Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৭ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী

ধর্মের কল বাতাসে নড়ছে: মির্জা ফখরুল

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৬:৫৬ পিএম

ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত অভিযানে কোটি কোটি টাকা ও অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ধর্মের কল আজ বাতাসে নড়ছে’। দেশ দুর্নীতি-মাদকসহ নানা অপরাধে ছেয়ে গেছে। রাজধানীসহ সারা দেশের শহরগুলোতে ক্লাবের নামে ক্যাসিনোতে জুয়ার আড্ডা বসছে। এই ক্যাসিনোগুলো চালাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল ও তাদের অঙ্গ সংগঠন যুবলীগের ক্যাডাররা। আসামের নাগরিক পঞ্জি প্রকাশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ এর পর বাংলাদেশ থেকে একজনও ভারতে যায়নি।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী যুবদল এ মানববন্ধন আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটা প্রবাদ আছে, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। আজকে আওয়ামী লীগ সরকারের যে দুঃশাসন, আওয়ামী লীগের যে দুর্নীতি, তাদের যে নির্যাতন-নিপীড়ন, তা অন্য কাউকে বলতে হচ্ছে না। নিজে নিজেই তাদের দুর্নীতি, অপকর্মের কল নড়তে শুরু করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিনে সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের লোকেরা, যুবলীগের নেতারা, ছাত্র লীগের নেতারা প্রমাণ করছেন, তারা বাংলাদেশের সম্পদ লুট করে নিয়েছেন। কয়েকদিন আগে প্রথমে ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক ধরা পড়ল ফেয়ার শেয়ার নিতে গিয়ে। সেই ফেয়ার শেয়ার এক দুই কোটি টাকা নয়, ৮৬ কোটি টাকা। এরপর কোটি কোটি টাকা ও অবৈধ অস্ত্রসহ যুবলীগের নেতারা ধরা পড়লেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, মজার ব্যাপার হচ্ছে-জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর যার কথোপকথন মোবাইলে বের হয়ে গেল, তিনি এরইমধ্যে এক কোটি টাকা ছাত্র নেতাদের দিয়েছেন। অর্থাৎ আজকে কী অবস্থায় দেশকে নিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগ। এই ভাইস চ্যান্সেলর যাদেরকে আমরা সম্মান করি, মাথার ওপর রাখি, তারা এখন ঘুষ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন।
তিনি বলেন, ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইসচ্যান্সেলরের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। কারণ, সেখানে ছাত্র ভর্তি হচ্ছে বিনা পরীক্ষায়। অর্থাৎ এখানেও দুর্নীতি চলছে। ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক সবাই রাস্তায় নেমে গেছে। তারাও আন্দোলন করছে। গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং শিক্ষকেরা আন্দোলন করছে। কারণ, ভাইস চ্যান্সেলর অনৈতিক কার্যকলাপের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
মির্জা ফখরুল বলেন, এ দেশের মানুষ যাবে কোথায়? ভাইস চ্যান্সেলররা যাদেরকে সবাই সম্মান করে, তারাও যদি এই পর্যায়ে ঘুষ দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়ে তাহলে জাতির ভবিষ্যত কি? এদেরকে কারা নিয়োগ দিয়েছে? এই সরকার। বেছে বেছে, সব চাইতে খারাপ ধরনের লোকদের ভাইস চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ দিয়েছে। ফলে সাধারণ ছাত্ররাই আজ বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ঢাকা শহরের ৬০টি ক্যাসিনো চালাচ্ছে কে? যুবলীগের নেতারা, আওয়ামী লীগের নেতারা। আজকে প্রমাণিত হয়ে গেছে, এই দেশ দুর্নীতিতে ভরে গেছে এবং সরকার সেখানে মদদ দিচ্ছে, আওয়ামী লীগ সেখানে মদদ দিচ্ছে। আজকে প্রমাণিত হয়ে গেছে, এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ। আজকে প্রমাণিত হয়ে গেছে গত ১২ বছরে এই দেশকে লুটপাট করে তারা একটা শ্মশানে পরিণত করেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজ ১৭ মাস ধরে আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। তিনি এখন হাঁটতে পারেন না, সাপোর্ট নিয়ে উঠতে হয়, চলতে হয়। বার বার আমরা বলেছি তাকে সুচিকিৎসার জন্য মুক্তি দিতে হবে। আমরা তাদের কাছে দয়া ভিক্ষা করছি না। আমরা তাদের কাছে আইনগত ন্যায্য প্রাপ্য জামিন চাচ্ছি। আদালতের কাছে জামিন চাচ্ছি। কিন্তু আদালতের কাজে বাধা দিচ্ছে সরকার। যাতে তিনি বের হতে না পারেন। এই অন্যায়, এই অবিচার জনগণ মেনে নেবে না। জনগণ আজকে জেগে উঠতে শুরু করেছে, জনগণ আজকে বুঝতে শুরু করেছে। এই সরকার যতদিন থাকবে, ততোদিন আইন থাকবে না, বিচার থাকবে না। ন্যায় বিচার থাকবে না, মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না।
তিনি বলেন, আমাদের পরিষ্কার কথা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কোনো দলের নেতা নন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই দেশের ১৬ কোটি মানুষের নেতা। তিনি এই দেশের গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছেন এবং এখন তাকে মুক্ত করার জন্য এ দেশের মানুষ আবার সম্মিলিত হয়ে তাকে কারাগার থেকে বের করে নিয়ে আসবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে এই সরকার কোন দিক থেকে সফল? কথায় কথায় বলে, আমরা উন্নয়ন করছি। বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানিয়ে দিলাম। বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বেশি বেকার। প্রায় চার কোটি শিক্ষিত বেকার। কৃষক ধানের দাম পায় না। তাদের দুধ রাস্তায় ফেলে দেয়। পাটের দাম পায় না। এই নিদারুণ একটা অবস্থার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ বাস করছে। কোথাও আইনের শাসন নেই। যাকে যখন খুশি তুলে নিয়ে যায়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ১০ লাখের ওপরে রোহিঙ্গা এ দেশে বসে আছে ২ বছর ধরে। প্রধানমন্ত্রী ২ বছরে একজনকেও ফেরত পাঠাতে পারেন নাই। উপরন্তু আরও বিপদ। আসামে যে নতুন নাগরিক পঞ্জি তৈরি করা হয়েছে, সেখানে আরও ১৯ লাখ মানুষ বাদ পড়েছে। তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আসামে যা খুশি তাই হোক। তা নিয়ে আমাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। কিন্তু ভারতের মন্ত্রীরা যখন বলেন, এরা বাংলাদেশি, এদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হবে। তখন নিশ্চয়ই আমাকে সেটা ভাবতে হয়। আমরা খুব পরিষ্কার করে বলেছি আমাদের কোনো মানুষ ১৯৭১ সালের পরে ভারতে যায় নাই। কেন যাবে? আমাদের অর্থনীতি ওদের চেয়ে ভাল। আমাদের লোক ভারতে যাওয়ার প্রশ্নই উঠতে পারে না।
তিনি বলেন, আমরা কারও আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমাদের সমস্যা যেন না হয়, সেই কথাই বলতে চাই। আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। সরকার এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কথা বলছে না, শুধু বলছে এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু আমরা তো দেখছি, ভারতের নেতারা বলছেন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে, সে ব্যাপারে একটা ব্যখ্যা তো দিতে হবে।
যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দীন টুকুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ