Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

বন্যা এবং ভাঙন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্কতা জারি

বন্যা মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে : এনামুল হক শামীম

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

বন্যা এবং ভাঙন পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশের সকল জেলায় সতর্কতা জারি করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। বন্যা এবং ভাঙন পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশের সকল জেলার প্রশাসক (ডিসি), উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলা পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সকলকে সর্বোচ্চ সতর্ক রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম ইনকিলাবকে বলেন, ভারতে বন্যার কারণে বাংলাদেশে নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। সেজন্য আমরা আগে থেকে সতর্ক ছিলাম এবং আছি। মানুষের যাতে ক্ষতি না হয় সেজন্য সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হলে তা মোকাবেলায় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

জানা গেছে, দীর্ঘ ১৬ বছর পর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমা ছাড়িয়েছে পদ্মার নদীর পানি। চরাঞ্চলে পানি ঢোকায় দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। একই অবস্থা রাজবাড়ীর নিচু এলাকায়। আশ্বিনের বন্যায় তলিয়েছে বসতভিটা। মাথা গোঁজার ঠাঁই যতটুকু আছে তাতেই গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ১০ হাজার পরিবারকে। একে ভারত থেকে আসা পানি, তার উপর গেল দুই দিনের বৃষ্টি, এই কষ্ট বাড়িয়েছে কয়েক গুণ। ১৫শ’ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে এ এলাকার মানুষ। ভারত ফারাক্কা বাঁধের সব ক’টি গেট খুলে দেয়ায় কারণে দেশের বিভিন্ন নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে বিপদসীমা অতিক্রম না করলেও ছুঁই ছুঁই করছে পদ্মার পানি। চরাঞ্চলে দুর্ভোগে অন্তত কয়েক হাজার পরিবার। বাঘা উপজেলার চরাঞ্চলে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ১১টি স্কুল। তবে পাবনা ও কুষ্টিয়ার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার উপরে বইছে পদ্মার পানি। নিজ দেশে বন্যা ঠেকাতে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি গেটই খুলে দিয়েছে ভারত। যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ভারত কর্তৃক ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেয়া এবং সেজন্য বন্যার আশঙ্কা রয়েছে এমন একটি সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে। প্রকৃত তথ্য হচ্ছে প্রতি বছরই জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ফারাক্কা বাঁধের গেটগুলো খোলা থাকে। এটি নিয়মিত ব্যবস্থাপনার অংশ। প্রকৃতপক্ষে গত কয়েকদিন ধরে গঙ্গা/পদ্মা অববাহিকার উভয়াংশে সৃষ্ট নিম্নচাপজনিত অতিবৃষ্টির ফলে নতুন করে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং উজানে ভারতের বিভিন্ন জেলায় ও ভাটিতে বাংলাদেশে বন্যার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হলে তা মোকাবেলায় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং জেলা উপজেলার সকল পর্যায়ের স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলা পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সকলকে সর্বোচ্চ সতর্ক রাখা হয়েছে। পদ্মা অববাহিকার জেলাগুলোসহ দেশের সকল জেলায় বন্যা বা ভাঙন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।

পদ্মার রাজশাহী পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার নিচ নিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাজশাহীতে পদ্মা নদীর বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। রাজশাহীতে দিনভর সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন খবর ছড়িয়েছে যে ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশে বন্যার কারণে দেশটি ফারাক্কার সব গেট খুলে দিয়েছে। এ জন্য রাজশাহীতে পদ্মায় পানি বাড়ছে। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, সাধারণত বাংলাদেশের পাঙ্খা পয়েন্টে ফারাক্কার পানি বৃদ্ধি পেলে ভরা মৌসুমে রাজশাহীতে প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যে সেই পানি চলে আসে। পাঙ্খা পয়েন্ট থেকে রাজশাহীর দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার।

ফারাক্কার গেট খুলে দেয়ার কারণে রাজশাহীতে পদ্মার পানি বাড়ছে কি না, সে ব্যাপারে গত সোমবার রাজশাহী পানি উন্নয়ন প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রতি বছরই জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ফারাক্কা বাঁধের গেটগুলো খোলা থাকে। এটি নিয়মিত ব্যবস্থাপনার একটি অংশ। প্রকৃতপক্ষে কয়েক দিন ধরে গঙ্গা ও পদ্মা অববাহিকায় নিম্নচাপজনিত অতিবৃষ্টির কারণে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে উজানে ভারতে বিভিন্ন জেলায় এবং ভাটিতে বাংলাদেশে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হলে তার জন্য সতর্ক ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। রাজশাহীতে গত রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পদ্মা নদীতে ১১ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মা নদী বিপদসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। আজ দুপুর ১২টায় ৪২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পানি বৃদ্ধির কারণে রাজশাহীর জেলার চরাঞ্চলের গ্রামগুলো পনিতে তলিয়ে গেছে। পবা, বাঘা ও গোদাগাড়ীতে ভাঙনও দেখা দিয়েছে।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, রাজশাহীতে গত আগস্ট মাসে পদ্মার পানি দ্বিতীয়বারের মতো বেড়েছিল। তখন রাজশাহীর দরগাপাড়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১৬ দশমিক ৭১ মিটার উঠেছিল। তারপর থেকে কমে যায়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ফের পানি বাড়া শুরু হয়েছে। ওই সময় পানি উচ্চতা ছিল ১৫ দশমিক ৩৯ মিটার। গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ২০ মিটার। তারপর ধীরে ধীরে পদ্মায় পানি বাড়তে থাকে। ২০১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল। তখন পানি ১৮ দশমিক ৭০ মিটার উচ্চতায় উঠেছিল। অর্থাৎ সে সময় পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বন্যা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ