Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭ আশ্বিন ১৪২৭, ০৪ সফর ১৪৪২ হিজরী

ইউপি নির্বাচনের জের কুমিল্লা উত্তরের আ.লীগ নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত, বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ

প্রকাশের সময় : ১৫ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মোহাম্মদ জসিমউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা উত্তর থেকে

গেল অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহীদের জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে কুমিল্লা উত্তর জেলার ৭টি উপজেলার নেতাকর্মীরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে অন্তর্কলহে জড়িয়ে পড়ছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার ফলে এই বিভক্তির রূপ ধারণ করেছে। ফলে একটা চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে নেতাকর্মীদের মাঝে। এতে করে তৃণমূলে বিভক্তি চরম আকার ধারণ করেছে। নির্বাচনে দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রতিটি উপজেলায় ত্যাগী পোড়খাওয়া এবং এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এমন সব নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে গত ৭ বছর ধরে স্থানীয় প্রশসনে আধিপত্য বিস্তার ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে  অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে নেতাকর্মীরা। তার রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূলের ইউপি নির্বাচনের জের ধরে ৭টি উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আবারো অন্তর্কলহের দামামা বেজে উঠেছে। জানা যায়, কুমিল্লার দাউদকান্দি, তিতাস, হোমনা, চান্দিনা, মেঘনা, দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলা সমন্বয়ে গঠিত কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কমিটি। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কুমিল্লার এই অঞ্চলটি ২০০৮ সালের জাতীয়  নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দখলে নিলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে জনসমর্থন ও ভোটের দিক দিয়ে এখনো গুছিয়ে উঠতে পারেনি দলটি। জেলা কমিটি সুসংগঠিত থাকলেও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা স্থানীয় প্রশাসনে প্রাধান্য বিস্তার ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তারা পাল্টপাল্টি কমিটি ঘোষণা দিয়ে তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে নেতাকর্মীরা খনোখুনিসহ মামলা-মোকদ্দমার মতো  চূড়ান্ত বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। জেলার নেতারা উপজেলাগুলোর দলীয় অন্তর্কলহ একপর্যায়ে সামাল দিলেও গেল অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জের ধরে নেতাকর্মীদের মধ্যে আবারো নতুন করে কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে উপজেলার শীর্ষ নেতাদের পছন্দের লোকদের দলীয় মনোনয় দেয়া হয়। এদের অনেকের দলে পদ-পদবিও নেই। তৃণমূল থেকে এই অভিযোগ বার বার উঠে আসছিল। যার কারণে ৭টি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ফলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর পর বিদ্রোহীদের সমর্থক আর দলীয় মনোনীতদের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ এখন তুঙ্গে অবস্থান করছে দাউদকান্দি, তিতাস, মেঘনা ও মুরাদনগর উপজেলার নেতাকর্মীদের মাঝে। এখানে একদিকে বিদ্রোহীদের ক্ষোভ অন্যদিকে যারা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তাদের ভাগাভাগি নিয়েও শীর্ষ নেতাদের মধ্যে চরম বিরোধ চলছে। এদিকে, মুরাদনগরের এমপি এবং এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি ইউসুফ আবদুল্লা হারুনের সমর্থকদের দাবি, ২২টি ইউনিয়নে তাদের সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে। অপরদিকে, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ জাহাঙ্গীর আলম সরকারের সমর্থকরা বলছেন, ইউপি নির্বাচনে জয়-পরাজয় আর লাভ-লোকসান সবই আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, আওয়ামী ঘরানার কর্মী-সমর্থক ও এলাকার নিরপেক্ষ ভোটারের ভোটে নৌকা মার্কার প্রার্থী ও দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, এখানকার আওয়ামী লীগের মূল¯্রােত জেলা সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম সরকারের নেতৃত্বে আছে, থাকবে। কারণ জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বের শিকড় শুধু মুরাদনগর নয় কুমিল্লা উত্তর জেলার ৭টি উপজেলার তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। যার ফলে তিনি বার বার জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসীন হচ্ছেন। জাহাঙ্গীর আলমের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ফলে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ ও ৭টি উপজেলা আওয়ামী লীগ এখনো টিকে আছে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তৃণমূল নেতারা বলছেন, প্রতিটি মূহর্তে জেলা সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম আমাদের পাশে আছে। জেলা সভাপতি আলহাজ আবদুল আউয়াল সরকার ইনকিলাবকে বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল তাই নেতাকর্মীদের মধ্যে একটু মতভেদ থাকবেই, কিন্তু দলের মূল¯্রােতের বাইরে কেউ নেই। সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেছেন, দলে পদ-পদবি না থাকলে যা খুসি তাই বলা যায়। আর এসব লোকদের বলাবলিতে দলের কিছু আসে যায় না। আওয়ামী লীগ তার নিজস্ব নীতি ও আদর্শে চলবেই। তিনি বলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা ও ৭টি উপজেলা আওয়ামী লীগে কোনো বিভক্তি নেই, নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য অটুট আছে ও আগের চেয়ে আওয়ামী লীগের ভিত আরো মজবুত হয়েছে, আরো শক্তিশালী হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইউপি নির্বাচনের জের কুমিল্লা উত্তরের আ.লীগ নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত
আরও পড়ুন