Inqilab Logo

শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৮ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

১০ হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগ নাম নেই একজনেরও : ট্রাইব্যুনাল

প্রকাশের সময় : ১৫ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামালপুরের আশরাফ হোসেনসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে একাত্তরে ১০ হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগ আনা হলেও একজনের নামও উল্লেখ করেনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বলেছে, অভিযোগটি সুস্পষ্ট নয়। ১০ হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে অথচ কোনো ব্যক্তির নাম আসেনি। গতকাল মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই মন্তব্য করেন।
এর আগে নির্ধারিত দিন অনুসারে আসামিদের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল। এসময় তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত ৫টি অভিযোগের মধ্যে ২, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর অভিযোগের ওপর যুক্তি উপস্থাপন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনকালে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত ৪ নম্বর অভিযোগে ভিকটিম রেজাউল করিমকে একাত্তর সালে আটক করার পৃথক অভিযোগ আনা হয়েছে। এখানে তার নাম উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ১ নম্বর অভিযোগের ১০ হাজার মানুষ হত্যার যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেখানে একজন ভিকটিমেরও নাম নেই কেন তা জানতে চান ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা। বিচারপতিরা বলেন, এ অভিযোগে (১ নং অভিযোগে) তদন্ত সংস্থা কি একজনের নামও খুঁজে বের করতে পারেননি? তারা কি চার্জে ১০-১২ জনের নাম উল্লেখ করতে পারেননি? তারা (তদন্ত সংস্থা) কি করেছেন?
ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বলের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে ট্রাইব্যুনাল বলেন, একাত্তরের ৯ মাসে জামালপুরে ১০ হাজার মানুষ হত্যার মাস, তারিখ, সময় জানতে চাই না। ওই ৯ মাসে কাদেরকে কিভাবে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে তাদের নাম বলেন না?
বিচারপতিদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল বলেন, আমি আসামিদের বিরুদ্ধে ২, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর অভিযোগের ওপর যুক্তি উপস্থাপন করে গেলাম। ১ নম্বর অভিযোগের ওপর প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ যুক্তি উপস্থাপন করবেন। পরে প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে যুক্তি উপস্থাপন করতে বলা হলে তিনি আজ বুধবার পর্যন্ত সময় আবেদন করেন। এসময় ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য মামলাটি বুধবার পর্যন্ত মুলতবি রাখার নির্দেশ দেন।
যুক্তি উপস্থাপনের সময় ট্রাইব্যুনালে আরো উপস্থিত ছিলেন  প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন এবং প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম। অন্যদিকে আসামিপক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মিজানুর রহমান, আইনজীবী এইচ এম তামিম প্রমুখ।
গত ২৫ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: মতিউর রহমান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে চিফ প্রসিকিউটর  গোলাম আরিফ টিপুর কাছে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা  দেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে ৯২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে জামালপুরের উক্ত আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা, লাশ গুম, লুটপাট, নির্যাতন ও অপহরণসহ ১০ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনের পাঁচটি অভিযাগ পাওয়া উত্থাপন করা হয়। এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৬ পাতার দালিলিক প্রমাণ এবং ৪০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধের সময়কাল ১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধরা হয়েছে।
যুদ্ধকালীন এই সময়ে আসামিরা জামালপুরে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে হত্যা, ৫০ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস করে প্রায় ১২  কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ৮ জনের মধ্যে ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেনÑ জামালপুর শহরের নয়াপাড়া এলাকার অ্যাডভোকেট শামছুল হক (৭৫) ও সিহংজানি বালক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফুলবাড়িয়ার বাসিন্দা এস এম ইউসুফ আলী (৮২)। এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেনÑ মো: আশরাফ হোসেন, অধ্যাপক শরীফ আহমেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মো: আব্দুল মান্নান, মো: আব্দুল বারি, হারুন, মো: আবুল কাসেম।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ১০ হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগ নাম নেই একজনেরও : ট্রাইব্যুনাল
আরও পড়ুন