Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

ব্যাডমিন্টনের অস্থিরতা কাটবে কবে?

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৮:২৮ পিএম

বেশ কিছুদিন ধরেই অস্থির দেশের ব্যাডমিন্টন অঙ্গন। আসন্ন নেপাল সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ও পুরুষ দলের কোচ নিয়োগ, ক্যাম্প ও অনুশীলন নিয়ে একের পর অঘটন শেষে এবার যোগ হয়েছে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। যার জের ধরে জাতীয় দলের ক্যাম্প বর্জন করেছেন পুরুষ শাটলাররা। ২১ সেপ্টেম্বর সকালে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামের ব্যাডমিন্টন ম্যাটে অনুশীলন করা নিয়ে হয়ে গেল মারামারি। ঘটনাটি থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ালো। ওইদিন বিকেলে নেপাল এসএস গেমসের জন্য জাতীয় দলের মহিলা সদস্যরা অনুশীলনে মনোনিবেশ করলেও পুরুষ জাতীয় দলের সদস্যরা আসেননি অনুশীলনে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে পুরো অস্থিরতা বিরাজ করছে আদর্শ ক্রীড়া ডিসিপ্লিন ব্যাডমিন্টন সংশ্লিষ্টদের মাঝে। তাদের এই অস্থিরতা দেখার কেউ নেই। এমনকি কেউ কিছু বলছেনও না। কেউ জানেনও না আদর্শ এই ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে বিরাজমান অস্থিরতা কাটবে কবে। তারপরও ক্রীড়াবোদ্ধাদের প্রশ্ন কবে কাটবে ব্যাডমিন্টনের অস্থিরতা?

গত ১৫ জুলাই শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে আটজন পুরুষ ও ছয় নারী শাটলারকে নিয়ে শুরু হয় নেপাল এসএ গেমসের ব্যাডমিন্টন ক্যাম্প। পুরুষ শাটলাররা হলেন- এমএ সালমান খান, গৌরব সিংহ, আবদুল হালিম লোকমান, শুভ খন্দকার, জামিল আহমেদ দুলাল, রাহাত কবির খালেদ, সিবগাতুল্লাহ ও তুষার এবং নারী শাটলাররা হলেন- শাপলা আক্তার, এলিনা সুলতানা, দুলালী, উর্মি, রেহানা ও বৃষ্টি। কিন্তু ক্যাম্প শুরুর পরেই কোচ নিয়োগ নিয়ে বেঁকে বসলেন দেশসেরা দুই নারী শাটলার এলিনা সুলতানা ও শাপালা আক্তার। তারা কোচ মারুফ আলম ও গৌতম চন্দ্র দাসের তত্বাধানে প্রশিক্ষণ করবেন না। এ নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি। এলিনা ও শাপলার দাবী অনুযায়ী ফেডারেশন নারী দলের কোচ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সভাপতির নির্দেশক্রমে এনায়েত উল্লাহ খানকে এলিনার এবং অহিদুজ্জামান রাজুকে শাপলার কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। আর মারুফ ও গৌতমকে দায়িত্ব পান পুরুষ দলের কোচ হিসেবে। পরে নারী দলের কোচের পদ থেকে অব্যাহতি চান রাজু। তাই বর্তামানে এনায়েত একাই নারী শাটলারদের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করছেন। এগিয়ে যাচ্ছিলো জাতীয় পুরুষ ও নারী ব্যাডমিন্টন দলের অনুশীলন। এরই মাঝে শনিবার ঘটলো অনাকাঙ্খত এক ঘটনা। জাতীয় দলের ক্যাম্প চলাকালে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুশীলন করতে আসা অন্য শাটলাররা নিজেরা শিডিউল পরিবর্তন করে নেন। এই স্টেডিয়ামে ৮ হতে ১০ জন কোচ নিয়মিত অনুশীলন করান। জাতীয় দলের কোচ মারুফ জানান, ‘ফেডারেশনের সদস্য জাহিদুল হক কচির শিডিউল টাইম ছিল সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে সাড়ে আটটা। তিনি দায়িত্ব দেন জাকারিয়া নামে খেলোয়াড় কাম কোচকে। জাকারিয়ার পর্ব শেষ হলে সাড়ে আটটা থেকে শিডিউল ছিল আমার। তাকে মাঠ ছাড়তে বললে সে ছাড়েনি। এ নিয়ে কিছুটা বাগবিতন্ডা হয়। পরে সে বাইরে গেলে কি হয় সেটি বলতে পারছি না। পুলিশ যখন আমার কর্মস্থলে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করে তখন বুঝি জাকারিয়াকে কেউ মেরেছে। আমার এখানে প্রাকটিস করে একটি মেয়েকে জাকারিয়া মেসেজ পাঠায়। মেয়েটির ভাই হয়তো তাকে জিজ্ঞাসা করলে মারামারি হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ব্যাপারে আমি সিওর নই।’

জাকারিয়া বলেন, ‘জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য একটি কোর্ট বরাবরই খালি থাকার কথা। কিন্তু কোচ মারুফ আমাদের সেখানে খেলতে দিচ্ছিল না। তারপরও আমরা কোর্ট ছেড়ে চলে আসি। ইনডোর থেকে বের হওয়ার মুহুর্তে ৮-১০ জন অতর্কিতে আমাদের উপর হামলা চালায়। হঠাৎ আক্রমণে আমরা হতবিহ্বল হয়ে পড়ি। আমার গলা ও মাথায় আঘাত করে তারা। আমার সঙ্গী বাহাউদ্দিন বাধনকে (জুনিয়র র‌্যাঙ্কিং ১২) আঘাত করে আক্রমণকারীরা। পরিকল্পিতভাবেই তারা এ কাজটি করে। পরে জীবন বাঁচাতে আইনের আশ্রয় নেই আমি।’

এই ঘটনার জের ধরেই শনিবার জাতীয় দলের ক্যাম্প বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন পুরুষ শাটলাররা। তাৎক্ষনিক জাতীয় দলের ৮ জনের মধ্যে ৭ শাটলার ক্যাম্প বর্জনও করেন।

ক্যাম্প বর্জনের পর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের ডাবলসে চারবারের চ্যাম্পিয়ন দুলাল আহমেদ রোববার ইনকিলাবকে বলেন, ‘মূলত মারুফ আলম ও গৌতম চন্দ্র দাসের অধীনে প্রশিক্ষণ নিয়ে আমাদের কোন উন্নতি হচ্ছেনা। গেল একমাস ধরে উনারা আমাদের যা শেখাচ্ছেন তা আমরা আগে থেকেই জানি। আমাদের দাবী বিদেশী কোচ নিয়োগ। যদি তা না হয় তবে বর্তমানে দেশে ভালো মানের স্থানীয় কোচ যারা আছেন তাদের অধীনে প্রশিক্ষণ নিতে রাজী আছি আমরা।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ব্যাডমিন্টন


আরও
আরও পড়ুন