Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৮ সফর ১৪৪১ হিজরী

স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধীনতা

ত্রয়োদশ কিস্তি

জাকারিয়া পলাশ | প্রকাশের সময় : ২ অক্টোবর, ২০১৯, ৩:০৩ পিএম | আপডেট : ৩:০৪ পিএম, ২ অক্টোবর, ২০১৯

শেখ আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় যে, তিনি পাকিস্তানের গুপ্তচরের সঙ্গে গোপনে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছেন যা রাজ্যের জন্য ক্ষতির কারণ। ভারতীয় ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহকে এই লেখকের প্রশ্ন ছিল, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীর পাকিস্তানে না গিয়ে সেক্যুলার ভারতে আসল। তারপরই ১৯৫৩ সালে শেখ আবদুল্লাহর গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সেই সেক্যুলার আস্থার পরাজয় হলো কি না? তিনি বলেছিলেন, ‘এটা সেক্যুলারিজমের পরাজয় না হলেও আইনের শাসনের পরাজয়। নেহরু জম্মু-কাশ্মীরে আইনের শাসন দিতে ব্যর্থ হয়েছেন’।

এভাবেই শেখ আবদুল্লাহ স্বায়ত্তশাসনের প্রলোভনে ভারতের প্রতি আস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু, সেই আস্থার অপমৃত্যু হয়। ন্যাশনাল কনফারেন্সসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কখনও দিল্লির পক্ষ থেকে যতটুকু ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তাতেই সন্তুষ্ট থেকেছে। কখনও আবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তবে, ঘাড় ফুলিয়ে দাবি করতে পারেনি যে আর থাকবো না তোমাদের সঙ্গে। যেসব রাজনৈতিক দল স্বায়ত্তশাসনের চুক্তির অংশীদার ছিল না তারা সেই সময়ে (১৯৪৭) ছিল অজনপ্রিয়। ক্রমে তারাই জনপ্রিয় হয়। জাতিসংঘসহনানা প্রতিষ্ঠান থেকে দেয়া প্রস্তাব ও মন্তব্যগুলো তাদের জন্য দালিলিক সুযোগ বৃদ্ধি করে। ১৯৪৮-৪৯ সালের জাতিসংঘের প্রস্তাবে লেখা হয়েছিল,
‘Accession of the state of Jammu and Kashmir to India or Pakistan will be decided through the democratic method of a free and impartial plebiscite’.
অর্থাৎ, সেখানে স্বাধীনতার কোনো সুযোগ ছিল না। কিন্তু, ১৯৫০-৫১ সালের প্রস্তাবে লেখা হয়, ‘The final disposition of the state’ যার মাধ্যমে সেলফ ডিটারমিনেশনের বা স্বাধীনতার সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়। (২) এভাবে ক্রমান্বয়ে স্বায়ত্তশাসনের দাবি ম্রিয়মাণ হয়ে আজাদির দাবি হয়ে ওঠে জনপ্রিয়। মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে ধ্বনিত হতে শুরু করে শ্লোগান-হাম কেয়া চাতেহে? আজাদি? হক হামারা, আজাদি/ছিনকে লেঙ্গে, আজাদি।

কাশ্মীরিরা ভারতবিরোধী কেন
একটা বিষয় প্রশ্ন আসতে পারে। শেখ আবদুল্লাহ মুসলিম নেতা হয়েও ভারতে যোগ দিতে রাজি হলেন কেন? প্রথমত, শেখ ছিলেন নেহরুর রাজনৈতিক বন্ধু। জিন্নাহর সঙ্গে ছিল তার আড়ি। কাশ্মীরকে তিনি আলাদা জাতিসত্তা মনে করতেন। মুসলমান সত্ত্বেও কাশ্মীরকে দ্বিজাতিতত্বের অধীন বলে তিনি স্বীকার করেননি। দ্বিতীয়ত, কাশ্মীরে মহারাজার শোষণের বিরুদ্ধে ১৯৩১ সালে গণআন্দোলন শুরু হয়। তার মাধ্যমেই শেখ নেতা হয়ে ওঠেন। শেখের রাজনৈতিক দল মুসলিম কনফারেন্স জমিদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের শাসনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। ১৯৩৭ সালে নেহরু, গান্ধীসহ বিভিন্ন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ হয় শেখের। তিনি উপলব্ধি করেন, মুসলিম কনফারেন্স নামে নেহরু-গান্ধীসহ ভারতীয় নেতাদের সমর্থন পাওয়া যাবে না। তিনি দলের কাউন্সিলে বিষয়টি তোলেন। ১৯৩৯ সালে দলের নাম বদলে রাখা হয় জেঅ্যান্ডকে ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি)। (৬) তখনও মুসলমানদের জন্য আলাদা ভূ-খন্ডের দাবিতে পাকিস্তান প্রস্তাবই (লাহোর) হয়নি। এনসি হওয়ার পর ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস সেই আন্দোলনে বরাবরই সমর্থন দিয়েছে। নেহরুসহ ভারতীয় নেতারা মহারাজার স্বৈরতন্ত্রের বিপরীতে গণতন্ত্রের দাবি করেছেন সবসময়। মহাজারার জমিদারির বিরুদ্ধে আন্দোলনের কারণে শেখ আবদুল্লাহ ও তার দল এনসি কাশ্মীরে জনপ্রিয় হয়। শেখ আবদুল্লাহ ছিলেন বাগ্মী। তিনি ছিলেন আলীগড়ের এমএ। দলে তার ছিল ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু, নাম পরিবর্তনের পরও সে অর্থে হিন্দুদের ব্যাপক সমর্থন পাননি শেখ আবদুল্লাহ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কাশ্মীর


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ