Inqilab Logo

বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ০২ ভাদ্র ১৪২৯, ১৮ মুহাররম ১৪৪৪

কাঁঠাল পাতা বিক্রির পয়সায় চলে সংসার

প্রকাশের সময় : ১৬ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

নজির হোসেন নজু, সৈয়দপুর (নীলফামারী) থেকে

নীলফামারীর সৈয়দপুরে কাঁঠাল পাতার বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। এই কাঁঠাল পাতা বিক্রি করে সংসার চলছে প্রায় ১৫ জন নারী-পুরুষের। বাঙালি-বিহারীর এই শহরে পাতার ব্যাপক চাহিদার কারণে জীবন-জীবিকা জড়িয়ে পড়েছে তাদের। ফলে বিকেল থেকে রাত অবধি কাঁঠাল পাতার আঁটি বিক্রির ব্যবসা জমে উঠেছে। শহরের ২নং রেল ঘুন্টি এলাকায় কাঁঠাল পাতা নিয়ে বসেন প্রায় ষাটোর্র্ধ্ব রেনু। বাড়ি নীলফামারীর ডোমার সীমান্ত এলাকা চিলাহাটিতে। স্বাধীনতার পর থেকে সৈয়দপুর শহরে কাঁঠালের পাতা বিক্রি করে চলেছেন। প্রতিদিন স্বামী গামাকে সাথে নিয়ে ট্রেনে করে পাতা নিয়ে আসেন সৈয়দপুরে। তারপর আঁটি বেঁধে বিক্রি করে শেষ ট্রেনে বাড়ি ফিরে যান। প্রতিদিন তার পাতা বিক্রি হয় প্রায় ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা। এই আয়ে বুড়ো-বুড়ি ও এক ছেলে নিয়ে সংসার ভালোই চলছে বলে জানালেন। একই জায়গায় কাঁঠালের পাতা নিয়ে বসেন রাবেয়া (৪৫)। প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে দিনাজপুরের পাকেরহাটের জমিদারপাড়ায় তার বাড়ি। দীর্ঘ পথ ভ্যান ও রিকশায় পাতা নিয়ে এসে এই শহরে বিক্রি করেন। তিনি জানান, এলাকায় প্রতিটি কাঁঠাল গাছ পাতার জন্য ৩শ’ থেকে ৯শ’ টাকায় কিনে থাকেন। পাতা কাটার জন্য মজুরী দিতে হয় ৩শ’ টাকা। পাতা আনার পর আঁটি করে ৫ ও ১০ টাকায় বিক্রি করে তার লাভ হয় ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকা। এই আয়ে তার অভাবের সংসার ভালোই চলছে বলে জানান। শহরের ১নং রেল ঘুন্টি এলাকায় নিয়মিত কাঁঠালের পাতা নিয়ে বসেন সৈয়দপুরের অফিসার্স কলোনীর রোকসানা (৬৫), মজিনা (৪৮), মুন্সিপাড়ার জান্নাতুন (৪৮), ফাতেমা বেগম (২৫) ও নতুন বাবুপাড়ার হাসান (২৪)। এরা কেউ ছিল ভবঘুরে। কেউবা বিপথে চলে গিয়েছিল। সংসারে অভাব-অনটনের কারণে দেখাদেখিতে এই উপার্জনের পথে এসেছেন। বিক্রি সবসময় থাকায় দিন চলে যাচ্ছে তাদের। কোরবানি বা উৎসবের সময় বাড়িতে বেশি খাসি-ছাগল আসলে বিক্রি বাট্টাও বাড়ে বলে জানায় তারা। এদের অনেকেই কাঁঠাল গাছের পাতা কেনার জন্য গাছের মালিককে অগ্রিম টাকাও দিয়েছেন। তারা দিনাজপুরের পার্বতীপুর, খানসামা, রংপুরের তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুরের বিভিন্ন গ্রাম এলাকা থেকে কাঁঠালের পাতা সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে আঁটি করে ৫, ১০ ও ২০ টাকায় বিক্রি করেন। এতে করে গড়ে প্রতিদিনই ৪শ’ থেকে সর্বোচ্চ ৭শ’ টাকা পর্যন্ত লাভ করেন তারা। উত্তরের ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র সৈয়দপুরে স্বাধীনতার পর থেকে বিহারীরা আস্তানা গড়ে তোলে। এরা সহজাত স্বভাবের কারণে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে রামছাগল বা খাসি পালনের প্রচলন রয়েছে। এ কারণে এসব লালন-পালনে কাঁঠালের পাতা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। দোকানদাররা দোকান বন্ধের পর এক বা দুই আঁটি কাঁঠালের পাতা নিয়ে বাড়ি ফিরেন। কাঁঠাল পাতার চাহিদার কারণে পাতার ব্যবসা জমে উঠেছে সৈয়দপুরে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কাঁঠাল পাতা বিক্রির পয়সায় চলে সংসার
আরও পড়ুন