Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৭ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যৎ প্রকল্পের আবাসনে বালিশ দুর্নীতিতেও জিকে শামীম!

পাবনা থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪:১৪ পিএম

যুবলীগের কথিত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ,প্রভাবশালী নেতা জিকে শামীমকে আটক করে র‌্যাব বিগত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিকেতনে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জিকে বিল্ডার্স থেকে । জিকে শামীমকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
শামীমের ব্যবসায়িক কার্যালয় থেকে টাকার পাহাড় সম টাকা সন্ধান পায় র‌্যাব। শুধু শামীমের মায়ের নামেই ১৪০ কোটি টাকার এফডিআর পাওয়া গেছে। এত বিপুল সম্পত্তি কি করে গড়লেন জিকে শামীম সেটি অনুসন্ধানে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।
জিকে শামীম বিএনপি-জামায়াতের ক্ষমতাকালেও প্রভাশালী সরকার সমর্থক দলের একজন নেতা ছিলেন। জানা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে কেউ টেন্ডার ড্রপ বা কাজ পেতেন না। গণপূর্ত বিভাগের উপরও ছিল তার একচ্ছত্র আধিপত্য।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবাসন প্রকল্পের বালিশ দুর্নীতিতে জিকে শামীম জড়িত বলে সূত্র গুলো জানাচ্ছেন।
রূপপুরের বালিশ নিয়ে সাগর চুরির লংকাকান্ডে বিপুল পরিমান অর্থ নাকি হাতিয়ে নিয়েছেন জিকে শামীমের প্রতিষ্ঠান।
সূত্রের খবর, রূপপুরের গ্রিণ সিটি আবাসন প্রকল্পের নির্মাণের ব্যয় তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি। সেখানে বড় অংকের বেশ কয়েকটি কাজ জিকে শামীম নিজেই করছেন।
এ ছাড়া ৫ পার্সেন্ট কমিশনের বিনিময়ে ৩-৪টি প্রতিষ্ঠানকে কয়েকটি কাজও দেন বলে শামীম। রূপপুরের গ্রিন সিটি আবাসন নির্মাণের সব কাজই জিকে শামীমের দখলে ছিল।
তবে এদের মধ্যে যেসব ঠিকাদারের কাজ পছন্দ হতো না সেগুলো অন্য ঠিকাদারদের দিয়ে দিতেন মোটা অংকের কমিশনের বিনিময়ে।
সূত্র জানায়, কমিশনের বিনিময়ে সাজিন ট্রেডার্স (পাবনার সুজানগরে) এনডিই (ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লি.), মজিদ এন্ড ব্রাদার্স ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বেশ কয়েকটি কাজ পাইয়ে দেন জিকে শামীম।
তার এই ব্যাপক কমিশন বাণিজ্যের কারণেই পাবনা গণপূর্ত বিভাগ মূলত রূপপুরে ভবন নির্মাণ থেকে শুরু করে করে বালিশ, চাদর ও ইলেকট্রিক সামগ্রী সরবরাহে ব্যাপক দুর্নীতি হয়। একটি বালিশের মূল্য ধরা হয় প্রায় ৬ হাজার টাকা । প্রতিটি বালিশ ২০ তলায় উত্তোলনের ব্যয় হয় ৭৬০ টাকা। এই বিপুল পরিমান অর্থের মধ্যে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের অসাধু প্রকৌশলীরাও ভাগ পান। সূত্র জানান, জি.কে শামীমের কাজের ধরণ আলাদা । ঠিকাদরী কাজে তিনি বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিলেও অনেককেই ভাগ দিয়ে কাজ করতেন।
সূত্র দাবী করেছেন, একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বালিশ দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ঘটনায় শামীমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জিকে বিপিএলকে কালো তালিকাভূক্ত করা হয়। জিকে শামীম গ্রেফতার, ক্যাসিনিওতে অভিযান ও গ্রেফতার এই পদক্ষেপের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের কাছে প্রশংসিত হচ্ছেন। তাঁরা বলছেন ,মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দেশব্যাপী টেন্ডারবাজ, ঠিকাদারী কাজে ফাঁকিবাজী, কাজ শুরু করতেই প্রাক্কলিত টাকার অর্ধেক টাকা তুলে নেওয়াসহ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজদের ছেঁকে তুলে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন। দু/চারজন দুর্নীতিবাজ আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগে, দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তা না থাকলে আওয়ামীলীগের মতো রাজনৈতিক দল যে দলটি হুট করে গড়ে ওঠেনি, রাজনীতির স্রোতধারায় নানা চরাই উৎরাই পেরিয়ে উঠে এসেছে সেই আওয়ামীলীগের কিছুই হবে না। সবাই বলছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সৎ মানুষ ছিলেন। তাঁর বিরূপ সমালোচনাকারীগণ এ কথা বলেন না, তিনি দুর্নীতিবাজ ছিলেন। তাঁর বড় কন্যা শেখ হাসিনা পিতার সেই গুণ অবশ্যই পেয়েছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ