আরও পড়ুন