Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১ হিজরী

‘বাবা আমি আর পারছি না আমার হাত ব্যথা করে’

কামারের সন্তানের শিক্ষার দায়িত্ব নিলেন কাপ্তাই পুলিশ

কবির হোসেন, কাপ্তাই (রাঙামাটি) থেকে | প্রকাশের সময় : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

‘টুং, টাং শব্দে লোহার হাতুড়ি পিটাতে আর পাড়ছিনা বাবা, আমার হাতে ব্যাথা করে’। একটু কষ্ট কর সব ঠিক হয়ে যাবে। বাবা-ছেলের মধ্যে কামারের দোকানে কাজ নিয়ে কথাপোকথন হচ্ছে। যে ছেলের বয়স মাত্র দশ, স্কুলে যাওয়া ও খেলাধুলার কথা আর সেই ছেলেকে নিয়ে বাবার নিজের কামার দোকান। হাতুড়ি দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। এবং বড় বড়, লোহা পিঠানো হচ্ছে। কাপ্তাই নতুন বাজার এলাকায় মো. আরিফ (কামার), দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। সংসারের স্ত্রীসহ তিন ছেলে মেয়ে। দোকানের আয় দিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে অন্য কোন কর্মচারী দিয়েও কাজ করানো সম্ভব নয়। 

তাই নিজ ছেলেকে স্কুলে না পাঠিয়ে অভাবের তাড়নায় দোকানে লোহা, রড়, দা, ছুড়িরসহ বিভিন্ন কিছু তৈরির নিজ দোকানে (কামাড়) কাজ করাচ্ছেন।
হঠাৎ একদিন দোকানে কাপ্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আতাউল হক চৌধুরীর লোহার কিছু কাজ করাতে গিয়ে দেখল ছোট ছেলে শিশু শ্রমের কাজ করছে। দোকানের মালিক মো. আরিফকে বলল এ শিশু মো. রাকিব(১০) কি হয় তোমার। জবাবে উত্তর আমার ছেলে তাকে দিয়ে কাজ করাচ্ছ কেন? কি করব স্যার সংসারের অভাব লেখা-পড়া করাতে খরচ বহন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, তাই দোকানে কাজ করাচ্ছি। কাপ্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলল, আমি যদি ওর লেখা পড়ার দায়িত্ব নিয়ে স্কুলে ভর্তি করে দেই তুমি লেখা-পড়া করাবে? জবাবে বলল তাহলে তো স্যার ভাল হয়। যেই কথা সেই কাজ।
কাপ্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আতাউল হক চৌধুরী শিশু রাকিব ও তার বাবাকে নিয়ে কাপ্তাই বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে প্রধান শিক্ষক মো. ইউসুফ মিয়ার সাথে কথা বলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে ভর্তি করি দেন।
প্রধান শিক্ষক ইউসুফ বলেন, এ ছেলের লেখে পড়ার আগ্রহ আছে ইচ্ছে।
এদিকে কাপ্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আতাউল হক চৌধুরী বলেন,আমি দেখলাম সুন্দর একটি ছেলে লেখা পড়ে না করে অকালে ঝড়ে পড়বে তাই দায়িত্ব মনে করে সকল খরচ নিজ ছেলে মেয়ের মত মনে করে নিজে স্কুলে ভর্তি করি দেই এবং স্কুল ড্রেস সেলাই করে দেই। সব সময় ঐ ছেলের খোঁজ খবর নিচ্ছি এটা আমার দায়িত্ব এবং কর্তব্য বলে মনে করি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন