Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

কানাডার জলবায়ু সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৪:১২ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতাদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার লক্ষ্য নিয়ে কানাডার রাজপথে নেমেছে লাখ লাখ মানুষ। শুক্রবার বিভিন্ন শহর ও মহানগরে এ ধরনের প্রায় একশোটি আয়োজনে এসব মানুষ অংশ নেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে কানাডায় এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্কুলে আন্দোলন কর্মসূচি পালনের সূচনা করে সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনবিরোধী আন্দোলনকে জোরালো করে তুলেছেন সুইডেনের স্কুল শিক্ষার্থী গ্রেটা থানবার্গ।
বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন, শিল্পবিপ্লব পরবর্তী যুগে উন্নত দেশগুলোর মাত্রাতিরিক্তি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৈশ্বিক উষ্ণতার মাত্রাকে ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এর কারণে জলবায়ু পরিবর্তন দানবীয় রূপ নিয়েছে। উষ্ণায়নের কারণে গলছে হিমবাহের বরফ, উত্তপ্ত হচ্ছে সমুদ্র, বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ব্যহত হচ্ছে স্বাভাবিক ঋতুচক্র। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি, স্থানচ্যুত হচ্ছে মান্ষু। অভিবাসী কিংবা শরণার্থীতে রূপান্তরিত হচ্ছে তারা। বাংলাদেশে এই বাস্তবতা এরইমধ্যে ভয়াবহভাবে দৃশ্যমান।
কানাডায় জলবায়ু সুরক্ষার স্বার্থে বিক্ষোভ কমূর্সচির আয়োজকরা বলছেন, মন্ট্রিলের পূর্বাঞ্চলের মিছিলে শুধু যোগ দিয়েছে প্রায় ৫ লাখ মানুষ। কর্মকর্তারা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে এই সংখ্যা তিন লাখ হাজার হতে পারে বলে জানিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীর সংখ্যার হিসেবে পরিবেশ বিষয়ক যেকোনও বিক্ষোভে এটাই সবচেয়ে বড় সমাবেশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে জলবায়ু সমাবেশে যোগ দেয় তিন লাখ ১০ হাজার মানুষ।
জলবায়ু পরিবর্তন বিরোধী লড়াইয়ের প্রতীকে পরিণত হওয়া ১৬ বছর বয়সী স্কুল শিক্ষার্থী গ্রেটা থানবার্গ গত সোমবার জাতিসংঘে আয়োজিত এক সম্মেলনে বিশ্ব নেতাদের কঠোর সমালোচনা করেন। মন্ট্রিলের  কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি। সেখানে প্রায় তিন লাখ আন্দোলনকারীর সামনে বক্তৃতা দেন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, সবাইকে এগিয়ে আসতে দেখা উৎসাহব্যঞ্জক, সবাই প্রচুর উৎসাহ নিয়ে এগিয়ে আসছে আর ধর্মঘট পালন করছে। এটা একটা ভালো দিন, আমি বলতে পারি। সফরের সময় তাকে মন্ট্রিল শহরের একটি চাবি উপহার দেবেন মেয়র ভ্যালেরি প্লান্টে।
মন্ট্রিলের আয়োজনে যোগ দিতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বা দিনের সবগুলো ক্লাস বাতিল করা হয়। সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা তাদের কর্মীদের এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে উৎসাহ যোগান। সমাবেশে যোগ দিতে বিনামূল্যে দেওয়া হয় গণপরিবহন সেবা।
আয়োজনে সাহায্য করা ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী লিয়া ইলরাদো বিবিসিকে বলেন, ‘যখন মানবতা ও আমাদের গ্রহের অস্তিত্ব হুমকির মুখে তখন আমরা কেন কাজ বা পড়াশোনা করবো’? শুক্রবারের সমাবেশে যোগ দেয় সব বয়সী মানুষ। ৭০ বছর বয়সী সুয়ে আলওয়ার্দ বলেন, সত্যিকার সমস্যা হলো রাজনৈতিক নেতাদের কিভাবে এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে? পুরো ব্যবস্থাটাই পরিবর্তন করতে হবে।
কানাডার কেন্দ্রীয় নির্বাচনি প্রচারণার মধ্যেই এই কর্মসূচি পালিত হলো। ক্ষমতাসীন লিবারেল নেতা জাস্টিন ট্রুডো, গ্রিন পার্টির নেতা এলিজাবেথ মে, এবং ব্লক কুইবেকুইস নেতা ইয়েভিস ফ্রাঙ্কোইসস ব্লানচেট এই বিক্ষোভে শামিল হন। এনডিপি নেতা জগমিত সিং ব্রিটিশ কলম্বিয়ার ভিক্টোরিয়া অঞ্চলের বিক্ষোভে যোগ দেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কানাডা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ