Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৮ কার্তিক ১৪২৬, ২৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

মাসাকাদজার রঙিন বিদায়

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

শুধু দেশটি জিম্বাবুয়ে বলেই হয়তো তার বিদায় নিয়ে নেই কোন উচ্চবাচ্য, নেই আড়ম্বড় কোন আয়োজন। তবে দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে নামের পাশে যখন লেখা থাকে ৩১০টি ম্যাচ তাকে তো আর অবহেলা করার সুযোগ কই? সেই সুযোগ দেননি হ্যামিল্টন মাসাকাদজাও। ৩১০ নম্বর জার্সি নিয়ে হল ফটোসেশন, বিসিবি ছোটখাটো আয়োজন করে হাতে তুলে দিল বাংলাদেশের সঙ্গে এই ক্রিকেট বন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত এক ফ্রেম ছবি, মাঠে নামার সময় সতীর্থদের কাছ থেকে পেলেন গার্ড অব অনার- তবে এসব কিছুকে ছাপিয়ে শেষ ম্যাচে নিজেই নিজেকে দিলেন সবচেয়ে বড় বিদায়ী উপহার। অপ্রতিরোধ্য আফগানিস্তানকে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ে যে হারালো তার ৭১ রানের অনবদ্য ইনিংসে ভর করেই!

স¤প্রতি দুঃসময়ের ক্রান্তিকাল পার করছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য জিম্বাবুইয়ানদের নির্বাসন দিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি। দুঃখে ও হতাশায় প্রায় দুই মাস আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন সলেমন মিরে। এদিক থেকে নিজেকে কিছুটা ভাগ্যবান ভাবতে পারবেন মাসাকাদজা। ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে আসার আগেই ঘোষনাটি দিয়ে রেখেছিলেন, শেষবারের মতো ব্যাট-প্যাড হাত ছোঁয়াবেন নিজের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বাংলাদেশেই। শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ছিল জিম্বাবুয়ে অধিনায়কের। কিন্তু সেটি না হলেও যেভাবে শেষটা রাঙালেন তাতেই দেশটির কিংবদন্তির খেতাব পেতে যথেষ্ঠ। গতকাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মাত্র ৪১ বলের বিধ্বংসী ইনিংটিতে ৪টি চার ও ৫টি ছক্কার মার।

বিশ্ব ক্রিকেট মানচিত্রে মাসাকাদজার উত্থান হয়েছে পাঁচদিনের ক্রিকেট দিয়ে। টেস্ট ক্রিকেটের প্রায় দেড় শ বছরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ (১৭ বছর, ৩৫২ দিন) ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। যদিও দুই মাস পর তার রেকর্ডটি ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল (১৭ বছর ৬১ দিন)।

ক্যারিয়ারের শুরুর মতো শেষটায়ও গড়ে গেলেন রেকর্ড। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার গৌরব নিয়ে ব্যাট-প্যাড তুলে রাখলেন মাসাকাদজা। এদিন দেশের হয়ে ৬৬তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে ৩৬ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ সেনানী। এই ফরমেটে তাকে ছাড়া মাত্র চারটি ম্যাচ খেলেছে জিম্বাবুয়ে!

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১১টি হাফসেঞ্চুরিতে সর্বমোট ১৬৬২ রান করেছেন মাসাকাদজা। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে তার সর্বোচ্চ রান ৯৩*। ২০০১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হারারে টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রাখেন মাসাকাদজা। ক্যারিয়ার শেষ করছে ৩৮ টেস্ট ও ২০৯ ওয়ানডে খেলে। টেস্টে তার রান ২ হাজার ২২৩ ও ওয়ানডেতে ৫ হাজার ৬৫৮। ২০৯ ম্যাচের দেড় যুগের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৫৬৫৮ রান করেছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। আছে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও আটটি হাফসেঞ্চুরিও। ৩ ফরম্যাট মিলিয়ে শিকার করেছেন ৫৭ উইকেটও।

তবে বাংলাদেশের মাসাকাদজার সম্পর্কটা ক্রিকেটকে ছাপিয়ে। যখনই ডাক পেয়েছেন বিমুখ করেননি, হোক জাতীয় দলের সফর কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেট। বিদায় বেলায় এই ক্রিকেটবন্ধু তাই ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি বাংলাদেশকে, ‘আমার স্মৃতিতে বাংলাদেশের নামটি খুব বেশি মাত্রায় জড়িত। এটা আমার দ্বিতীয় বাড়ি। যখনই সুযোগ পেয়েছি এখানে এসেছি। আমার প্রথম টেস্ট জয়ের স্মৃতিও এখানেই। এদেশের আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ। ধন্যবাদ।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মাসাকাদজার
আরও পড়ুন