Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার , ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

সার্ক পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৩:০২ পিএম

জাতিসংঘে সাধারণ অধিবেশনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক বৈঠক। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্য শেষে এবং তিনি বৈঠক থেকে চলে যাওয়ার পরে এতে যোগ দেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি। ভারত এটাকে পাকিস্তানের ‘হাইভোল্টেজ’ নাটক হিসেবে আখ্যায়িত করছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ। এতে বলা হয়, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ভারত সরকারের সূত্রগুলো বলছেন, এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তান তার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। তা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশিকে ছাড়াই শুরু হয় বৈঠক। কেন কুরেশি ওই সময়টাতে বৈঠক বর্জন করেছিলেন? এর জবাবে পাকিস্তানে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই)-এর অফিসিয়াল টুইটার একাউন্টে বলা হয়, কাশ্মীর পরিস্থিতির জন্য ওই বর্জন।

জি নিউজ লিখেছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর এবং তিনি চলে যাওয়ার পরেই বৈঠককক্ষে প্রবেশ করেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরেশি। এর নেপথ্যে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলে ভারতীয় সিদ্ধান্ত। কুরেশি বৈঠকে দাবি করেন তার দেশ সার্কের প্রতি অনুগত। রাজধানী ইসলামাবাদে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন করতে চায় পাকিস্তান।

এর পরেই এস জয়শঙ্কর টুইট করেন। তাতে তিনি বলেন, ফলপ্রসূ সহযোগিতার জন্য শুধু সব রকম সন্ত্রাস নির্মূলই পূর্বশর্ত নয়। একই সঙ্গে তা এ অঞ্চলে আমাদের সবার টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাস হলো এ অঞ্চলের বড় বাঁধা।

ওদিকে এস জয়শঙ্করের বক্তব্যের পর কুরেশি বলেন, ২০১৬ সালে ইসলামাবাদে হওয়ার কথা ছিল সার্ক সম্মেলন। ভাল খবর হলো, আমরা সেই সম্মেলন করতে প্রস্তুত। ওই সম্মেলনের জন্য ইসলামাবাদে সার্কভুক্ত মন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানাই। পরবর্তী সার্ক সম্মেলন হবে ইসলামাবাদে। কেউ এ বিষয়ে আপত্তি করেন নি। তবে এ সময় তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, ভারত কি একমত হয়েছে? ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কি ইসলামাবাদে যাবেন? এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি কুরেশি।
সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রস্তাব করেছেন আগামী সার্ক সম্মেলনের জন্য তারিখ নির্ধারণ করা যেতে পারে, যেখানে সভাপতিত্ব করবে নেপাল। তাই তিনি এই বৈঠককে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক বলে আখ্যায়িত করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে উরি’তে সন্ত্রাসী হামলার পরে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন বাতিল হয়। তারপর থেকে ভারত দৃষ্টি দিয়েছে বিমসটেকের দিকে। ওই সময় ইসলামাবাদে হতে যাওয়া সার্ক সম্মেলন বর্জন করে বাংলাদেশ, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও মালদ্বীপ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত-পাকিস্তান


আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ