Inqilab Logo

রোববার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৮ কার্তিক ১৪২৮, ১৬ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে মিলিয়নিয়ার হলেন ফরিদপুরের মুদি দোকানি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪:০৪ পিএম

সায়েম মোল্ল্যা। ফরিদপুর সালথা বাজারের মুদি দোকানি। পরিবারে রয়েছে স্ত্রী ও ২ মেয়ে। মুদি দোকানের আয় দিয়েই চলছে সংসার। ভিটে বাড়ী ছাড়া ছিল না কোনো জমি-জমা বা সম্পতি। তবে, এখন তিনি মিলিয়নিয়ার। সম্প্রতি ওয়ালটনের ‘কে হবেন আজকের মিলিয়নিয়ার’ শীর্ষক ক্যাম্পেইনের আওতায় ফ্রিজ কিনে পেয়েছেন ১০ লাখ টাকা। সেই খুশিতে তার পরিবারে বইছে আনন্দের জোয়ার। দুই মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য এই টাকা স্থায়ী আমানত হিসেবে ব্যাংকে জমা রেখেছেন তিনি।

সম্প্রতি ফরিদপুরের সালথা বাজারে ওয়ালটনের পরিবেশক তামিম ইলেকট্রনিক্স থেকে একটি ফ্রিজ কিনেন সায়েম মোল্ল্যা। কেনার পরপরই তার নাম, মোবাইল নাম্বার ও পণ্যের বারকোড নাম্বার দিয়ে ফ্রিজটি রেজিস্ট্রেশন করেন। কিছুক্ষণ পরেই তার মোবাইলে ওয়ালটনের কাছ থেকে ম্যাসেজ আসে। দেখেন- ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন। তৎক্ষণাৎ হতবাক হয়ে যান সায়েম।

গত বুধবার সায়েম মোল্ল্যার হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন ফোরের সমন্বয়ক মো. নাজমুল হোসাইন ও সিনিয়র ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর মো. একরাম হোসেন পলাশ, ডিস্ট্রিবিউটর নেটওয়ার্ক ফরিদপুর জোনের এরিয়া ম্যানেজার বিজয় কুমার নাথ, সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ফরিদপুর শাখার ম্যানেজার মো. আকিবুল ইসলাম, তামিম ইলেকট্রনিক্সের সত্ত্বাধিকারী সাহেব মাতুব্বরসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।

সায়েম মোল্ল্যা বলেন, ‘মনে হচ্ছে- স্বপ্ন দেখছি। দু’দিন আগেও ভিটেবাড়ী ছাড়া কিছু ছিলনা। আর এখন আমার হাতে ১০ লাখ টাকা। এ যেন আলাদীনের চেরাগ পেয়েছি। সারাজীবন ওয়ালটনের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো।’

তিনি আরো বলেন, অনেক বছর ধরেই ওয়ালটনের পণ্য ব্যবহার করছি। এখনও ঘরে ওয়ালটনের ৪ টি সিলিং ফ্যান, একটি ইস্ত্রী, ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি আছে। দোকানের ফ্রিজটিও ওয়ালটনের। অন্যান্য কোম্পানির চেয়ে ওয়ালটনের এসব পণ্য কম দামে কিনেছি । মানও অনেক ভালো। তাই, বাড়ীর জন্যও ওয়ালটনের ফ্রিজ কিনলাম।’

এদিকে শরীয়তপুরে জেলায় ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ১ লাখ টাকা করে পেয়েছেন দুই ক্রেতা। এরা হচ্ছেন- সদর উপজেলার কাঁচামাল ব্যবসায়ী এমদাদ মুন্সী ও জাজিরা উপজেলার কৃষক দানেশ সিকদার। গত বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শরীয়তপুর সদরে ওয়ালটন প্লাজায় এমদাদ মুন্সীর হাতে ১ লাখ টাকার চেক তুলে দেয়া হয়।

একই দিনে জাজিরা বাজারে ওয়ালটনের এক্সক্লুসিভ পরিবেশক পদ্মা ইলেকট্রনিক্সে ক্রেতা দিনেশ সিকদারের হাতে ১ লাখ টাকার আরেকটি চেক তুলে দেয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বেলায়েত হোসেন, শরীয়তপুরে ওয়ালটন সাভিস সেন্টারের ম্যানেজার রিফাত হোসেন, ওয়ালটন প্লাজার ম্যানেজার গৌরাঙ্গ হাজরা, পদ্মা ইলেকট্রনিক্সের সত্ত্বাধিকারী আলম সরদারসহ স্থানীয় ব্যক্তিগণ।

উল্লেখ্য, অনলাইনে দ্রুত বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করতে কাস্টমার ডাটাবেজ তৈরি করছে ওয়ালটন। সেজন্য সারা দেশে ডিজিটাল ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ওই ক্যাম্পেইনে ক্রেতাদের উদ্বুদ্ধ করতে ‘কে হবেন আজকের মিলিয়নিয়ার’ সুবিধা ঘোষণা করে ওয়ালটন। এ সুযোগ থাকছে ৩০ শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এর আওতায় ইতোমধ্যেই ২০ জনেরও বেশি ক্রেতা মিলিয়নিয়ার হয়েছেন। অসংখ্য ক্রেতা ১ লাখ টাকা করে পেয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন অঙ্কের নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচারসহ ফ্রিজ, টিভি ও নানান ধরনের ইলেকট্রনিক্স পণ্য ফ্রি পেয়েছেন হাজার হাজার ক্রেতা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন

ঘরে বসেই হবে আয়কর রিটার্ন ফরম পূরণ

img_img-1635053710

ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্ন ফরম এবং সম্পদের হিসাব-নিকাশ এখন অনলাইনে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পূরণ  করা যাবে। ঘরে বসেই করা যাবে আয়কর পরিশোধ এবং রিটার্ন ফাইল দাখিল। বাসায় বসেই নেয়া যাবে আয়কর সংক্রান্ত যেকোনো সেবাও। আয়কর রিটার্ন দাখিল সহজতর করতে ডিজিট্যাক্স নামক এমন একটি ওয়েব অ্যাপলিকেশন নিয়ে এসেছে দেশ ইউনিভার্সেল নামক একটি প্রতিষ্ঠান। শনিবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর কার্যালয়ে ডিজিট্যাক্সের এ অনলাইন ট্যাক্স অ্যাপলিকেশনটি উদ্বোধন করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (করনীতি) মো. আলমগীর হোসেন। এ সময় পেশাধার হিসাববিদদের সংগঠন দি ইনিস্টিটিউট অফ চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) প্রেসিডেন্ট মাহমুদুল হাসান খসরু, ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একে এম আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন, ডিজিট্যাক্সের পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার রঞ্জু ও ইআরএফ সেক্রেটারি এসএম রাশিদুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। ডিজিট্যাক্সের মূল ফিচার বর্ননা করে প্রতিষ্ঠানটির টিম মেম্বার সৈয়দা নুসরাত হায়দার বলেন, আমাদের দেশে বিভিন্ন লেভেলের টেক্স পেয়ার রয়েছে, এর মধ্যে অধিকাংশই আয়কর ক্যালকুলেশন এর নিয়মাবলী ও আইন কানুন যথাযথভাবে জানেন না। ফলে সুচারুভাবে রিটার্ন প্রস্তুত করতে পারেন না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট খাতে ইনপুট দিয়ে সহজেই রিটার্ন প্রস্তুত করতে পারেন সে ব্যবস্থা নিয়ে এসেছি। আমাদের সিস্টেমে রয়েছে আইন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় আয়কর গণনা পদ্ধতি যাতে করে ব্যবহারকারীরা সহজেই আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত করতে পারেন। ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে, বাংলা ভাষায়ও সফটওয়ারটি ব্যবহারের পদ্ধতি রাখা হয়েছে। করদাতা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে রিটার্ন পূরণ করে নিজে আয়কর অফিসে জমা দিতে পারেন অথবা গ্রাহক যদি চান, তবে ডিজিট্যাক্সের পেশাদার আইনজীবীর মাধ্যমে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। ডিজিট্যাক্সের সিস্টেমটি এনবিআরের সাথে ইন্টিগ্রেট করতে পারলে ভবিষ্যতে তাদের মাধ্যমেই করদাতারা অনলাইনে তার রিটার্ন সাবমিট করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সৈয়দা নুসরাত হায়দার। এতে করে মেনুয়াল পেপার বেইজ সাবমিশন প্রয়োজন হবে না এবং সরকারও ডাটা এন্ট্রি ছাড়াই রিয়েল টাইম আপডেট পাবে বলে জানান তিনি। করদাতার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক করদাতার ব্যক্তিগত আইডি ও পাসওয়ার্ড থাকবে। তিনি ছাড়া আর কেউ এ তথ্য দেখতে পাবেন না। করদাতা তার তথ্য সেইভ করে রেখে যেকোনো সময় তা আবার লকইন করে এডিট করতে পারবেন। তিনি বলেন, সরকার একটি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে আয়করের আওতায় আনার জন্য এরইমধ্যে অনেক ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের সাথে ব্যক্তি পর্যায়ে আমরা কাজ করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। এর অংশ হিসেবে আমরা এই সফটওয়্যার টি ডেভলপ করেছি। ভবিষ্যতে সরকারের সাথে ইন্টিগ্রেটেড হয়ে একসাথে কাজ করতে পারবো এটাই আমাদের লক্ষ। আয়কর আইনজীবিরাও এর মাধ্যমে তাদের ক্লায়েন্টদের কর সেবা দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সৈয়দা নুসরাত হায়দার। অ্যাপলিকেশনটি উদ্ভোধন করে এনবিআর সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, মানুষের মধ্যে কর দেয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। করদাতার সংখ্যাও বাড়ছে। এতো বিপুল সংখ্যক করদাতাকে প্রচলিত পদ্ধতিতে করসেবা দেয়া সম্ভব নয়। করদাতাকে সেবা দিতে সব কিছু অনলাইন করা ও রিটার্ন দাখিল স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি করার বিকল্প নেই। এনবিআর অনেক আগেই এ উদ্যোগটি নিয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে রিটার্ন ফরম পূরণ, দাখিল ও পেমেন্ট সিস্টেম চালু করছি। বেসরকারিভাবে ডিজিট্যাক্সের এগিয়ে আসা কর সেবাকে ডিজিটাল করার উদ্যোগ আরো সহজতর হবে। তিনি বলেন, রিটার্ন দাখিল অনলাইন করার পাশাপাশি ১ নভেম্বর থেকে আমরা আয়কর মাস পালন করছি। করাঞ্চলগুলোতে মেলার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। করদাতারা স্বাচ্ছন্দে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মাহমুদুল হাসান খসরু বলেন, আয়কর আইন হলো পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিনতম একটি আইন। এটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। এ আইন নিয়ে এতো বড় ‍উদ্যোগ নেয়ায় ডিজিট্যাক্স প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি বলেন, ডিজিট্যাক্সের এ উদ্যোগটি করদাতাদের সহায়তা করবে। এর ফলে বিপুল মানুষকে রিটার্ন দাখিলে আগ্রহী করা যাবে। সরকারও রাজস্ব পাবে। এর আগে শুভেচ্ছা বক্তব্যে ডিজিট্যাক্সের এডভাইজার ও দেশ ইউনিভা্র্সেল নির্বাহী পরিচালক মোসারাত নাইমা বলেন, ডিজিট্যাক্স একটি স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্স রিটার্ন ফরম পূরণের ওয়েব অ্যাপলিকেশন। রেজিট্রেশন করার পর করদাতা তার আয়ের তথ্য দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর গণনা হয়ে যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ