Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৭ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী

রোহিঙ্গা এনআইডি কান্ডে জড়িত ইসির ১৫ কর্মকর্তা

সংবাদ সম্মেলনে ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় সম্পৃক্ত করার কাজে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। এ কাজে কতজনের সম্পৃক্ততা পেয়েছি এ মুহ‚র্তে তাদের নাম বলতে চাই না। তবে আমরা পর্যায়ক্রমে তাদের নাম প্রকাশ করব। আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। এই সংখ্যা ১৫ জনের মতো, তাদের শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

গতকাল রাজধানীর নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ইসির এনআইডি বিভাগের পরিচালক আবদুল বাতেন, উপ-পরিচালক ইকবাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে ইসির সর্বোচ্চ কোন লেভেলের কর্মকর্তা জড়িত- এমন প্রশ্নের জবাবে এনআইডি ডিজি বলেন, অচিরেই আপনারা তাদের নাম-পরিচয় জানতে পারবেন। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের ৬১ জনের তালিকা পেয়েছি, যারা ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তারা কিভাবে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করল, কারা তাদের সহযোগিতা করল; সব খুঁজে বের করা হবে। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইসির এনআইডি বিভাগ অনিয়ম-দুর্নীতি কমাতে শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে জানিয়ে সাইদুল ইসলাম বলেন, এনআইডিকে সুরক্ষিত করার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেয়া দরকার আমরা তাই করব। আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের মূল ডেটাবেজ সুরক্ষিত আছে। যারা এখানে ঢোকার অপচেষ্টা করেছিল, তারা ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আইটি বিভাগ এই অপচেষ্টাকারীদের চিহ্নিত করেছে। আমরা কাউকে ছাড় দেবো না। এটা বাস্তবায়ন করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

ল্যাপটপ চুরি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১২ সালে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থেকে ৪টি এবং বিভিন্ন সময় আরও তিনটি ল্যাপটপ হারিয়েছিল। এসব ল্যাপটপ দিয়ে ইসির সার্ভারে প্রবেশ করা যাবে না। কারণ সার্ভারে প্রবেশের জন্য ইসির নির্ধারিত পাসওয়ার্ড দেয়া মডেম লাগবে।

নির্বাচন কমিশন থেকে বিভিন্নভাবে চাকরিচ্যুতরা যাতে কোনোভাবেই নির্বাচন কমিশনের কাজে সংশ্লিষ্ট হতে না পারে, সেজন্য মাঠপর্যায়ে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধের কারণে ইসি থেকে যারা চাকরিচ্যুত হয়েছে তাদের তালিকা আমরা বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে দিয়েছি। ইসির কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছি, যাতে কোনোভাবেই অস্থায়ী ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ দেয়া না হয়। ডাটাএন্টি অপারেটর হিসেবেও যাতে তারা নিয়োগ না পায় সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, যেসব প্রজেক্ট থেকে ইসিতে জনবল সরবরাহ করা হয়, তাদেরও এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানও যদি এসব লোক নিয়োগ দেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। চাকরিচ্যুতদের আমরা কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখছি। ইতোমধ্যে আমরা বিষয়টি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়ে দিয়েছি, যাতে তারা কোনোভাবেই ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ করতে না পারে।

এনআিইডি ডিজি বলেন, রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে ইসির কর্মকর্তাদের বদলি করা হবে, যাতে তারা একই জায়গায় দীর্ঘদিন কাজ করতে না পারে। একই সঙ্গে আমাদের নিবন্ধন কর্মকর্তাদের পাসওয়ার্ড অন্যরা ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য কড়া নজরদারি করা হবে। যদি কেউ হস্তান্তর করে তাহলে এই ব্যর্থতার জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ভোটার করার ব্যাপারে যাদেরই সম্পৃক্ততা পেয়েছি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি এবং তা অব্যাহত থাকবে; সে যেই হোক না কেন। এখানে যদি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করতে হয় আমরা তা করব। ফৌজদারি মামলা করতে হলে আমরা তা করব। কারো বিরুদ্ধে যদি দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে আমরা দুদকের সহযোগিতা নেব। দোষীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য যা যা করতে হয় তাই করব।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রোহিঙ্গা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ