Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকি

কূটনৈতিক সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:১৯ পিএম

মিয়ানমার থেকে বিতারিত রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু নির্দিষ্ট ক্যাম্পে সীমাবদ্ধ থাকছে না। রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৪ তম অধিবেশনে চার দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেলে জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যান্য বারের মতো এবারও বাংলায় ভাষণ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর চার দফা প্রস্তাবের প্রথম দফা হচ্ছে-‘রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন এবং আত্মীকরণে মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পূর্ণ প্রতিফলন দেখাতে হবে।’
জাতিসংঘে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর অন্য তিন প্রস্তাব হচ্ছে- ‘বৈষম্যমূলক আইন ও রীতি বিলোপ করে মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরি করতে হবে এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের উত্তর রাখাইন সফরের আয়োজন করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বেসামরিক পর্যবেক্ষক মোতায়েনের মাধ্যমে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তাঁর শেষ প্রস্তাবে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণসমূহ বিবেচনায় আনতে হবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অন্যান্য নৃশংসতার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।’
এরআগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২ তম অধিবেশনেও প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব করেছিলেন।
এবারের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২ তম অধিবেশন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কফি আনান কমিশনের সুপারিশসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং রাখাইন প্রদেশে বেসামরিক তত্ত্বাবধানে সুরক্ষা বলয় প্রতিষ্ঠাসহ পাঁচ দফা প্রস্তাব পেশ করেছিলাম।
এতদিনেও রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হওয়া বাস্তবিকপক্ষেই দুঃখজনক। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হওয়ায় আজ এই মহান সভায় এ বিষয়টি আমাকে পুনরায় উত্থাপন করতে হচ্ছে। ১১ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের আশ্রয়ে রয়েছে। যারা হত্যা ও নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছে, কিন্তু মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও চলাফেরার স্বাধীনতা এবং সামগ্রিকভাবে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে ফিরে যায়নি।
তিনি বলেন, এই সমস্যা এখন আর বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বাংলাদেশের সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বিষয়টি এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপরন্তু, ক্রমবর্ধমান স্থান সংকট এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের কারণে এই এলাকার পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এমন একটি সমস্যার বোঝা বহন করে চলেছি যা মিয়ানমারের তৈরি। এটি সম্পূর্ণ মিয়ানমার এবং তার নিজস্ব নাগরিক রোহিঙ্গাদের মধ্যকার একটি সমস্যা। তাদের নিজেদেরই এর সমাধান করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সুরক্ষিত ও সম্মানের সঙ্গে স্বেচ্ছায় রাখাইনে নিজ গৃহে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করতে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
জাতিসংঘের ৭৪ তম অধিবেশনে সাধারণ বিতর্কের বিষয়বস্তু হলো ‘দারিদ্র্য বিমোচন, মানসম্মত শিক্ষা, জলবায়ু কর্মসূচি এবং অন্তর্ভুক্তিকরণ বহুপক্ষীয় প্রচেষ্টার উজ্জীবন।’ নাইজেরিয়ার টিজানি মুহাম্মাদ-বান্দে জাতিসংঘের ৭৪ তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন।



 

Show all comments
  • M N Ahmed ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ২:২২ পিএম says : 0
    Who created this Rohingya problem? China knows very well and we all know as well that this is created by current ruling parties of India and Bangladesh just to lengthen the tenure of their ruling in both countries by taking the advantage of it. So, Chaina is also taking advantage. In the middle Bangladesh is suffering.
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Shah Alam Khan ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৮:০৭ পিএম says : 0
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমার থেকে বিতারিত রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি বার বার জাতিসংঘের কাছে এই সমস্যার সমাধান চেয়ে আসছে এটা আমরা দেখে আসছি। এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার কারনে বাংলাদেশের জনগণ রোহিঙ্গা দের প্রতি সদয় রয়েছে। কিন্তু প্রতিদানে রোহিঙ্গারা শুধু বাংলাদেশের জন্যেই নয় আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সুষ্ঠ সমাধানের জন্যে জাতিসংঘের ৭৪ তম সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন। আমরা আশাকরবো এবার জাতিসংঘের অধিবেশনে এই প্রস্তাব গুরুত্বের সহিত নিবে এবং ভারত, চীন সহ রাশিয়াকে বাধ্য করবে এই প্রস্তাব মেনে মিয়ানমারের প্রতি তাদের অন্যায় সহযোগিতা প্রত্যাহার করে ন্যায় ভাবে সবার পাশে দাঁড়ায়। চীন, ভারত, রাশিয়া, আমেরিকা এসব শক্তিশালী দেশ গুলো নিজের স্বার্থে কোন ন্যায় অন্যায় দেখেনা শুধু তাদের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে। আবার অন্যের বেলায় ন্যায়ের কথা বলে সেসব দেশের উপর খবরদারী শুরু করে চাঁদা আদায় করতে পিছপা হয় না। এটাই হচ্ছে এসব শক্তিধর দেশের মূল কথা, জাতিসংঘ এসব জেনেও কয়েকটা বক্তব্য দিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করে। জতিসংঘ কেবল মাত্র আমাদের মত দুর্বল দেশের জন্যে সবল আর শক্তিধর দেশ গুলোর জন্যে নীরব এটাই সত্য। আল্লাহ্‌ আমাদেরকে সত্য পথে থেকে সত্য বলতে এবং সত্যকে বাস্তবায়িত করতে শক্তি প্রদান করুন। আমিন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রোহিঙ্গা

২৫ জানুয়ারি, ২০১৯
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

আরও
আরও পড়ুন