Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১১ মাঘ ১৪২৭, ১১ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

পদ্মা সেতুতেই এক শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাড়বে

শেরেবাংলা নগরে অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল অথবা মেট্রোরেলের মতো মেগা প্রকল্পগুলো আমাদের স্বপ্ন, এগুলো এখন বাস্তবায়নের পথে। এগুলো যখন বাস্তবায়ন হয়ে যাবে তখন আমাদের প্রবৃদ্ধি আরো অনেক বেড়ে যাবে। শুধু পদ্মা সেতু থেকেই ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা আমাদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হুমকি বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যার জন্য দায়ী নয়, আমরা কার্বন নিঃসরণ করি না। ভারত, চীনসহ কয়েকটি দেশ কার্বন নিঃসরণ করে অথচ এর ভুক্তভোগী বাংলাদেশ। দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার কাজ করছে। জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে সরকার জোর দিচ্ছে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তারা বিশ্বাস করে, রোহিঙ্গাদের হোমল্যান্ড রাখাইন স্টেটেই তাদের চলে যেতে হবে। এ বিষয়ে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। সারা বিশ্বকে এক করে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরে যেতে ইইউ কাজ করবে।
গতকাল শেরেবাংলা নগরে অর্থমন্ত্রীর নিজ দফতরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত রেন্সজে তেরিংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাংলাদেশের অগ্রগতি অবহিত করে বলেন, বাংলাদেশ ক্রমাগতভাবে অর্থনৈতিক খাতে উন্নতি সাধন করেই চলেছে। চলতি অর্থবছরেই আমরা ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রত্যাশা করছি, যা ২০২৪ সাল নাগাদ দাঁড়াবে ১০ শতাংশ এবং সেটা অব্যাহত থাকবে। বিশ্বে যে কয়েকটি দেশের রপ্তানি আয় খুব দ্রুত বাড়ছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। এ ক্ষেত্রে অগ্রসরমাণ অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। সব মিলিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশ এখন ৪২তম বড় রপ্তানিকারক দেশ। অন্যদিকে আমদানিতে বাংলাদেশের অবস্থান ৩০তম। সুতরাং বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ অত্যন্ত সুন্দর এবং অপার সম্ভাবনার দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্রণোদনার সুযোগ গ্রহণের মাধ্যমে অধিক হারে মুনাফার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশে। দেশকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে জনমিতিক লভ্যাংশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ট’ সুযোগ বিদ্যমান। আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। চীন, ভারত এবং এশিয়ার অন্যান্য ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশ কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানে রয়েছে। ২০৩২ সালে পৃথিবীতে এক নম্বর দেশ হবে চীন, দুই নম্বর হবে আমেরিকা, তিন নম্বর হবে ইন্ডিয়া, চার নম্বর হবে জাপান এবং পাঁচ নম্বর হবে জার্মানি। চীন, ভারত ও জাপান এই তিনটি বৃহৎ অর্থনীতির দেশের মাঝে থাকবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দেশটিকে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বিদেশি বিনিয়োগ এবং গ্লোবাল আউটসোর্সিংয়ের একটি কেন্দ্রে পরিণত করেছে। সুতরাং কৌশলগত কারণেই বাংলাদেশকে এড়িয়ে বিশ্বের সার্বিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।
প্রকল্পে অপচয় হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের উদ্ধৃতি দিয়ে সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের বিচ্যুতি ও অপচয় কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে সরকার। পদ্মা সেতু, মাটির নিচের টানেল ও মেট্রোরেলের মতো বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতাও আমাদের ছিল না। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে এটা কম হয়। সীমার বাইরে না যায়। প্রধানমন্ত্রীও চেষ্টা করছেন এটা যেন সীমার বাইরে না যায়, সীমা অতিক্রম না করে। আর আস্তে আস্তে আমরা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করব। তখন প্রকল্পে অপচয় একেবারেই কমে আসবে। যত দিন যাবে ততই আমাদের অভিজ্ঞতা বাড়বে। আমাদের দেশীয় ঠিকাদাররাও তাদের কাজে শক্তিশালী হবে। যেখানে আমাদের সংশয় দেশীয় ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ করতে পারব না তখন বিদেশি ঠিকাদার দিয়ে কাজ করাচ্ছি। আমরা জাইকাকে দিয়ে কাজ করাচ্ছি, চায়নাকে দিয়ে কাজ করাচ্ছি, যেখানে সক্ষমতা নেই সেখানে। পাশাপাশি আমরা অভিজ্ঞতা অর্জন করছি।
এনবিআর ভবন নির্মাণ প্রকল্পের ঠিকাদার জি কে শামীম গ্রেফতার। ফলে এনবিআর ভবন নির্মাণে ঝুঁকি আছে কি? এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আজকে সে গ্রেফতার হয়েছে এতদিন কাজ হলো না কেন? মূল ঠিকাদার চলে গেলে আরো ঠিকাদার আসবে। একজনের জন্য কখনও পৃথিবী থেমে থাকবে না। বাংলাদেশও থেমে থাকবে না। কেন তিনি গ্রেফতার হলো আমি জানি না। এনবিআর আমার ভবন না। যখন তৈরি করে আমাকে হস্তান্তর করবে তখন আমার ভবন। এখন এনবিআর পিডাবিøউডি’র ভবন। কাজ কারো জন্য বন্ধ থাকবে না।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অর্থমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন